উপকূলের কুল হোক ! || আব্দুল কাইয়ূম ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, May 25, 2020

উপকূলের কুল হোক ! || আব্দুল কাইয়ূম ||amarkhobor24

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় টেকশই রাস্তাঘাট ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মানে, পদ্নাসেতুর মত সরাসরি আপনার হস্তক্ষেপ চাই।
১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু আর ২ কেজি ডালের সাথে ১ কেজি তৈল দিয়ে খিচুড়ী রান্না করা যায়, বেড়িবাঁধ দেওয়া যায়না।
এই ২০২০ শতাব্দীতেই একেরপর এক ঘুর্ণিঝড় মহাসেন, রেশমা, হারিকেন, সিডর, নার্গিস, আইলা, তাইফুন, তিতলী, বুলবুল সর্বশেষ আম্ফানের উপর্যুপরি তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, বাংলার কাঁচাসোনা খ্যাত চিংড়ী উৎপাদনে শীর্ষে থাকা উপকূলীয় এলাকা সাতক্ষীরা সহ খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জেলা।
লাগাতার ঘুর্ণিঝড়ের অপূর্ণীয় ক্ষতিতে কোনভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না উপকূলবর্তী এসকল জেলাগুলো, ফলে চরম অর্থনৈতিক ঢস ও মারাত্বকভাবে অবকাঠামোগত ত্রুটির সাথে অস্তিত্ব সংকটেও পড়েছে এই জেলাগুলো।
দেশ আজ উন্নয়নের মহা সড়কে, কানাডা হয়েছে ঢাকা, সিলেট হলো লন্ডন চট্টগ্রাম হলো সিঙ্গাপুর!
উড়াল সেতু, মেট্রোরেল, কিংবা ফোর লেন কত কিছুই তো দেখছে বিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বাংলাদেশ।যারা নিজ দেশের ভূমি রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারে না, তাদের জন্য উড়াল সেতু কতটুকু মানানসই।
দেশের উন্নতির গল্প তো তাদের মুখেই শোভা পায়, যারা সাধারণ মানুষের মুখে সুখের হাঁসি ফুটাতে পারে।
মেট্রোরেল তো তারা চালাবে যাদের সুড়ঙ্গপথে বন্যার পানি আসার পথ বন্ধ থাকে।
আপনি দেশকে সিঙ্গাপুর, কানাডা আর লন্ডন বানাবেন কি করে, যদি ঘূর্নিঝড় এর তান্ডবে আপনার দেশের অস্তিত্ত্ব-ই বিলীন হয়ে যায় বঙ্গোপসাগরে।
জাতীয় ঈদগাহে রংঢং মাখিয়ে লাভ কি? যদি উপকূল বাসী হাঁটু পানিতে ঈদের নামাজ পড়ে।
যদি ক্ষুধার তাড়নায় নিজ সন্তান কে হত্যা করতে বাধ্য হয় জন্মদাত্রী মা জননী, তাহলে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কিভাবে বাস্তবায়ন হবে।
যে দেশ তার শাসকশ্রেনীর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণের চাউলে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে পারেনি সেদেশর জনগণ নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই কিভাবে পাবে?
যে দেশের নেতারা রাতের আধারে কোদাল নিয়ে ছুটে যায় বেড়ীবাঁধের নিচে ছিদ্র করতে, সেদেশে মাটির বেড়ীবাঁধ কতটা কার্যকর?
এবারের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান প্রমান করেছে আমাদের দেশের ভূমি রক্ষা বাঁধ কতোটা টেকসই ও নিরাপদ, সব যেন আমড়া কাঠের ঢেকি।
প্রতি বছর বাজেট হয় বেড়িবাঁধের জন্য, কাজ হয় যৎসামান্যই, সিংহভাগ টাকাই চলে যায় কর্তাদের পকেটে।
হর্তাকর্তারা সারা বছর আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকেন, একটা ছোটখাটো সিডর, আইলা, কিংবা আম্পানের জন্য।
তাদের দোয়া কবুল হয়, আবারো ভাঙ্গে উপকূল, ঘোষনা করা হয় মোটা অংকের টাকার বাজেট, আবারো সেই নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।
এভাবেই চলছে আমার প্রিয় মাতৃভূমি সোনার বাংলাদেশ!
সারা দেশে উঁচু উঁচু ফ্লাইওভার তৈরীতে কত হাজার কোটি টাকা বাজেট হচ্ছে, তারচেয়ে কম ও সীমিত বাজেটে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ তৈরি করে কোটি মানুষের জীবন নিরাপদ করা যেতো তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
স্থায়ী বেড়িবাঁধ একটা দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এখনকার উপকূল ঘুরে দেখুন, কিছুটা হলেও অনুভব করা যাবে।
সুতরাং আর নয় বালু মাটির রঙ্গ খেলা, এবার অন্তত রড, সিমেন্ট কংক্রিটের স্থায়ী বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হোক।
প্রয়োজনে আপাতত বন্ধ থাকুক শহুরে খোঁড়াখুঁড়ি আর পদ্নাপাড়ের দৌড়াদৌড়ি।
উপকূল বাঁচান, কৃষক বাচাঁন, খেটে খাওয়া সাধারণ
মানুষকে বাঁচতে সহায়তা করুন।
তবেই বেঁচে থাকবে দেশ ও দেশের অর্থনীতি।
গড়ে উঠবে উঁচু উঁচু ফ্লাইওভার, নির্মিত হবে হাজারো পদ্নাসেতু।
উপকূল বাঁচান, দেশ বাঁচান।

-তরুণ আলেম ও সুচিন্তক।

No comments:

Post a Comment

Pages