রাঙ্গাবালীতে ঢালাইয়ের সাড়ে ১২ ঘন্টায় ফেঁটে গেলো সড়ক, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, June 24, 2020

রাঙ্গাবালীতে ঢালাইয়ের সাড়ে ১২ ঘন্টায় ফেঁটে গেলো সড়ক, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

এম এ ইউসুফ আলী, রাঙ্গাবালী(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় সড়কের ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। পরদিন সকাল ৬টায় অর্থাৎ ১২ ঘন্টার ব্যাবধানে সড়কে অসংখ্য ফাটল ধরেছে! এ অবস্থা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলা বাজারের নবনির্মিত সড়কের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালামের যোগসাজশে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করে যেনতেন ভাবে কাজটি করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এদিকে, সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলা বাজার সংলগ্ন পাকা আরসিসি সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। কাজটি দেওয়া হয় পটুয়াখালীর মিম মনিভা বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত¡াধিকারী বাবুল বিশ্বাসের পক্ষে নূর আলম কাজটি করছেন। আরও জানা গেছে, সড়কটি ৪১৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ হবে। ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় সড়কের একাংশের ঢালাই দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সেই সড়কের জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট অসংখ্য ফাটল ধরেছে। সামান্য নখের আচরেও ঢালাই উঠে য়াচ্ছে । অথচ একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরসিসি যেকোন সড়ক নির্মাণকাজের ৩-৪ ঘন্টা পরই লোকজন চলাচল করতে পারে। সেখানে প্রায় ১২-১৩ ঘন্টা হয়ে গেলেও সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল।
এদিকে, সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বড়ইতলা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ঢালাই কাজের উপাদান মিশ্রণ তৈরির সময় মিক্সার মেশিনে সিলেটচান (লাল) বালুর পরিবর্তে সাদা বালু এবং ৬টি খোয়ার পরিবর্তে ৮টি খোয়া দেওয়া হয়। এবিষয়টি উপসহকারী প্রকৌশলীকে অবহিত করলে তিনি লোকজনের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঠিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ায় নির্মাণকাজে অনিয়ম হলেও তিনি তা প্রশ্রয় দিয়েছেন। তাই সড়কটি পুন:নির্মাণের দাবি জানান তারা।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বড়ইতলা বাজারের রেশাদ খলিফা, আল আমিন ও মানিক গাজী বলেন, ‘খুব নি¤œমানের সড়ক হয়েছে। তবুও তদারকির দায়িত্বরত ব্যক্তি চুপ ছিলেন। তাকে বলা সত্তে¡ও তিনি কর্ণপাত করেননি। বরংচো পটুয়াখালীর ছেলে বলে হুমকি ধামকি দিয়েছেন আমাদের। আমরা সড়কটি পুন:নির্মাণের দাবি জানাই।’ স্থানীয় বাসিন্দা ডিউক মল্লিক বলেন, ‘আব্দুস সালাম সাহেবকে (উপসহকারী প্রকৌশলী) সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি জানাই। তিনি তখন আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদাবাজি মামলাসহ দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একজন সরকারি কর্মচারীর এমন আচরণ সত্যি দুঃখজনক।’
ঠিকাদারের পক্ষে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী নূর আলম বলেন, ‘সড়কের কাজ মিস্ত্রীদের চুক্তিতে করাচ্ছি। মিস্ত্রীরা মালটা নরম করছে, শক্ত করলে এ ঝামেলা হতো না। আমি নিজে ডাকাডাকি করছি। আমি মেশিন বন্ধও করে দিয়েছিলাম।’ সড়ক তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি করি, আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে? যা মন চায়, তাই ব্যবহার করবে? আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছি, তবুও শোনে না।’
এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুল কবির বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি আমি দেখবো।’ উপসহকারী প্রকৌশলীর হুমকির বিষয়ে বলেন, ‘এটা তার কাছে জিজ্ঞেস করবেন। তিনি এটা করতে পারেন না।’

No comments:

Post a Comment

Pages