করোনা ভাইরাস মানুষের তৈরি, বিজ্ঞান কি বলে, এর ভিত্তি কি? ||মতামত || আব্দুল আল-মামুন ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, May 12, 2020

করোনা ভাইরাস মানুষের তৈরি, বিজ্ঞান কি বলে, এর ভিত্তি কি? ||মতামত || আব্দুল আল-মামুন ||amarkhobor24


নোবেল করোনা ভাইরাস মানুষের তৈরি! এ নিয়ে নানান ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এখন বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যায়। অনেক বিজ্ঞানী রাষ্ট্রপ্রধানরাও এ কথা বিশ্বাস করতে চলেছেন ‌। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এই ভাইরাসের জন্য চীনকে দায়ী করেছেন। তার সাথে সুর মিলিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। চীনের উপর দোষ চাপানোর জন্য আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছেন কেউ কেউ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন তার কাছে তথ্য আছে এই ভাইরাস চীন ছড়িয়ে দিয়েছে পৃথিবীতে। এইচ আই ভি এইডস এর আবিষ্কারক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন নোবেল করোনাভাইরাস কোন প্রাকৃতিক নয় এটি মানুষের তৈরি। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মুখ থেকে এই ধরনের কথা শুনেই অনেকটাই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে আসলে কি তাই মানবতার বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নিচ্ছে তো চীন?

আসুন দেখি একটু জানার চেষ্টা করি সত্যি কি তাই করোনা ভাইরাস মানুষের তৈরি?

সাধারণত এই ভাইরাস নিয়ে তিনটি তথ্য ছড়িয়েছে।

একঃ বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।

দুইঃ গবেষণার সময় এই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

তিনঃ জীবাণু অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

বন্য প্রাণীর বাজার থেকে এই ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলে যে ধারণা করা হচ্ছে, তাও পুরোপুরি সঠিক নয় কারণ যারা আক্রান্ত হয়েছেন একেবারেই প্রথমে। তারা কেউই ওই বাজারে যায় নাই। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এই ভাইরাস বাদুর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। কিন্তু যে কারণে অনেকেই বিশ্বাস করছেন ভাইরাসটি চীনের ল্যাবে তৈরি হয়েছে এবং হয়তোবা এক্সিডেন্টলি এটি মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তার কারণ হচ্ছে চীনের উহান শহরে যে গবেষণাগারে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয়  সে গবেষণাগার নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছে চীন সরকার। এটিও একটি কারণ হতে পারে। কারণ ওই গবেষণাগারের কোন তথ্য চীন সরকার বাইরে প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয়। এমনকি অন্য দেশের বিজ্ঞানীদের কে সে গবেষণাগারে প্রবেশাধিকার নাই কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এছাড়াও ২০১৯ সালে চীনের একজন ডাক্তার নতুন একটি ভাইরাসের কথা জনসম্মুখে আনেন। এবং এই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি করেছিলেন। কিন্তু তখন তার কথায় চীন সরকার পাত্তা দেননি বরং তাঁকে ভৎসনা করেন। অবশেষে ওই ডাক্তার নোবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

এসব কারণে চীনকে দায়ী করছেন অনেকে, হয়তোবা তারা কোনো কারসাজি করে এই ভাইরাসকে মানবতারবিরুদ্ধে জীবাণু অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে কিনা। যদিও এর বিরুদ্ধে অকাট্য কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনো পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায়নি। কিছুদিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সত্যিই এই ভাইরাস মানুষের তৈরি কিনা তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষ করে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়েছেন নোবেল করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি এই ধরণের কোন তথ্য প্রমাণ তারা খুঁজে পাই নাই। এই ভাইরাস প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি এটাই এখন সর্বজনস্বীকৃত। 

অন্যদিকে চীন বারবার বলে আসছেন এই ভাইরাসটি তাদের তৈরী নয়। এটি সত্যিকার অর্থেই প্রাকৃতিক, এবং তা নিয়ে গবেষণা করার জন্য  নোবেল করোনাভাইরাস এর জীবন রহস্য উন্মোচন করে দেন বিজ্ঞানীদের জন্য। বড় বড় বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন সারাবিশ্বে। কোন বিজ্ঞানী এখনো পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেননি নোবেল করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি। এটি প্রাকৃতিক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে হয়তো বা অন্য কোন প্রাণী থেকে যদিও অকাট্য কোন তথ্য প্রমাণ বের করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন তার কাছে তথ্য আছে এই ভাইরাস চীন তৈরি করেছে। কিন্তু এর পক্ষে কোন প্রমাণ দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে দায়ী করে চলেছেন।

চীনের উহান শহরে দুইটি গবেষণাগার আছে। একটি থেকে অন্যটি দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। এর একটি গবেষণাগার বি এস এল৪  ক্যাটাগরি অর্থাৎ এই গবেষণাগারে সবচেয়ে ক্রিটিকাল ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা হয়। তাই নিরাপত্তার দিক থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। চীনের এই গবেষণাগারে যে সকল ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা হয় সেই গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় এবং প্রযুক্তি এবং আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র। এবং ঐ সকল দেশের বিজ্ঞানীরা নিয়মিত ওই ল্যাবটি পরিদর্শন করে থাকেন। তাই তারা মানতে নারাজ এই গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বরং গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা বলছেন তারা যে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন তার কোনটার সাথে নোবেল করোনা ভাইরাসের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। চীন সরকার ও বলছে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে। বরাবরই বিজ্ঞানীদর উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে চীন লুকোচুরি করেছে। সময়মতো সঠিক তথ্য তারা বিশ্বকে জানায়নি। বরং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে চীন ভাইরাস বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এই জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপর আস্থা রাখতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। who এর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিতেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু মুখে বলে থেমে থাকেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যিকারভাবে এ সংস্থাকে কোন ধরনের অনুদান করা হবে না বিষয়ক একটি ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন চীনএবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একই সুরে কথা বলেন। তাই তিনি কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। প্রথমে চীনের প্রশংসা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের একটি জনসংযোগ সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপর যে দোষ চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সে বিষয়ে who এর প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন এখন দোষ চাপানোর সময় নয়। কীভাবে এই ভয়ঙ্কর মহামারী করোনা ভাইরাস কে ধ্বংস করা যায়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ট্রাম্পের অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করেছেন who এর প্রধান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন আমি সরাসরি চীনের উহানে কয়েকদিন থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। তিনি সেখানকার মানুষ এবং ডাক্তারদের কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন। তাহারা সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করেছেন এই ভাইরাস কে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়। চীনের জনগণ লকডাউন কে সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেছে। তাই অতি দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমণ হার এড়াতে পেরেছে চীন। 

চীন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একই সুরে কথা বলেছেন তারা বলেন, এই ভাইরাসের নানা তথ্য এখনো অজানা। বরং গুজব না ছড়িয়ে এই ভাইরাসের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। 

গবেষণা অথবা গোয়েন্দা সংস্থা কোন তদন্তেই মানুষের তৈরি এই ভাইরাসটি। তার কোন তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। যতদিন পর্যন্ত সঠিক কোন তথ্য প্রমাণ না পাওয়া যাবে এই ভাইরাসটি প্রাকৃতিক ভাবে এসেছে সেটাই বিশ্বাস করতে হব। তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছেন সেটার কি হবে। বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গরা মনে করেন ট্রাম্পের এই অভিযোগ হচ্ছে ঘোলা জলে মাছ শিকার করার মত। বিশ্ব রাজনীতিতে জলঘোলা করতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের অদ্ভুত দাবি। রাজনীতি বা রাষ্ট্রনীতি কোথায় কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে সেটা কেবল সময়ের অপেক্ষা। আর এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এর শেষ কখন হবে তা কেবল সময়ই বলে দেবে।


লেখকঃ আবল্লাহ আল মামুন (ব্লগার)

সূত্রঃ ডয়েচবেলে (DW) ও অনলাইন



No comments:

Post a Comment

Pages