খুলনা মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবের টেকনোলজিস্ট চার মাস বেতন পায়না - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, May 7, 2020

খুলনা মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবের টেকনোলজিস্ট চার মাস বেতন পায়না

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলাজি বিভাগের মালিকুলার ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য স্থাপিত পিসিআর মেশিন পরিচালনার জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি করেছিলো কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে খুমেক-এর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তিনজন শিক্ষকের সাথে ৫ জন ল্যাবটেকনোলজিস্ট ছিলেন। কিন্তু অতীতে পিসিআর মেশিন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মাত্র ল্যাব টেকনোলোজিস্ট ছাড়া এখন কেউই ল্যাবের ভিতরে প্রবেশ করেন না। খুলনা বিভাগের প্রায় সব জেলা থেকে আসা নমুনা তাকে এক হাতেই পরীক্ষা করতে হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ল্যাবেই কাজ করে যাচ্ছেন করোনা যুদ্ধে খুলনা বিভাগের সম্মুখ সারির এই যোদ্ধা। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করা এই ল্যাব টেকনোলোজিস্ট গত ফেব্রুয়ারীতে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন বেতন পাননি। একদিকে বাসা ভাড়া দিতে না পেরে বাড়িওয়ালার চোখ রাঙানি অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনপাত করছেন এই ল্যাব টেকনোলজিস্ট মোঃ সেলিমুজ্জামান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেলিমুজ্জামান ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসাবে ডিপ্লোমা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি বিভাগ থেকে বিএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এমএসসি করেছেন। সারাদেশে হাতে গোনা যে কয়টি স্থানে পিসিআর মেশিন পরিচালনা করা হয় সবার কাছে পরিচিত মুখ সেলিমুজ্জামান। পিসিআর মেশিন পরিচালনায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ সেলিমুজ্জামান ভারতেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আইইডিসিআর এ পিসিআর মেশিন পরিচালনা করেছেন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন প্রজেক্টে পিসিআর মেশিন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রকল্পে কাজ করেছেন। 
সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য সরকার ঢাকার বাইরে ল্যাব স্থাপন করায় সেলিমুজ্জামান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় চাকুরি ছেড়ে দিয়ে যোগ দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইচআইভি প্রকল্পে পিসিআর মেশিন পরিচালনার কাজে। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ল্যাব টেকনোলোজিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন ফেব্রুয়ারী মাসে। নিজের মত করে সাজিয়ে নিয়েছেন খুমেকের করোনা পরীক্ষার ল্যাব। প্রতিদিন গড়ে ৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করেছেন একহাতে কোন সাহায্য ছাড়াই। ইতোমধ্যে গত ৭ এপ্রিল থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত একমাসে খুমেক পিসিআর মেশিনে মোট ২৭৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন ৯২টির বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে।
অথচ সেলিমুজ্জামান গত চার মাস ধরে কোন বেতন পান না। পরিবার নিয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন, সেই বাসার ভাড়াও দিতে পারেননি ২ মাসের বেশি। বেতন না পাওয়ায় এখন ঠিকমত সংসার চলছে না। অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এরপরও তিনি একদিনের জন্য ল্যাবে আসা বন্ধ দেননি। বন্ধ থাকেনি খুমেকের করোনা পরীক্ষা। 
সেলিমুজ্জামান-এর সাথে কথা বলে জানা যায়, চারমাস ধরে তিনি বেতন পান না। খুব সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ল্যাবেই অবস্থান করতে হয়। অর্থাভাবে এখন ঠিকমত খেতেও পারছেন না। বাসা ভাড়াও বকেয়া পড়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং খুলনার করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সমন্বয়কারী ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ এ প্রতিবেদককে বলেন, মোঃ সেলিমুজ্জামান আমাদের পিসিআর মেশিন পরিচালনায় একমাত্র অভিজ্ঞ ল্যাবটেকনোলজিস্ট। সে চার মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমি এটি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের সাথেও কথা বলেছি। অতি সত্বর তাকে একটা নির্ধারিত সম্মানি ভাতাসহ যাতায়াত বাবদ অর্থ প্রদান করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া যেহেতু সেলিমুজ্জামান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত। ফলে এ ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন মহলে কথা বলে অতি শিগগিরই তার বেতন ও অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Pages