মাকে অবহেলা করে পৃথিবীতে কেউ সুখী হতে পারেনাই ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, May 1, 2020

মাকে অবহেলা করে পৃথিবীতে কেউ সুখী হতে পারেনাই ||amarkhobor24.com

নারী বিভিন্ন রূপে আমাদের জীবনে আসে।নারী যখন আমার মা তখন পরম মমতায় তার আচলে থাকতে ভালোবাসি।পৃথিবীতে মায়ের মত আপন কেউ নেই।মায়ের ভালোবাসার কোন কমতি নেই।একজন মা তার দশ সন্তান কে সমান স্নেহে লালন পালন করলেও দশ সন্তান মিলে মাকে লালন পালন করছে এমন নজিন খুব কমই আছে।যে মায়ের পরম মমতায় আজ তারা প্রতিষ্ঠিত সেই মমতাময়ী মাকে বউয়ের কথায় রেলওয়ে স্টেশনে,নির্জন পাহাড়ের পাদদেশে ফেলে আসতেও দেখা যাচ্ছ।যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভ ধারণ করে আমাকে আপনাকে পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছে সেই গর্ভধারিণী মাকে কষ্ট দিতে কি এতটুও কলিজায় লাগে না? যে মা নিজে না খেয়ে আপনাকে খাইয়েছে সে মা নিয়মিত খেতে পারছে কিনা কখনো কি খুঁজ নিচ্ছেন? নাকি সুন্দরী বউ আর ফুটফুটে সন্তানের মুখ দেখে মায়ের কথা ভুলে গেছেন? আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন আপনার মুখ দেখেও মা সকল দুঃখ বেদনা ভুলে গিয়েছিল।আপনাকে বড় করার জন্যে কত কষ্ট করেছে তা আপনার জানা না থাকলেও সকল মায়ের জানা আছে।
আপনার স্ত্রী যখন প্রসব বেদনায় কাতর।যখন আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তখনও কি আপনার মনে হয়না আপনাকে গর্ভধারণ ঠিক এইভাবেই করেছিল।যখন আপনার স্ত্রী প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে তখন আপনি নিজেকেও ঠিক রাখতে পারেন না।কারণ আপনি স্ত্রীকে প্রচন্ড ভালোবাসেন।আপনার স্ত্রী যেমন সন্তান কে পৃথিবীর আলো দেখাতে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করছে ঠিক আপনার মা ও আপনাকে পৃথিবীর আলো দেখাতে এমন কষ্ট সহ্য করেছিল।আজ স্ত্রীর যন্ত্রণায় কান্নায় বুক ভেসে যায় কিন্তু মমতাময়ী মা কে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন তার কোন খবর নিচ্ছেন না।এখনও মা আপনার পথ চেয়ে থাকে।যতক্ষণ আপনি বাড়িতে না ফিরেন,ততক্ষণ মায়ের চোখে ঘুম নেই।আপনি গভীর রাতে এসে পরীক্ষা করে দেখবেন কে জাগ্রত।দরজায় নক করার সাথে সাথে মা কথা বলবেন কিন্তু স্ত্রী দিব্যি ঘুমাচ্ছেন। সন্তানের হৃদয়ের সাথে মায়ের হৃদয়ের  সংযোগ আছে।যতই রাত হোক আপনার মায়ের চোখে ঘুম নেই।আপনি প্রবাসে বা দূরের কোন শহরে।গভীর রাতে মাকে ফোন দিন সাথে সাথে রিসিভ করে বলবে,খোকা তোর কি কোন বিপদ হয়েছে? আর বউকে ফোন দিন দেখবেন রিসিভ করছে না।অথবা রিসিভ করলেও অনেক্ষণপর।হ্যা এটাই মা।

আপনি যদি গরিব পরিবারের সন্তান হন তাহলে আপনাকে লালন করতে মায়ের কষ্ট কেমন হয়েছে তা ভেবে নিন।অনেক সময় মা না খেয়ে আপনাকে খাইয়েছে।শীতের রাতে আপনি বার বার প্রশ্রাব করে সব জামা কাপড় ভিজিয়েছিলেন।বাড়িতে অবিশিষ্ট শুকনো কাপড় ছিলনা আপনার শরীরের নিচর দিবে।তখন জনম দুঃখিনী মা নিজে প্রশ্রাবে শুয়ে আপনাকে শাড়ির আচলে মোড়িয়ে রেখেছিল।অথচ আজ সেই মাকে অযত্নে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন।আপনি একটু খেয়ল করে দেখলেই মায়ের দুঃখটা বুঝবেন।রাতে আপনার সন্তানের কারণে আপনার স্ত্রীর কতবার ঘুম ভেঙে গেছে তার কোন হিসেব নেই।ঠিক আপনার কারণেও মা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।গর্ভাবস্থায় মা ঠিক মত ঘুমাতে পারেনি।পারেনি খেতেও।গভীর রজনীতে আপনি যখন গর্ভে পা ছুটাছুটি করেছিলেন তখন আপনার মায়ের প্রাণ বায়ু বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।বিশ্বাস না হলে আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

আজ আপনি ডক্টর, ডাক্তার,প্রফেসর,বিসিএস ক্যাডার।এই সবের মূলে আপনার মায়ের দোয়া আর পরিশ্রম নিহিত।আমি বলছিনা আপনার বউকে ফেলে মায়ের সেবা করতে।আপনি বাসায় ফিরে মায়ের সাথে একটু হাসিমুখে কথা বলুন।জিজ্ঞাসা করুন শরীর কেমন আছে। জিজ্ঞাসা করুন মায়ের কিছু খেতে মন চায় কিনা।এতেই মা শান্তি পাবে।প্রত্যেক মা তার সন্তানকে হাসি মুখে দেখতে চায়।মায়ের চোখে সন্তানের পেট আর বাস হেল্পারের কাছে বাস সব সময় খালি থাকে।স্ত্রীকেও অবহেলা করা যাবে না।স্ত্রী আপনার সন্তান কত কষ্ট করে গর্ভ ধারণ করেছে সেটা ভেবেই স্ত্রীকে ভালোবাসুন।কষ্টটা স্ত্রীর  কাছ থেকে অনুভব করে মা আপনার জন্য কেমন কষ্ট করেছে সেটা ভাবুন।কোন মেয়েকে তার বাবা মা খাওয়াতে না পেরে বিয়ে দেয়না।ধর্মীয় বিধান মেনে বিয়ে দেয়।আপনার স্ত্রী আঠারো - বিশ বছর মা বাবার কাছে লালিত পালিত হয়ে আপনার কাছে ভালোবাসা পাওয়ার আশায় সব মায়া ত্যাগ করেছে।তার সাথে কাজের মেয়ের মত আচরণ করবেন না।আসুন মায়ের জাতিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিই।যে মাকে ভালোবাসে তাকে আল্লাহও ভালোবাসে।হাদিসে আছ,মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত।তাই আসুন, স্ত্রীর অধিকার স্ত্রীকে, আর মায়ের অধিকার মাকে প্রদান করি।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages