ব্যর্থতা সফলতার মন্ত্র শিখিয়ে দেয় || নুর আহমেদ সিদ্দিকী - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, June 12, 2020

ব্যর্থতা সফলতার মন্ত্র শিখিয়ে দেয় || নুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনি কি ব্যর্থতার কারণে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন? হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হয়ওনা।জীবন সংসারে সফলতা আর ব্যর্থতা আসবেই।তাই বলে, খেই হারিয়ে অমানিশার অাঁধারে হারিয়ে যেতে নেই।রাতের ঘোর অন্ধকারের পর সকালে পূর্ব গগনে উদিত হয় রক্তিম সূর্য।এই জন্যে চায় অসীম সাহস,পর্বত সম দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য।ব্যর্থতার পরও যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সফলতা তার পদচুম্বন  করবে।সততার সাথে কাজে লেগে থাকুন। আজ না হয় কাল,কাল না হয় পরশু সফলতা আসবেই।সফলতার জন্য চায় বিপদেও কঠিন মনোবল।ব্যর্থতায় ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। ব্যর্থতার কারণ উদঘাটন করে ফের কাজে মনোযোগী হওয়াই বুদ্ধি মানের কাজ।

সফলতার জন্য আপনাকে হতে হবে পরিশ্রমী,অধ্যবসায়ী,মিতব্যয়ী, অাত্ববিশ্বাসী ও কঠিন মনোবলের অধিকারী।কাজ করতে হবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে।ছাড়তে হবে অলসতা,চাটুকারিতা, পর চর্চা,পর নিন্দা এবং অপচয়ের মত বদা অভ্যাস গুলোকে।কাজে মনোযোগী, পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী হতে পারলে সফলতা আপনারর হাতের মুঠোয়। আমরা বইয়ে সফলতার গল্প পড়ি,বিশ্বাস করি কিন্তু নিজেরা হাল ছেড়ে দিয়ে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হই।সর্বপ্রথম নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস থাকা চায়।কোন কাজ পারবোনা বলে ঘাবড়ে গেলে চলবেনা।ইনশাঅাল্লাহ আমি পারব,আমাকে পারতেই হবে,অসম্ভব বলতে কিছুই নেই।সফলতা মানে বিশাল রাজপ্রসাদের মালিক,গাড়ি -বাড়ি অর্থ--বিত্তের মালিক হওয়া নয়।সফলতা মানে হলো নিজের কাজ নিজের মত করে করতে পারা এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকতে পারা।

ছোট বেলায় পড়া কবিতা তো সবারই মনে আছে।কিন্তু সেই কবিতা থেকে আদৌ কি কোন শিক্ষা অর্জন করেছেন?
"পারিবনা একথাটি বলিওনা আর
একবার না পারিলে দেখ শতবার"
এই কবিতার শেষে বলা হয়েছে,
হাঁটিতে শিখেনা কেহ না খেয়ে অাছাড়
জলে না নামিলে কে শিখেনা সাঁতার।
শৈশবে হাঁটতে গিয়ে অাছাড় খাইনি এমন লোক আছে বলে মনে হয়না।হাজারো কষ্ট সহ্য করে হাঁটতে শিখে প্রতিটি শিশু।সাঁতার শিখতে গেলে পানিতে ডুবে মরার ভয় থাকে তবুও আমরা বিপদ থেকে বাঁচতে জলে নেমেই সাঁতার শিখি।আপন লক্ষ্যে অটুট থেকে অাল্লাহর উপর ভরসা করে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজে লেগে থাকলে সফলতা আসতে বিলম্ব হবেনা। কষ্ট বিনে সুখ ও সফলতা অাশা করা বোকামী।রংধনুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বৃষ্টিকে হাসিমুখে বরণ করতে হবে।

মানুষ যদি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের শেষ্টা করে তাহলে আল্লাহ তার পথকে সুগম করে দেন।মান যাদ্দা ওয়াজাদা।যে যা পেতে চেষ্টা করে সে তা পেয়ে যায়।এর জন্য প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস।নিরন্তন সাধনা,কঠোর পরিশ্রমের বলেই মানুষ সফল হতে পারে।মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়।বয়স মানুষকে অমর করতে পারে না।একমাত্র সৎ কর্মই মানুষকে নশ্বর পৃথিবীতে অমর করে রাখে।মানুষ কাজের জন্যে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে।অতীতে অনেক রাজা বাদশা ছিল যাদের মৃত্যুর পর লোকে তাদের ভুলে গেছে।কিন্তু অনেকে সাধারণ হয়েও অসাধারণ হয়ে আছে তাদের সৃষ্ট সৎ কর্মে।আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অর্থাভাবে রুটির দোকানে কাজ করেছে।ছিল না গাড়ি বাড়ি ও সুরম্য প্রাসাদের মালিক।কিন্তু তাঁর কর্ম তাকে করেছে অমর ও অক্ষয়।কথায় আছে,কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।বার চেষ্টা করে যান,দেখবেন সফলতা অামবস্যায় চাঁদ নয়।সফলতা সেচ্চায় আপনাকে ধরা দিবে।

আপনাদের কি ইংল্যান্ডের রবার্ট ব্রুসের গল্পটি মনে আছে? তিনি  শত্রু দেশের সাথে ছয় বার যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছিলেন।মনের দুঃখে ও ক্ষোভে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।অাশ্রয় নেন পাহাড়ের গুহায়।সেই গুহায় তিনি একটি মাঁকড়সাকে দেখতে পান যেটি জাল বেয়ে বার বার উপরে উঠার চেষ্টা করছে।তিনি খেয়াল করলেন, মাঁকড়সাটি সপ্তম বারে জাল বেয়ে উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছে।এই দৃশ্যটি রাজাকে অনুপ্রাণিত করে।মনে মনে,চিন্তা করে, একটি ক্ষুদ্র প্রাণী যদি বার বার চেষ্টা করে সপ্তম বারে জয়ী হয় তাহলে তিনি কেন পারবে না?তিনি তার দেশে ফিরে গেলেন।নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে শত্রু দেশকে ফের অাক্রমণ করেন।সপ্তম বারে তিনি জয়ী হন।লোকে বলে,যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ অাশ।অর্থাৎ যতক্ষণ শ্বাস আছে ততক্ষণ আশা থাকা চায়।পৃথিবীতে মানুষ আশা ও ভালোবাসার ফলে বেঁচে থাকে।আপনি কতবার ব্যর্থ হয়েছেন? দুই,তিন বা পাঁচবার?আবার কি ঘুরে দাঁড়ানো যায়না? মনোবল শক্ত করুন।ভরসা রাখুন অাল্লাহর উপর।ইনশাঅাল্লাহ অাপনি সফল হবেন।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages