চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙন হুমকিতে দেওয়ানগঞ্জ বাজার - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, May 23, 2020

চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙন হুমকিতে দেওয়ানগঞ্জ বাজার

মোঃ ইমরান হোসেন (আপন)  চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

কড়ালগ্রাসী যমুনার ভাঙন তান্ডবলীলায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনায় পাল্লা দিয়ে চলছে নদী ভাঙন। বিশেষ করে উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র নদী ভাঙনে যমুনায় প্রথম যোয়ারেই মিটুয়ানি কবরস্থান পাকা সড়ক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই ভাঙ্গনরোধে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪টি হাট বাজার,তাঁতীপাড়া,পাকা সড়ক ও ২টি ব্রীজ,আবাদী জমি এবং বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হবার আশংঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভাঙ্গন হুমকিতে দেওয়ানগঞ্জ বাজার, মিটুয়ারি হাইস্কুল বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতভিটে। নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দোকান ও বাড়িঘর সরেজমিন।
জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কমতেও ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চৌহালী উপজেলার রেহাই পুখুরিয়া নতুন পাড়া, খাষপুখুরিয়া মিটুয়ানি এলাকায় নদী ভাঙন চলছে। প্রতিনিয়তই নদীর পেটে যাচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট,কাচা-পাকা সড়ক,ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙ্গন কবলিত খাষপুখুরিয়া ইউপির শতবছরের পুরাতন মিটুয়ানি কবরস্থান যমুনার হিংস্রত আছড়ে ভেঙ্গে গেছে। পাকা সড়ক ভেঙ্গে গেলে বাজারসহ দক্ষিণ এলাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবে দাবি ভুক্তভোগিদের। এর আগে দক্ষিণ খাষপুখুরিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, শুকুর মোল্লা, বাদশা মিয়া, হাবিবুর রহমান ও সকিনা খাতুনের বাড়িসহ, মসজিদ ও দু’টি মুদিখানা দোকান নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এলাকা জুড়েও চলছে যমুনা ভয়াবহ ভাঙনের তান্ডবলীলা। এর কারনে মারাক্তক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নদীর পুর্ব অঞ্চল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙ্গনরোধে কোন উদ্যোগ না দেখে স্থানীয় বাঘুটিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রামবাসির সমন্বয়ে মিটুয়ানি দেওয়ানগঞ্জ বাজারে এক আলোচনা সভাও করেন। তারা ভাঙ্গনরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার উদ্যোগ নিলেও কাজ করা সম্বাব হয়নি। খাষপুকুরিয়া  বি এম স্কুলের সহকারি শিক্ষক আবু দাউদ সরকার জানান, যমুনার রাক্ষুসী থাবার কাছে হার মেনে অসহায় মানুষ গুলো নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে অসময়ে। এ বিভিষীকাময় পরিস্থিতিতে কান্নার রোলে যমুনা পাড়ের আকাশ বাতাস ভারি নজর নেই কর্তৃপক্ষের। 
বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দিকী বলেন, যমুনা নদীর এতো ভয়ংকার দৃশ্য মনে হলে শরীর শিইরে উঠে। নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কমতেও  নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে পাকা সড়ক,কবরস্থানসহ বসতি। খাষপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, হুমকিতে রয়েছে তাঁতীপাড়া,কয়েকটি সপ্রাবিসহ হাট-বাজার, বসতবাড়ি ও আবাদী জমি। এখানে ভাঙ্গছে নদী কাদছে মানুষ তাই সরকারের কাছে খাষপুকুরিয়া মিটুয়ানি এলাকায় দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাই। চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদ  ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বলে তিনি জানান।
এলাকার ভুক্তভোগিরা বলেন  শিক্ষা অঙ্গন বাঁচলে পাঠদান বাঁচবে,তাতীপাড়া বাঁচলে বাড়ী থাকবে, বাড়ি বাচলে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাবে,সড়ক থাকলে গাড়ি চলবে, জমি থাকলে খাদ্য আসবে। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই না ভাঙ্গন রোধ চাই,আমরা বাঁচতে চাই,আমরা বাঁচলে সরকারের শতভাগ শিক্ষা ও উন্নয়ন হবে এমনটি প্রত্যাশা চৌহালী বাসির। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধে কোন উদ্যোগ নজরে নেই বলে তারা বলেন।

No comments:

Post a Comment

Pages