রামগঞ্জে করোনা যোদ্ধা এক মানবিক শিক্ষকের গল্প - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, June 15, 2020

রামগঞ্জে করোনা যোদ্ধা এক মানবিক শিক্ষকের গল্প

জাকির হোসেন সুমন: জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ স্বামী বিবেকানন্দের এই বাণী নানা সময়ে নানান মানুষের মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখেছি আমরা। তবে বিশাল এ পৃথিবীতে এই মানুষগুলোর সংখ্যা একেবারেই যৎসামান্য। তারপরও এই মানুষগুলি আছে বলেই আহাজারি পৃথিবীটা এখনও বাঁচার স্বপ্ন দেখে। হৃদয়হীনা দরিয়ায় ভালোবাসার মেলবন্ধন তৈরি করা এক শিক্ষকের গল্প বলব আজ। 
বলছি উপজেলার পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসেন এর কথা। 
করোনা কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলে লাশের গোসল, জানাজা ও দাফন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবার। প্রতিবেশীদের চাপের মধ্যে গৃহবন্দীও হয়েছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। লাশ নিয়ে দুর্বিষহ রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। লাশ দাফন না করানোর জন্যও হুশিয়ারি দেওয়া হয় মৃতের পরিবারকে। লাশ বহণের খাট নিয়েও শুরু হয় হয়রানি। এ অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলার পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ মানবিক সদস্য কাজ করছে ইসলামি ফাউন্ডেশনের রামগঞ্জ উপজেলা লাশ দাফন কমিটিতে। 
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত তারা করোনা কিংবা উপসর্গে মৃত মোট ১২জনের লাশ দাফন করেছে। এর মধ্যে উপজেলার শেফালীপাড়া এলাকার  তছলিম উদ্দিন, আশার কোটা এলাকার মমতাজ বেগম, নন্দন পুর এলাকার রহুল আমিন,বদর পুর এলাকার আবুল কাশেম, শ্রীরামপুর এলাকার জাহানারা বেগম, পশ্চিম শোশালিয়া এলাকার কোহিনূর বেগম ও নূরনবী, দরবেশপুর এলাকার শিশু সিফাত, জগৎপুরের সাহাব উদ্দিন, আউগানখীল এলাকার আবদুল হালীম পাটওয়ারী, পূর্ব শোশালীয়া এলাকার রইছা আক্তার, লামচরের নরুল হুদার দাফন কাজ সম্পুর্ন করে।
এব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা লাশ দাফন কমিটির সভাপতি, প.শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃসেলিম হোসেন বলেন,আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে মানুষ লাশ দাফন করতে পারছে না, অনেকে ভয়ে জানাজায় আসছেন না; আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। উপজেলার যেখানেই আমাদের খবর দেওয়া হবে, আমরা সেখানে গিয়েই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করে আসবো।
উপজেলার লাশ দাফন কমিটির সমন্বয়ক শামসুল ইসলাম বলেন, কারোনা কিংবা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে স্বজনরা কাছে আসে না। তাই ইসলামি ফাউন্ডেশনের লাশ দাফন কমিটির সদস্যরা শরিয়া মেনে সরকারি আইন অনুযায়ী  দাফনের দায়িত্ব নিয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Pages