সারাবছর যে সেবা দিল বিদেশ ট্যুরে তাকে ফেলে যাবার নীতিতে আমি চলিনা। আসিফ আকবর - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, June 28, 2020

সারাবছর যে সেবা দিল বিদেশ ট্যুরে তাকে ফেলে যাবার নীতিতে আমি চলিনা। আসিফ আকবর



পত্রিকার প্রোগ্রামে শিল্পীদের কোন পেমেন্ট হয়না, যন্ত্রশিল্পীরা যৎসামান্য সম্মানী পায়। পত্রিকা কখনো বলেনি পেমেন্ট করবোনা। সমস্যা হলো ঐ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক নিজেও একজন গীতিকার। ফ্রি’তে গান গাওয়াতে পারলে উনার রেপুটেশন ভাল হয়, এতে দোষের কিছু নেই। সব পত্রিকায় বছরব্যাপী অনুষ্ঠান হয়না, শুধু প্রথম আলোই এ ধরনের ইভেন্ট বেশী করতো। আমি মতি ভাইকে বললাম আর্টিষ্ট পেমেন্ট করা উচিত, তিনিও সানন্দে রাজী হয়ে গেলেন। একবার চিটাগং ফয়’স লেকে প্রোগ্রাম, অন্য শিল্পীর সাথেও বাজাতে হবে আমার মিউজিশিয়ানদের। আমি বললাম এটা হবেনা, অন্যদের সাথেও বাজাবে তবে আলাদা একটা পেমেন্ট করতে হবে। প্রথম আলো সেই পেমেন্টও করেছে। আমি পজিটিভলি এ্যাপ্রোচ করেছি তাই এখানে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ হয়েছে। শিল্পী যদি ভয় পেয়ে মনে করে তার ছবি ছাপলেই যথেষ্ট, টাকার দরকার নেই সেটা অন্য কথা। শিল্পীর ছবি ছাপা হোক ভাল কথা, তবে যন্ত্রশিল্পীদের পাওনাটা বুঝিয়ে দেয়াটা হচ্ছে কর্তব্য। অন্যান্য পত্রিকা সারা বছর আমাদের নিউজ করে, তাদের একটা বাৎসরিক প্রোগ্রামে সৌজন্য দুটো গান গেয়ে দেয়া যেতেই পারে।

দীর্ঘ বিশবছর দেখছি নামকরা তারকারা যন্ত্রী ছাড়াই বিদেশ চলে যান। কখনো সিডি ট্র্যাক বা ল্যাপটপ হয় সঙ্গী। ল্যাংটা স্টেজে গান গেয়ে দর্শকদের ধন্য করেন। আমি শুরু থেকেই এটার ঘোর বিরোধী। প্রমোটর মিউজিশিয়ান না নিতে চাইলে আমিও যাইনা, অথচ এক বান্ডেল নানান পদের আর্টিস্ট নিয়ে যায়। যন্ত্রীদের ব্যাপারে গলা শুকানোর এই কালচারটা যারা তৈরী করেছেন তারাও ভাল নেই। সারাবছর যে সেবা দিল বিদেশ ট্যুরে তাকে ফেলে যাবার নীতিতে আমি চলিনা, এজন্য দেশের বাইরে আমার শো হাতে গোনা। এখন ইউরোপ আমেরিকা কানাডায় মাইগ্রেট করা প্রচুর আবাসিক শিল্পী আছেন যারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। দেশ থেকে অনেকে গিয়েও ওখানকার যন্ত্রীদের সাথে গাইছেন। বিদেশে গিয়ে দেশের যন্ত্রীদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ঘুম পাড়িয়ে রাখছেন। দেশে ফিরে খুচরা গিফট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলবেন- ওখানে তোদের অনেক মিস করেছি রে !! আবারো শো আসলে চলে যান তাদের ফেলে, এই হচ্ছে অবস্থা। আবাসিক শিল্পী সুবিধার কারনে আমি দেশে বসে শুধু ফেসবুকে লাইক দিচ্ছি।

গান গাওয়ার সময় গীতিকার সুরকারের নাম বলা শিল্পীদের অবশ্য কর্তব্য। আমাদের এই চর্চা নেই বললেই চলে। এ নিয়ে কিছু গীতিকার খুব সরব। তবে কোন ব্যান্ড পারফর্ম করার সময় উনাদের নাম একদম না নিলেও কবি এক্ষেত্রে নীরব। ব্যান্ডের জন্য আলাদা আইন তাদের। এভাবে দেশে গীতিকার সুরকার মিজিশিয়ান শিল্পীরা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড সংস্কৃতি চালু করে নিজেদের পাতা ফাঁদে পড়েছে। যে শিল্পী আর প্রযোজক ব্রেক দিলো তাদের নামগন্ধই নেয়না কিছু অকৃতজ্ঞ স্রষ্টা উপাধিধারী গীতিকার সুরকার। এখন সেই স্রষ্টা তার কথিত সন্তানতুল্য সৃষ্টি এককালীন টাকায় ষাট বছরের জন্য বেঁচে দিচ্ছেন। আমি বহু অফেন্সিভ কথা বলি, আজকের এই পরিস্থিতির জন্য অনেক সিনিয়রের ভূমিকা নিয়ে আমারও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তিতে কথা বলেছি, বেয়াদবী করিনি। একজন নব্য বেগম সুলতানার অনুগত কিছু ছানাপোনার বেয়াদবীর দৌরাত্ম্যে সিনিয়ররা মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছেন না। আমি উনাদের ফোন ধরে একজন জুনিয়র হিসেবে লজ্জ্বা পাচ্ছি। কজন কিংবদন্তী সুরকার গীতিকার এবং মরহুম শিল্পীর সন্তান আমার কাছে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন সিনিয়র হিসাবে অবদান যেহেতু নাই সেক্ষেত্রে উনাদের গানও যেন এ প্রজন্মের শিল্পীরা না গায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সঙ্গীতের এমন পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে দ্রুত টক শো হওয়া উচিত। এখনই সময় সবকিছু পরিষ্কার করে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা। সময় চলে গেলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবেনা। প্লীজ কেউ শত্রু শত্রু খেলা খেলবেন না। আমি ইন্ডাষ্ট্রীর একজন সফল সৈনিক - প্রশিক্ষনের প্রথমেই জেনেছি যে কোন শত্রুকে বধ করা সম্ভব ...

ভালবাসা অবিরাম...

No comments:

Post a Comment

Pages