করোনা থেকে মুক্তি পেতে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন: প্রধানমন্ত্রী - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, May 10, 2020

করোনা থেকে মুক্তি পেতে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন: প্রধানমন্ত্রী

 ডেস্কঃ করোনা থেকে মুক্তি পেতে রোজার মাসে আল্লাহর কাছে বেশি করে দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেহেতু রমজান মাস, তাই, সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কোছে বেশি করে দোয়া করুন। যাতে এই পরিস্থিতির থেকে পরিত্রাণ পাই, এই কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে মানবজাতি মুক্তি পেতে পারে।

আজ রোববার (১০ মে) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার পক্ষে এসব অনুদান গ্রহণ করেন মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তার কার্যালয়ের (পিএমও) সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সবাইকে সেটা মেনে চলতে হবে। মেনে চলতে পারলেই সুরক্ষিত থাকা যাবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নিজেকে সুরক্ষিত রাখা, কোনও বড় জায়গায় একসঙ্গে না হওয়া– এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। সংক্রমিত না হওয়ার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তাও ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভয় পেয়ে অনেকের করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ নিয়ে খেদ প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, পরিবারের কোনও সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দূরছাই করা বা দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাপক ধান উৎপাদন হয়েছে, খাদ্যের কোনো অভাব নেই এবং সরকার ব্যাপকভাবে ত্রাণ বিতরণও করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে যেমন ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে তেমনি দলীয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যে যেমনভাবে পারছে অপরকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বিরাট একটা আন্তরিকতা, সকলেই সকলের তরে সকলকে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

তিনি পুনরায় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারো এতটুকু জমিও যেন খালি পড়ে না থাকে, যে যা পারেন তাই উৎপাদন করবেন। যাতে আগামীতে কখনও খাবারের কোনো অভাব না হয়। কোনো ধরনের দুর্ভিক্ষ যাতে বাংলাদেশে আসতে না পারে বরং প্রয়োজনে যেন আমরা অন্যকে সহযোগিতা করতে পারি।

এক জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের বোরো ধান ঘরে তোলার পর সেই জমিতে আর কি কি ফসল উৎপাদন করা যায় তা খতিয়ে দেখার জন্য কৃষিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি।

টেলভিশনের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের সংসদ টিভির মাধ্যমে শিক্ষার যে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ক্লাসগুলো যে প্রচার করা হচ্ছে তাতে কিছুটা হলেও ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার দিকে মনযোগী থাকতে পারছে। কারণ, ঘরে বসে থেকে থেকে এই ছোট্ট শিশুরা কি করবে, তাদের কষ্টটাই সবথেকে বেশি। কারণ, শহরে যারা বাস করে তাদের জন্য এই অবস্থাটা সত্যিই বেশ কষ্টকর, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্র-ছাত্রীদের বলবো যে, এই ক্লাসগুলো মনযোগ দিয়ে শোনা দরকার। যারা মনযোগ দিয়ে শুনবে তাঁরা তাঁদের সিলেবাস সম্পর্কে জানতে পারবে, শিখতে পারবে।

তিনি তাঁর ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং বক্তি বিশেষের প্রতি কৃতজ্ঞতাপ্রকাশ করে বলেন, আপনারা যে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তাঁকে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দেব।

দেশকে তার সরকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, যে যাত্রাকে করোনাভাইরাস অনেকাংশে ব্যাহত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই, আমাদের থেমে থাকলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে। কারণ, তিনি চেয়েছিলেন এই দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে গড় তুলবেন। আমরা দারিদ্র মুক্তির অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সফলতাও এনেছিলাম এবং আশা ছিল খুব শিগরিই বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মুজিব বর্ষ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২০২০ থেকে ২০২১ এর মধ্যেই বাংলাদেশ দারিদ্র মুক্ত হবে। তবে, করোনাভাইরাসের কারণে সেখানে একটা বিরাট ধাক্কা লেগেছে। অবশ্য আমি আশা করি এই বাধা দূর করেই আগামীতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর বিশ্বব্যাপী যে সমস্যা সেটিও দূর হবে।

No comments:

Post a Comment

Pages