গার্মেন্টস নারী কর্মীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হোক ||মতামত ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, May 19, 2020

গার্মেন্টস নারী কর্মীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হোক ||মতামত ||amarkhobor24

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে তিনটি সেক্টর, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, গার্মেন্টস সেক্টর এবং কৃষি।এই তিন শ্রেণির মানুষরাই সব চেয়ে বেশি লাঞ্চিত,বঞ্চিত ও অপদস্থ হয়।যাদের কারণে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল তাদের প্রতি সমাজ সবচেয়ে বেশা অমানবিক আচরণ করে থাকে।কৃষক,প্রবাসী,গার্মেন্টস কর্মীরা পদে পদে লাঞ্চনা,বঞ্চনার শিকার হয়।সমাজ তাদের বাকা চোখে দেখে।একজন গার্মেন্টস কর্মী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে।অথচ একজন গার্মেন্টস কর্মীর সমাজে কোন দাম নেই।নারী কর্মী হলে তো কথাই নেই।একজন গার্মেন্টস নারী কর্মীকে সমাজের নিকৃষ্ট নারী হিসেবে অনেকে গণ্য করে থাকে।অবিবাহিত মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করলে যেন সমাজের মান যায়।আমাদের সভ্য সমাজ তাদের প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করে থাকে।গার্মেন্টসে চাকরি করলে যেন জাত চলে যায়।

যারা গার্মেন্টসে চাকরি করে সেসব নারীদের চরিত্রহীন বলে ধরে নেওয়া হয়।তাদের চরিত্রে দাগ লেগেছে তাই তাদের বিয়ে করাও যেন লজ্জার।অথচ একজন নারী কর্মী কাজের ভারে নষ্টামি আর বদমাইশি করার যতটা না সুযোগ পায় এর চেয়ে শতগুণ সুযোগ পায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োয়া মেয়েরা।কিন্তু সমাজ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োয়া মেয়েদের খারাপ চোখে দেখে না।বরং খারাপ চোখে দেখে গার্মেন্টসের নারী কর্মীদের।যারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে তাদের প্রতি এমন আচরণ সভ্য সমাজ থেকে অাশা করা যায়না।একজন গার্মেন্টস কর্মী বারো ঘন্টা কাজ করার পর পরপুরুষের সাথে নষ্টামি করার সুযোগ পায়না।কিন্তু একজন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁয় বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরছে।দিব্যি প্রেম করছে পার্কে বসে ।তা স্বত্ত্বেও সমাজ তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করে।একজন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োয়া মেয়ে তার ক্লাসমেট ছেলেদের সাথে তো আড্ডা দেয় এর চেয়ে বেশি আড্ডা দেয় সিনিয়র ক্লাসের ছেলেদের সাথে।বিশ্ববিদ্যালয়ের গড্ডি যারা পার হয় এমন কোন মেয়ে পাওয়া মুশকিল হবে যারা দুই চার জনের সাথে প্রেম করেনি।হ্যা,শতে দুই একজন ভালো থাকে।

আমার দেখা ঘটনার মধ্যে থেকে বলতে গেলে অনেক বলা যাবে।অনার্স মাস্টার্স শেষ করা পর্যন্ত মেয়েরা কয়জন ছেলের সাথে প্রেম করে।আমার ব্যাচের এক ছেলে সতরো মেয়ের সাথে প্রেম করেছে।আমার ডিপার্টমেন্টের আরেক মেয়ে ইন্টারের পর থেকে অনার্স শেষ করা পর্যন্ত ১৩জন ছেলের সাথে প্রেম করেছে।এভাবে বলতে গেলে প্রেম থেকে বিরত আছে এমন মেয়ের সংখ্যা খুবই নগন্য।এদের অনেকেই শারিরীক সম্পর্কও করেছে।তা স্বত্তেও সমাজ তাদের শ্রেষ্টত্বের আসনে আসীন করে।কিন্তু যে নারী কর্মী দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে সেই নারীদের কে দেখা হয় খারাপ চোখে।এটা চরম অমানবিক ও ফ্যাসিস্ট আচরণ।আমার সাথে অনার্সে পড়েছে এমন অনেক মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে।সে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় তখন তাঁকে সম্মানের চোখে দেখা হয় আর যখন গার্মেন্টসে চাকরিতে যায় তখন ভিন্ন চোখে দেখা হয়।একই মেয়ে গার্মেন্টসে গেলে অবহেলার শিকার আর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে পায় সম্মান এমন অদ্ভুত আচরণ আমাকে ভাবায়।

সমাজের মানুষ দিন দিন অমানবিক ও যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে।অনেকে বলে গার্মেন্টসে চাকরি করা নারীদে জন্য শোভা পায়না।ইসলামেও তা সমর্থন করে না।কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাথে ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করা যেমন ইসলাম সমর্থন করে না ঠিক তেমনি গার্মেন্টসেও না।হ্যা,ভালো কথা গার্মেন্টসের নারীদের জন্য আলাদা কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি উঠুক জোরালোভাবে। নারী পুরুষের জন্য অালাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অালাদা কর্মক্ষেত্র তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।নারী পুরুষের অালাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আলাদা কর্মক্ষেত্রের সুযোগ তৈরি হলে দেশে ইভটিজিং,ধর্ষণ কমে যাবে।আমার জানামতে,কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োয়া অনেক ছাত্র ছাত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করে।সুতরাং গার্মেন্টসের নারী কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ আর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োয়া মেয়েদের প্রতি সহৃদয় আচরণ  কখনো কাম্য নয়।বর্তনমান নৈতিকতার দিক বিবেচনায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়োয়া মেয়েদের চেয়ে  গার্মেন্টসে চাকরি করা মেয়েদের চরিত্র তুলনামূলক ভালো।খারাপ যদি বলতে হয় দুইজনকেই বলুন।কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়োয়াদের প্রতি সম্মান দেখাবেন আর গার্মেন্টস নারী কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ সংবিধান পরিপন্থী। আসুন যারা অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে সেই গার্মেন্টস নারী কর্মীদের প্রতি মানবিক আচরণ করি।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages