কোভিড-১৯ এর কারণে যে পাসপোর্ট এখন করতে হবে! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, May 16, 2020

কোভিড-১৯ এর কারণে যে পাসপোর্ট এখন করতে হবে!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, যত যা-ই করা হোক না কেন, করোনা ভাইরাস যাওয়ার নয়। একে নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে। পৃথিবীতে এইচআইভি ভাইরাস যেভাবে থেকে গেছে ঠিক সেভাবে করোনাভাইরাস থেকে যাবে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে who।

গতকাল গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর এই কথা বলার দিন সাতেক আগে ইতালিয়ান গবেষক পাসকুয়ালে মারিও বাক্কো ও তার ১৩ সদস্যের গবেষক দল বলেছিলেন, মানব শরীরে ঢোকার পর কোভিড-১৯  এ পর্যন্ত অনেকবার অনেক দেশে তাদের স্পাইকের প্রোটিন এবং আরএনএ মলিকুল দিয়ে বানানো চেহারাটি বদলে ফেলেছে, যাকে বলা হয় মিউটেশন করেছে। 

এইচআইভি ভাইরাসের কারণে এইডস হয়। সেই ভাইরাসটিও বার বার মিউটেশন করে, তাই এখন পর্যন্ত এইডসের ভ্যাকসিন বানানো সম্ভব হয়নি। তাই অনেকের মতে এই ঘনঘন মিউটেশনের কারণে করোনার ভ্যাকসিনও আবিষ্কার করা শেষতক সম্ভব নাও হতে পারে। 

অন্যদিকে একটি পারফেক্ট ভ্যাকসিন তৈরি করতে এতদিনের ইতিহাস অনুযায়ী কমপক্ষে আট থেকে দশ বছর সময় লাগার কথা। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশ সেটি বারো থেকে আঠারো মাসে শেষ করতে চাচ্ছে। আজকে প্রেডিডেন্ট ট্রাম্প নতুন ভাবে তার টাস্ক ফোর্স বর্ধিত করেছেন, সবার আগে একটি ভ্যাকসিন বের বা সংগ্রহ করার জন্যে। 

একদিকে করোনার ঘন ঘন মিউটেশন আর অন্যদিকে সংক্ষিপ্ত সময়ে ভ্যাকসিন বের করার তাড়া বিজ্ঞানীদেরও ভীষণ চাপের উপর রেখেছে। Who এবং ইতালীর গবেষকদের সন্দেহ অনুযায়ী যদি এইচআইভির মতো করোনার ভ্যাকসিন বের না হয় তখন মানব জাতির সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে।

(১)  করোনা ভাইরাসের সাথেই সাথেই চলা,ভাইরাস থাকবে আমরাও থাকবো। এইচআইভিকে নিয়ে পৃথিবীর মানুষ যেভাবে বেঁচে আছে করোনা নিয়েও সেভাবেই বাঁচবে মানুষ; যতদিন না করোনা নিজে নিজে মিউটেশন করে আত্মহত্যা না করে স্প্যানিশ ফ্লুর মতো।

তবে যে কদিন করোনাকে নিয়ে পথ চলতে হবে সেই দিনগুলি হবে অত্যন্ত কঠিন। যতদিন করোনা থাকবে ততদিন সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স, মাস্ক পরিধান অব্যাহত রাখতে হবে। পৃথিবীর যাবতীয় গন জমায়েত বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবহন ব্যবস্থায় পুরো পরিবর্তন আনতে হবে। কাওরান বাজারের ভিড়ের বদলে মানুষ অনলাইনে বাজার করবে বেশি। ভাইরাস বাহক তাই হস্তান্তর যোগ্য টাকা পয়সা উঠে যাবে। টাকা হবে হয়তো শুধু ডিজিটাল। 

বেশি ধনীদের ডিজিটাল টাকা বাসায় বা মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা যাবেনা। কার ব্যাঙ্কে কতো মাল আছে তা প্রকাশিত হয়ে যাবে। কমিশন, ঘুষ, স্পিডমানি উপরি দেয়ার ডিজিটাল প্রমান থেকে যাবে। মাদক বেচাকেনা কঠিন হয়ে পড়বে। ক্যাসিনো, ক্লাব, খেলাধুলা কিভাবে হবে তার পথ খুঁজতে হবে। বিবাহ- সাদী, প্রেম, বন্ধুত্ব, শারীরিক সম্পর্কের স্টাইল ও সংজ্ঞা বদলে যাবে। 

"চল বাইরে খেয়ে আসি" কথাটি ইতিহাস হয়ে সবাই বাসায় খাবার অর্ডার করবে। গরম গরম হাজী বিরিয়ানি আর গরম রসগোল্লা খাওয়া হবেনা। 

সবচেয়ে বড় চেঞ্জ আসবে প্রবাসীদের ব্যাপারে। পুরানো প্রবাসীরা দেশে ফেরত আসবে। নতুন যারা প্রবাসী হবে তাদের পাসপোর্টে ছবির পাশে করোনা এন্টিবডি আছে বলে ইম্যুইনিটি সিল থাকবে। 

আদম ব্যবসায়ীদের বিজ্ঞাপন বদলে যাবে। "আমরা সরোয়ার ওভারসিজ, বিশ্বস্ততার সাথে সুলভে ইম্যুইনিটি পাসপোর্ট প্রসেস করে থাকি" --এই জাতীয় বিজ্ঞাপন দেখবো মাই টিভিতে।

একটুও মজা করছিনা। আজকে ইংল্যান্ডে ইম্যুইনিটি পাসপোর্টধারী মানুষদের খুঁজছে ব্রিটিশ সরকার। যারা করোনায় উপসর্গ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছিলেন নিজের অজান্তে, তাদের শরীরে করোনার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এত বেশি যে তাদের রক্তের প্লাজমা দিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করা যায়। ব্রিটেন এমন ব্যক্তিদের নাম দিয়েছে ইম্যুইনিটি পাসপোর্ট এর মালিক। 

ভালো খবর হলো who এই ইম্যুইনিটি পাসপোর্ট আইডিয়াটি পছন্দ করেছে এবং এই বিষয়ের অনুমোদনও দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। https://www.who.int/news-room/commentaries/detail/immunity-passports-in-the-context-of-covid-19

ব্রিটেন ছাড়াও করোনাভাইরাস রুখতে অনেক দেশই ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’-এর সন্ধানে নাগরিকদের অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে শুরু করে দিয়েছে। 

বাংলাদেশের অকার্যকর লক ডাউনের কারণে নিজের অজান্তে রোগাক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবেনা। ব্রিটেন সুইস রোশ কোম্পানির রেপিড এন্টিবডি টেস্ট ব্যবহার করে ইমিউন পাসপোর্টের মানুষ খুঁজতে শুরু করেছে। আমরাও "গণস্বাস্থ্য" জাতীয় টেস্ট করে তাদের আগেই কয়েক লক্ষ ইমিউন পাসপোর্ট বাহিনী খুঁজে পেতে পারি। 

সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশ হতে পারে পৃথিবীর একনম্বর করোনা এন্টিবডি প্লাজমা রপ্তানিকারক দেশ। গার্মেন্টস আর জনশক্তি বাণিজ্যের উপরে প্লাজমা রপ্তানী হয়ে যেতে পারে আমাদের বৈদেশিক ইনকাম ও রিজার্ভ সোর্স। এমন কিউট দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি!!

এজন্যে ঈদের মার্কেটে আরো বেশি ঘোরাঘুরি করলে, আরো বেশি জনসমাগম হলে আমাদের এন্টিবডি সম্পদ আরো বাড়বে। নিজের জানকে যখন আমাদের মূল্যবান মনে হয়না, বাজার করাই যখন জীবনের মূলমন্ত্র হয়, 'থাকবোনা আর বদ্ধ ঘরে' যখন সবার প্রতিজ্ঞা, তখন আর কি উপায় গোলাম হোসেন? 

আসুন এই ঈদে বেশি বেশি ঘোরাঘুরি করি, বেশি বেশি আক্রান্ত হই, তারপর যারা বাঁচি তারা ইম্যুইনিটি পাসপোর্ট হাতে নিয়ে প্লাজমা রপ্তানি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াই। সবাই কোন না কোন ভাবে দেশের অথবা নিজের খেদমত করছে। আমরাও করতে পারি। আমরা দেশের জন্য যখন রক্ত দেয়ার সুযোগ পাইনি তখন রক্তের পানি দিয়ে (প্লাজমা) দেশের খেদমত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। দেশের জন্য এটিও কম ত্যাগের কথা নয়।

(২) আর যদি উপরের বর্ণিত পরিকল্পনা সার্থক না হয় তাহলে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর মতো সারা পৃথিবীর মানুষের তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার থাকবেনা। আকাশ কিন্তু ইতালীকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সঙ্গে তাদের সৎ সহায়তার মনোভাব ছিলো বলে। তাই কোভিড মুক্ত হবার সাথে সাথে তারা তাদের ছয় লাখ অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

আকাশের প্রভু সব ভালো মানুষের সাথে, ভালো জাতির সাথে থাকেন। কোভিড-১৯ তাঁর একটি কঠিন পরীক্ষার নাম মাত্র।

লেখকঃ ডাক্তার আরিফুল হক।
ভাষান্তর গাজী আল মামুন।

No comments:

Post a Comment

Pages