খুলনায় রোববার থেকে দুই ধাপে মোট তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, May 28, 2020

খুলনায় রোববার থেকে দুই ধাপে মোট তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিদিনঃ স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনা মেনে খুলনা থেকে ট্রেন ছাড়বে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুই ধাপে মোট তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল শুরু হচ্ছে আগামী রোববার (৩১ মে) থেকে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কোন রুটে কয়টি ট্রেন চলবে তার রোডম্যাপ তৈরি করেছে রেল বিভাগ। এক সিটে যাত্রী ও এক সিট খালি— এই নিয়মে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুটি গ্রুপে ভাগ করে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

খুলনা রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম জানান, প্রথম ধাপে ‘ক’ গ্রুপে ঢাকা-খুলনা রুটে চিত্রা এক্সপ্রেস ৩১ মে থেকে পরিচালনা করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ‘খ’ গ্রুপে খুলনা-চিলাহাটি রুটে রূপসা এক্সপ্রেস ও খুলনা-রাজশাহী রুটে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো ৩ জুন থেকে পরিচালনা করতে সুপারিশ করা হয়েছে। ট্রেন চলাচলের জন্য ২৪ দফা নিদের্শনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

নিদের্শনা গুলো হলো-১. স্টেশনগুলোতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সংরক্ষণ। ২. জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়ন। ৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্র স্থাপন। ৪. প্রতিটি ইউনিটের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ৫. রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ৬. রেলকর্মীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অবস্থা নথিভুক্ত করা। ৭. অসুস্থতা অনুভবকারীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া। ৮. তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের সরঞ্জাম স্টেশনগুলোর প্রবেশপথে স্থাপন করা। ৯. স্টেশনে আগত সবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা।১০. যেসব যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকবে তাদের ওই এলাকায় অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ১১. ট্রেনে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি। ১২. সেন্ট্রাল এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মাত্রায় চালানো এবং বিশুদ্ধ বাতাস চলাচল বৃদ্ধি করা। সব এয়ার সিস্টেমের ফিরতি বাতাস বন্ধ রাখতে হবে। ১৩. জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ১৪. টয়লেটগুলোতে তরল সাবান থাকতে হবে। সম্ভব হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং হাত জীবাণুনাশক যন্ত্র স্থাপন করা যেতে পারে। ১৫. যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্য ট্রেন কম্পার্টমেন্ট ও অন্যান্য এলাকা যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ১৬. প্রতিটি ট্রেন যাত্রা শুরুর আগে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সিট কভারগুলোকে প্রতিনিয়ত ধোয়া, পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে।১৭. প্রতিটি ট্রেনে হাতে-ধরা থার্মোমিটার থাকতে হবে। যথাযথ স্থানে একটি জরুরি এলাকা স্থাপন করতে হবে। যেখানে সন্দেহজনক উপসর্গ আছে এমন যাত্রীদের অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনে রাখা যাবে। ১৮. যাত্রীদের অনলাইনে টিকিট ক্রয় করার জন্য পরামর্শ দিতে হবে। ১৯. সারিবদ্ধভাবে ওঠানামার সময়ে যাত্রীদের পরস্পর থেকে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। ২০. যাত্রী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে। মাস্ক পরতে হবে এবং হাতের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখতে হবে। ২১. প্রত্যেক যাত্রী এবং রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ও নাক টিস্যু বা কনুই দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। ২২. পোস্টার ও ইলেকট্রনিক স্ক্রিনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য জ্ঞান পরিবেশন জোরদার করতে হবে। ২৩. মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত করা ট্রেনে টিকিটের মাধ্যমে যাত্রী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও যথাসম্ভব যাত্রীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করতে হবে। ২৪. যদি করোনা রোগী পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে টার্মিনালগুলোকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন অনুযায়ী জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রেলস্টেশনে যাত্রীরা অপেক্ষা করবে। স্টেশনগুলোর প্লাটফর্মে নির্ধা‌রিত দাগে দাঁড়িয়ে থাকার পর যাত্রীরা ট্রেনে চড়তে পারবেন। প্রতিটি কোচে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে গত গত ২৫ মার্চ থেকে সব রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Pages