কবি নজরুল ইসলাম দেশ,মানবতা ও স্বাধীনতার বন্ধু ছিলেন || নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||আমার খবর - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, May 25, 2020

কবি নজরুল ইসলাম দেশ,মানবতা ও স্বাধীনতার বন্ধু ছিলেন || নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||আমার খবর

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্মবার্ষিকী। নীরবে নিভৃতে চলে গেল আজকের দিনটি।অথচ বাংলাদেশে জাতীয় কবি হিসেবে বাংলা একাডেমি এবং বামপন্থীদের মাঝে কোন আগ্রহ দেখলাম না।মিডিয়াও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তেমন কোন আয়োজন করেনি।অথচ রবীন্দ্রনাথ আমাদের জাতীয় কবি না হওয়া স্বত্ত্বেও তার জন্মবার্ষিকী আর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপিত হয় দেশব্যাপি।মিডিয়াও সরব হয়ে উঠে।এক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামকে অবহেলা,অবজ্ঞা করা হচ্ছে। কাজী নজরুল , ইসলাম,দেশ,মানবতা ও স্বাধীনতার বন্ধু ছিলেন।তাই তো তিনি ১৯১৭ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেন।ব্রিটিশদের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিপ্লবীর ভুমিকায়।একের পর এক ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কবিতা লেখার কারণে কবি নজরুল ইসলাম কে কারাগারে বন্দি করে নির্যাতন করেন ব্রিটিশ সরকার।
এদেশের বামপন্থীরা রবিন্দ্রনাথ কে যেভাবে প্রমোট করে সেভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রমোট করেনা।তারা কাজী নজরুলকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করে।স্বাধীনতা পরবর্তী  জাতীয় কবির লেখা গান জাতীয় সংগীত না হয়ে রবিন্দ্রনাথের গান জাতীয় সংগীত হয়ে যায়।সুকৌশলে রবিন্দ্রনাথের গানকে জাতীয় সংগীত করা হয়েছে।অথচ রবিন্দ্রনাথের আমার সোনার বাংলা গানটি ১৯০৫ সালে বঙ্গবঙ্গ রদ এর সময় পশ্চিম বাংলাকে ভালোবেসে লেখা গান।এই গান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা হয়নি।তা স্বত্ত্বেও আমরা সেই সংগীতকে জাতীয় সংগীত  বলে মেনে নিয়েছি।রবিন্দ্রনাথ কে অতি গুরুত্ব আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে অবহেলা করা দেশের সংবিধান বিরোধী।

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর।সাথে সাথে আজ কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী। আজ কবির  ইসলামী সংগীত " ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ " সংগীতটি বেশ মনে পড়ছে।আজ সত্যিই কবির জন্মদিন এবং ঈদ দুটাই খুশির।কিন্তু বাংলাদেশের একচোখা হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া বরাবরই কাজী নজরুল ইসলামকে অবহেলা করছে।বামপন্থী, মুক্তমনা,সুশী সমাজ,আর নাস্তিকরা আজ নীরব।আজ যদি রবিন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী হত তাহলে মিডিয়ার সাথে এসব হোমড়া ছোমড়াদের হৈ চৈ শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যেত।অথচ তারা যেন ইঁদুর গর্তে।এরা সাম্প্রাদায়িক যারা স্লোগান দেয় অসম্প্রদায়িক চেতনার।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯সাণে ২৫ মে বাংলা ১৩০৬ সনের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিম বাংলার বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।কবির পিতার নাম ফরিদ আহমদ এবং মায়ের নাম জাহেদা খাতুন।পরপর কয়েকটি পুত্র সন্তান মারা যাবার পর কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম হওয়ায় পিতা মাতা তাঁর নাম রাখেন" দুখু মিয়া।সত্যিকার অর্থে কাজী নজরুলের জীবন ছিল দুঃখে ভরপুর।গ্রাম্য মক্তব থেকে নজরুল ইসলাম নিম্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।ছোট বেলায় তিনি লেটো গানরর দলে যোগ দেন।চৌদ্ধ বছর বয়সে রাণীগঞ্জ সেয়ারসোল রাজ হাইস্কুলে ভর্তি হন।দশ শ্রেণি পর্যন্ত এখানে লেখা পড়া করেন।তবে,এক বছর তিনি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানাধীন দরিরামপুর হাইস্কুলে লেখাপড়া করেন।

দুঃখের মধ্য দিয়ে এক বিচিত্র পরিবেশে বাল্য এবং কৈশোর জীবন অতিবাহিত হয়।আসানসোল রুটির দোকানে সামান্য পাঁচ টাকার মাইনের চাকরি থেকে লেটোর দলের কবিয়ার হিসেবে যোগদান করা পর্যন্ত কবিে জীবনের যে বৈচিত্র্য তা বাংলার আর কোন কবি - সাহিত্যিকদের জীবনে দেখা যায়নি।দারিদ্র্যের দুঃসহ জ্বালায় কালাতিপাত করে কবি নজরুল ইসলাম নিপীড়িত মানবতার জয়গান গেয়েছেন।নির্যাতিত,অবহেলিত  ও অত্যাচারিত মানুষের জন্য শক্তিশালী লেখনীর মধ্য দিয়ে অসহায় এবং মূকমানবতা যেন ভাষা খুঁজে পেয়েছিল।বাংলাদেশের জনগনের নিকট নজরুল ইসলাম' বিদ্রোহী 'কবি নামে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন।সর্বপ্রকার অন্যায়,অত্যাচার,শোষণ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার।তিনি সাম্যের জয়গান গেয়েছেন বার বার।কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই সর্বহারার চারণ কবি নির্যাতিতদের দরদী কবি,মানবতার কবি।

আরব সাগর তীরবর্তী করাচির সেনানিবাসে অবস্থানকালে তাঁর প্রথম লেখা" বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী" কলকাতার বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য " পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।অাশ্চর্যের বিষয় যে, বাংলা সাহিত্যে তিনি প্রথমে যদিও  একজন স্বার্থক গদ্য লেখক হিসেবে অাত্মপ্রকাশ করেন,তথাপি কলকাতার",মোসলেম ভারত" পত্রিকায় তাঁর বিখ্যাত ও অালোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতা" বিদ্রোহী " প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কবি খ্যাতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ইসলামী কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জাগরণী বাণী কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় প্রথম সার্থকভাবে ফুটে ওঠেছে।তিনি অাত্মবিস্তৃত মুসলিম জাতিকে জাগাবার জন্যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।কবি সকল প্রকার সংকীর্ণ  সাম্প্রাদায়িকতার একনিষ্ঠ বিরোধী ছিলেন।একদিকে তিনি উদাত্ত কণ্ঠে ইসলামী সংগীত গেয়েছেন,অন্যদিকে বাঙালি হিন্দুদের শ্যামা সংগীত গাইতেও দ্বিধা করেননি।অথচ রবিন্দ্রনাথ নিজেকে অসাম্প্রাদায়িক  পরিচয় দিতে ইসলামী সংগীত। কাজী নজরুল ইসলাম উদার চিত্তে হিন্দু মুসলিমের মাঝে প্রভেদ সৃষ্টি করেনি।সংগীত রচনা ও বিচিত্র সুর সংযোজনে তিনা বিস্ময়কর প্রতিভার অম্লান স্বাক্ষর রেখে গেছেন।তাঁর রচিত গানের সংখ্যা চার হাজারেরও অধিক।

কাজী নজরুল ইসলাম ৭৭ বছর হায়াত পেলেও তিনি সাহিত্য সাধনায় সময় পেয়েছেন মূলত বিশ বা বাইশ বছর।১৯৪২ সালে মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি বাকশক্তি হারান।তিনি যদি পুরো হায়াতে সাহিত্য সাধনা করতে পারতেন তাহলে রবিন্দ্রনাথ কে ছাড়িয়ে যেতেন।রবিন্দ্রনাথ একশত বছর বেঁচেছিল।তিনি ১৫বছর বয়স থেকে সাহিত্য সাধনা শুরু করেন।১৫ বছর বয়সে ররবীন্দ্রনাথের বনফুল কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।সে হিসেবে রবিন্দ্রনাথ প্রায় ৮৫ বছর সাহিত্য সাধনার সুযোগ পেয়েছিল।অথচ কাজী নজরুল ইসলাম বিশ / বাইশ বছরে যে সাহিত্য আমাদের উপহার দিয়েছে তা রবিন্দ্রনাথের অর্ধেকেরও চেয়ে বেশি তথা রবিন্দ্রনাথের ৭০% বলা যায়।কাজী নজরুল তাঁর সাহিত্যি নোভেল পুরস্কার পেত যদি তিনি রবিন্দ্রনাথের মত ব্রিটিশদের পক্ষাবলম্বন করতেন।কাজী নজরুল ইসলাম চির বিপ্লবী।তাই তিনি নিজ মাতৃভূমির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।অল্প সময়ের মধ্যে  কাজী নজরুল সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যান।তিনি ছিলেন একাধারে ,কবি,ঔপন্যাসিক,গল্পকান
,নাট্যকার,প্রাবন্ধিক, সংগীত রচয়িতা  এবং সুরকার।কবি, 'ধূমকেতু  ও লাঙ্গল পত্রিকা 'সম্পাদন করেন।তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে অাতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।যারা জাতীয় কবি নজরুল কে অবহেলা করেন তারা,দেশবিরোধী,দেশের স্বাধীনত্ ও সার্বভৌমত্বের বিরোধী ও সাম্প্রাদায়িক হিন্দুত্ববাদের এজেন্ড।প্রিয় জন্মবার্ষিকীতে কবির জন্য মহান অাল্লাহর কাছে ফরিয়াদ তাঁর যেন জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দেন।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages