তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন? - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, June 13, 2020

তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন?

বাবা,শিক্ষক, মুরব্বি ভালো হলে তার অানুগত্য করা মানুষের কর্তব্য।তাই বলে নীতি,নৈতিকতা,আদর্শ বিসর্জন দেওয়ার পরও তাকে মেনে চলা অানুগত্য নয় বরং মানসিক দাসত্ব।পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে এই মানসিক দাসত্ব চলে আসছে।সত্যের সাথে মিথ্যের, ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের,জীবনের সাথে জীবিকার লড়াই যেমন শ্বাশত ঠিক  তেমনি
সত্যের জয়ও নিশ্চিত।যারা সত্যান্বেষী ও সত্যের পুঁজারি তারা মানসিক দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি থাকেনা।সত্যের খুঁজে পাড়ি দেয় সাত সমুদ্র তেরো নদী।জ্ঞানীদের ক্ষেত্রে মানসিক দাসত্ব মোটেও কাম্য নয়।শিক্ষক,পিতা মাতা ও গুরুজন অন্যায় করেছে জেনেও যারা মানসিক দাসত্বকে মেনে নিয়েছে তারা গঠন আর কাঠামো কেন্দ্রীক মানুষ হলেও তাদের সাথে পশুর মধ্যে তেমন পার্থক্য নাই।চতুষ্পদী জানোয়ারের চারটি পা, আর মানুষের দুটি পা।এইটুকু পার্থক্য। 

অন্যজন দাসত্বের শিখলে বন্দি বলে আমি কেন তার মত হতে যাব? সে অধম বলে আমার কেন উত্তম হতে নেই? সে অধম বলে আমি উত্তম হবোনা এমন ধারণা অমূলক।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানসিক দাসত্ব আর দলান্ধতা চরম অাকার ধারণ করেছে।দীনের ইলম বুকে ধারণ করেও তাগুতি শক্তির তাঁবেদারি ও চাটুকারিতায় লিপ্ত। অথচ তারা নিজেদের  পূর্ব যুগের আপোষহীন মনীষীদের যোগ্য উত্তরসুরী দাবি করে।তাদের দাবি আর বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।পূর্বাকার যুগের অালেম ওলামা ও যুগবিখ্যাত মনীষীরা তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম করেছে।সেসব মনীষীদের কাছে রাজা বাদশারা শির নত করেছে কুরঅানী শক্তির ভয়ে।অথচ আজ দীনের ইলম বুকে ধারণ করে  তাগুতি শক্তির হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বুক ফুলিয়ে বলছি আমরা নায়েবে রাসূল।কিসের নায়েবে রাসূল? যদি তাগুতের গোলামীর জিঞ্জির ভাঙ্গতে না পারো,যদি মানসিক দাসত্বের শিখল ছিড়ে সত্যে রাজপথে মজলুমের কাঁধে কাঁধ মিলাতে না পারো তাহলে দীনের ইলমের দাম রইল কোথায়?

যে বুক কোরআন ধারণ করেছে সে বুকে  মানসিক দাসত্ব,তাগুতের তাঁবেদারি ঠাঁই পাওয়ার কথা নয়।পার্থিব নগদ প্রাপ্তির প্রত্যাশায় নিজেদের অাত্মপরিয় যারা ভুলে যায় তারা কিভাবে নিজেদের নায়েবে রাসূল দাবি করে?যারা হক্কানি অালেম তারা মুরব্বি পুঁজা করতে পারেনা।তিনি অধম বলে অামি উত্তম হবোনা এমন ধারণা ইসলামের সাথে সাংঘর্সিক। যারা নিজেদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভুলে গিয়ে জালিমের গোলামীর জিঞ্জির ভেঙ্গেছে তারা অমর ও অক্ষয়।মীর জাফর আর নবাব সিরাজদৌল্লাহ দুটি নাম হলেও মীর জাফর নামটি গালি হিসেবে ব্যবহার হয়।নবাব সিরাজদৌল্লাহ নামটি মানুষ গর্বের সাথে উচ্চারণ করে।এটাই সত্যের প্রভেদ।২০১৩ সালে হাটহাজারি মাদরাসার ওলামা সম্মেলনে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম ( চরমোনাইর পীর) বলেছিল,আমরা তাদের( তাগুতি শক্তি) কাছে যাবো না বরং তারাই আমাদের কাছে আসবে।সেদিন অনেকেই তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিল।অথচ আজ তারাই তাগুতির শক্তির কাঁধে হাত রেখে চলছে।কওমী চেতনা তথা কাসেমী চেতনার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিয়ে তাগুতি শক্তির সহায়তা পার্থিব ক্ষমতার গদি দখলের ন্যায় দীনি প্রতিষ্টান দখলের নির্লজ্জ চেষ্টায় মেতে উঠেছে।কতটা অধঃপতন হলে কোরআন বুকে নিয়ে তাগুতের গোলামী করে তা সহজে অনুমেয়।মানুষ তাকওয়া দেখে নায়েবে রাসূল বলে ভক্তি করতো,শ্রদ্ধা করতো।তাদের কথায় ঝাঁপিয়ে পড়তো জালিম ও তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে।বর্তমানে  বড় জুব্বা পরিহিতরা জুব্বায় নায়েবে রাসূল লিখে দিয়েছে।চেনা বড় দায় কে নায়েবে রাসূল আর কে তাগুতির শক্তি ও তাদের এজেন্ড।অাসুন তাদের জুবাবা খুলে পরখ করি তাগুত না নায়েবে রাসূল।

লেখকঃনুর অাহমেদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages