শব্দের খেলা নাকি লেখকের জাদু ||মতামত ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, May 31, 2020

শব্দের খেলা নাকি লেখকের জাদু ||মতামত ||amarkhobor24.com

যারা ভালো লেখক তাদের কলমে জাদু থাকে।মুহুর্তেই মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে।শব্দের সাথে শব্দ গেঁথে তারা রচনা করে গল্প,প্রবন্ধ, উপন্যাস,নাটক, কবিতা। আমরা পাশাপাশি কিছু শব্দ দেখতে পাই কিন্তু দেখতে পাই না প্রতিটি শব্দে লুকায়িত আছে রস।সে রস সাহিত্যের রস।এই রস সবার কাছে ধরা দেয়না।যারা সাহিত্য রসের সন্ধানে দিনাতিপাত করে তারাই সেই রস অাস্বাদন করতে পারে।মানুষের সাধ- স্বাদ তাদের শব্দ ফুটে উঠে দারুণভাবে।নিকষ কালো অন্ধকার কে কবি সাহিত্যিক আর লেখরা শব্দের অালোতে সুনিপুণভাবে অালোকিত করে।নিস্তেজ প্রাণে শব্দে শব্দে প্রাণ সঞ্চার করে।সেই শব্দে হাসি, কান্না,বেদনা,কামনা,বাসনা,তৃপ্তি,দীপ্তি, রাগ,অভিমান,দ্বেষ,হিংসা  ক্লেশ,ভালোবাসা, আবেগ,অনুভূতির প্রকাশ পায়।

শিল্পী যেমন রঙ তুলি দিয়ে হৃদয়ের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়, ঠিক তেমনি কবি সাহিত্যিকরা শব্দে সাথে শব্দ মিলিয়ে রচনা করে কাব্য,মহাকাব্য।মানুষের সুখ দুঃখ,জীবন যৌবনের কথা তাদের রচনায় স্থান পায়।শব্দ দিয়ে তারা মানুষকে যেমন কাঁদাতে পারে,তেমনি পারে হাসাতেও।একটি একটি করে ইটের গাঁথুনির মাধ্যমে গড়ে উঠে সুন্দর,মনজুড়ানো  প্রাসাদ ঠিক, তেমনি একটি একটি করে শব্দের গাঁথুনির মধ্য দিয়ে রচিত হয় কবিতা,গল্প,উপন্যাস,নাটক আর সত্যিকারের ইতিহাস।এই শব্দ মানুষের দুঃখে শান্তনা দিতে পারে,পারে কান্নার মাঝে হাসাতেও।এই শব্দ যারা গাঁথতে পারে তারা জগতের সবচেয়ে বড় শিল্পী।তাদের শিল্পকর্ম মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শিখায়।রাগ করলে হাসতে শিখায়, ভালোবাসতে শিখায়।

গতকাল থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ে ছোটগল্পের বই পড়ছি।বইটিতে মোট ২৫ টি গল্প আছে।দুই দিনে দুটি পড়েছি।লেখকের শব্দের গাঁথুনি বেশ মজবুত।প্রতিটি শব্দ কথা বলে। শব্দ গুলো কখনো হাসে দাঁত দেখিয়ে,কখনো মুখ গোমরা করে থাকে,কখনো অভিমান করে পশ্চাতে ফিরে থাকে।কখনো শব্দ থেকে অশ্রুঝরে অবিরাম,কখনো শব্দের মাঝে প্রেমের লুকোচুরি খেলা।লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শব্দের এমন খেলা কিভাবে খেলেছে ভেবে অবাক হই।শব্দে শব্দে মাঝে মাঝে দ্বন্ধ লাগিয়ে হাঙ্গামা লাগায়।শব্দ গুলো কখনো অমলিন, কখনো কুৎসিত কালো।কখনো নির্লজ্জের মতো হাসে,কখনো অবলার মত কাঁদে।এই হাসা,কাঁদা এটা শব্দের খেলা নয় বরং লেখকের জাদু।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages