নেতা, নেতৃত্ব ও নেতার গুণাবলি সমূহ - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, May 1, 2020

নেতা, নেতৃত্ব ও নেতার গুণাবলি সমূহ

নেতৃত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ Leadership  এবং নেতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Leader.
Leadership শব্দটি এসেছে ইংরেজি Lead  থেকে যার অর্থ হলো চালনা করা,পথ দেখানো এবং নির্দেশ প্রদান করা।সুতরাং যিনি নির্দেশ প্রদান করেন, সামনে থেকে সব কিছু পরিচালনা করেন তাঁকে নেতা ( Leader)  বলে।

নেতৃত্ব বিষয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রচিন্তাবিদ গণের অভিমতঃ
এইচ.ও. ডানেল এর মতে " সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগনকে সহযোগী হতর প্ররোচিত ও উদ্যোগঅ করার কাজকেই নেতৃত্ব বলা হয়।
#এলভিন ডব্লিউ গুল্ডনার এর মতে,"নেতৃত্ব ব্যক্তি বা দলের সেই নৈতিক গুণাবলি যা অন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বিশেষ দিকে ধাবিত করে"
#কিম্বল ইয়ং এর মতে," নেতৃত্ব হলো ব্যক্তির সেই গুণাবলি যার মাধ্যমে সে অন্যের কর্মধারা প্রভাবিত করে এবং অন্য সবার উপর অাধিপত্য বিস্তার করে।( Leadership  is but one from of dominance  in which the followers more or less willingly accept direction and control by another.). 
#সি. আই.বার্নার্ড এর মতে," নেতৃত্ব হলো ব্যক্তিমন্ডলীয় এমন গুণাবলির সমষ্টি যার মাধ্যমে তারা সংগঠিত কর্মোদ্যোগে জনগণের অথবা তাদের কার্যক্রমের দিক- নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন।(Leadership refers to the quality of the behaviour of the individuals whereby they guide people or their activities in organized effort.)

 #নেতৃত্বের প্রকারভেদঃ নেতৃত্ব প্রধানত চার প্রকার
১) বিশেষজ্ঞ সুলভ নেতৃত্ব
২)রাজনৈতিক নেতৃত্ব
৩) সম্মোহনী নেতৃত্ব
৪) প্রশাসনিক নেতৃত্ব

#নেতৃত্বের গুণাবলি

১) ব্যক্তিত্বঃ নেতাকে ব্যক্তিত্বের গুণে একক ও অননৌ ভাবমূর্তির অধিকারী হতে হয়।তাকে হতে হয় গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।চরিত্রে মাধুর্য,নমনীয়তা,তেজস্বিতা প্রভৃতি গুণ নেতাকে ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে তুলে।ব্যক্তিত্ব একজন মানুষকে নেতৃত্বের পদে অাসীন হতে সাহায্য করে।নেতাকে এই জন্যে অাকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হয়।
২) বুদ্ধিমত্তা ঃ বুদ্ধিমত্তা নেতৃত্বেে অাবশ্যকীয় গুণ।নেতার বোধ শক্তি হবে তীক্ষ্ম। সমাস্যা সমাধানে বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে নেতা জনগণের নিকট নিজেকে সম্মান ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেন।নির্বোধ বা বুদ্ধিহীন মানুষ ভালো নেতা হতে পারেনা।
৩) মানসিক ও দৈহিক সুস্থতাঃনেতাকে সুস্থ দেহ ও মনের অধিকারী হতে হয়।সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে তার পক্ষে জটিল দায়িত্ব পালনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করা সম্ভব নয়।সুস্থ মনের জন্য চাই সুস্থ দেহ।কেননা সুস্থ দেহে সুস্থ মন বিরাজ করে।নেতা কতটা কর্মদক্ষ ও কষ্টসহিষ্ণু হবেন তা অনেকটা নির্ভর করে তার মানসিক ও দৈহিক সুস্থতার উপর।
৪) অভিজ্ঞতাঃ নেতাকে অভিজ্ঞ হতে হয়।কেননা নেতার সাফল্য অসাফল্যের ওপর গোটা জাতি বা দেশের সাফল্য- অসাফল্য  নির্ভর করে।যে নেতা যে বিষয়ে নেতৃত্ব প্রধান করেন,তাকে সে বিষয়ে অভিজ্ঞতার অধিকারী হতে হয়।
৫) শিক্ষা ঃ নেতা হবেন নিজস্ব বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও বিশেষ প্রজ্ঞার অধিকারী।অশিক্ষিত ব্যক্তি সাধারণত ভালো নেতা হতে পারে না।জাতীয় এবং অান্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে,রাজনীতির তত্ত্বেগত এবং প্রায়োগিক দিক সম্পর্কেও রাজনৈতিক নেতার পড়াশোনা থাকতে হবে।জ্ঞান আহরণের জন্য থাকবে নেতার গভীর আগ্রহ।

৬) দূরদৃষ্টি ঃ জটিল সমাস্যা সমূহ সমাধানের জন্য প্রয়োজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের। নেতাকে অতীতের অালোকে বর্তমানের মূল্যায়ন করতে হবে এবং ভবিষ্যত করণীয় স্থির করতে হবে।দূরদর্শী নেতার অভাবে জাতি হয় বিভ্রান্ত।আর জাতীয় জীবনে নেমে আসে হতাশার কালোমেঘ। 
৭) চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতাঃ নেতার চরিত্র হবে একদিকে কোমল,অপরদিকে প্রয়োজনবোধে কঠোর।চরিত্রের কোমলতা নেতাকে যেমন জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাভক্তি অর্জনে সাহায্য করবে,তেমনি চরিত্রর কঠোরতা ও দৃঢ়তা নেতার প্রতি জনগণের অানুগত্য, শ্রদ্ধা,ভয়  ও শৃঙ্খলাবোধকে জাগিয়ে তুলবে।
৮)বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতাঃ নেতা যেমন একদিকে হবেন বাগ্মী, তেমনি অন্যদিকে তিনি হবেন ধৈর্য্যশীল শ্রোতা।বক্তব্যগুণে তিনি যেমন সবার মন জয় করবেন,দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন ঠিক তেমনি ধৈর্যসহকারে দলীয় কর্মী,সদস্য এবং জনগণের সমাস্যা ও বক্তব্য শুনবেন,জানবেন এবয় সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করবেন।
৯) নিরপেক্ষতা ঃ জাতি ধর্মবর্ণ, নারী,পুরুষ,ধনী নির্ধন নির্বিশেষে সকলের বক্তব্যই নেতা শুনবেন এবং সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।নেতা হবেন নিরপেক্ষ মনের অধিকারী।
১০)ন্যায়নীতিপরায়ণঃ নেতা হবেন ন্যায়নীতিপরায়ণ।নীতির প্রশ্নে,আদর্শের প্রশ্নে,ন্যায়ের প্রশ্নে তিনা হবেন অটল ও অনড়।নেতা হবেন ন্যায় ও নম্রতার প্রতীক।
১১) উদারতা নেতার অন্যতম গুণ।নেতার অন্তর উদার হবে।নেতা হবেন উদার ও বিশাল হৃদয়ের অধিকারী।নেতাকে ক্ষুদ্র  ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলী  দিয়ে জনতার স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।সংকীর্ণতা,দীনতা,পপরশ্রীকাতরতা, স্বার্থপরতা ও হীনমন্যতা নেতার মনে ও চিন্তায় ঠাঁই পাবে না।
১২) দায়িত্ববোধ ঃ নেতা হবেন দায়িত্ববোধ সম্পন্ন।কেননা দায়িত্ব ব্যতিত নেতৃত্ব অচল।নেতা তার কৃতকর্মের দায়কে সর্বদাই কাধে নিতে প্রস্তুত থাকবেন।
১৩) কথা ও কাজের মিলঃ নেতার কথায় ও কাজে মিল থাকবে। যোগ্য নেতা জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রতান করে না বা জনগণের সাথে প্রতারণা করে না।
১৪) আত্মসংযমঃনেতাকে আত্মসংযমী হতে হবে।নেতা হবেন সহনশীল ও পরমতসহিষ্ণু। শাসক নেতার পরম গুণ হলো শান্ত থাকা
১৫) স্বার্থহীনতাঃনেতা হবেন স্বার্থহীন মানসিকতার।অর্থবিত্তের প্রতি থাকবে না কোন মোহ।
১৬) সত্য ও সুন্দরের পূজারীঃ নেতা হবেন সত্য ও সুন্দরের পূজারী।নেতা হবেন সৎ ও সত্যবাদী।
১৭) অধ্যাবসায়ীঃ নেতা হবেন অধ্যবসায়ী। কারণ অধ্যবসায় ছাড়া সফলতা অসম্ভব।
১৮) পরিশ্রমীঃ একজন যোগ্য নেতা সদা পরিশ্রমী হয়। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন পরিশ্রমই সফলতার বা সৌভাগ্যের প্রসূতি।

উপরোক্ত গুণাবলি গুলো গতানুগতিক রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে নেই বললেই চলে।তবে অাশার কথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে উপরোক্ত প্রায় গুণই বিদ্যমান।দলীয় প্রধান মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাইর মাঝে উপরে উল্লেখিত সব গুণ বিদ্যমান।তাঁকে অবশ্য যোগ্য নেতা বলা যায়।দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম একজন দক্ষ নেতা সেটা বিনা দ্বিধায় বলা যায়।কিন্তু তৃণমূল নেতাদের উল্লেখিত সব গুণ পাওয়া যায়।যখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল নেতার মাঝে এসব গুণের সন্নিবেশ ঘটবে তখন দলটিকে সফল ও যোগ্য দল বলে বিবেচনা করবে জনগণ।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages