জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল, নাকি ভাঙ্গন ? - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, April 29, 2020

জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল, নাকি ভাঙ্গন ?

গেল বছর জামায়াতের সংস্কারপন্থী কিছু নেতা মিলে গঠন করেছিল জন অাকাঙক্ষার বাংলাদেশ।বছর না পেরুতেই গতকাল ঘোষণা আসল এ বি পার্টি নামে।আসলে জামায়াতের মধ্যে ভাঙ্গন ধরেছে নাকি কূটকৌশল করছে তা নিয়ে জনগনের মধ্যে নুন্যতম  আগ্রহ নেই।জামায়াত তাদের দলটি সরাসরি না পারছে বিলুপ্ত করতে, না পারছে সেটি কে পুনরায় জীবিত করতে।বলতে গেলে তারা উভয় সংকটে।নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় কোন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ২৫ জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।এর আগে সিলেট সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিপক্ষে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত।তখন থেকে বিএনপির সাথে কিছুটা দূরত্ব বাড়ে।গতকাল এ বি পার্টি ঘোষণার পর অনলাইন ও অফলাইনে কোন ধরণের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে না।এর থেকে বুঝা গেল জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তেমন কোন আগ্রহ নেই।
আওয়ামী লীগ অনেক বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়েছে।জামায়াত কে তারা নিষিদ্ধ করতে পারত তবুও করেনি। জামায়াতকে সরকার এক প্রকার সংবিধানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।সরকার জামায়াত কে নিষিদ্ধ করলেও তাতে জামায়াত কোন প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।যদি নিষিদ্ধ করে তাহলে তাদের জন্য দুটি লাভ।
১) স্বাধীনতার কলঙ্কজনক ভুমিকা থেকে মুক্তি পাবে
২) নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।নতুন প্রজন্ম যারা জামায়াত কে ঘৃণা করে তাদের কিছু অংশ জামায়াতের নতুন দলে সম্পৃক্ত হবে।

টিভির টকশোতে যখন বিএনপির নেতাদের প্রশ্ন করা হয় আপনারা জোট থেকে জামায়াতকে কেন বাদ দিচ্ছেন না?  তখন বিএনপির নেতাদের সহজ উত্তর হলো,আমরা কেন বাদ দিতে যাব সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেই তো হয়।এই কথাটি বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারাও বলেছে।গত কয়েকদিন আগে বিএনপির নেত্রী সৈয়দা আশরাফিয়া পাপিয়াও এই কথাটি বলেছে।সরকার জামায়াত কে নিষিদ্ধ করবে না।নিষিদ্ধ করলে তারা অন্য দল নিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করবে।এটা সরকারের কৌশল মাত্র।সরকার চাইলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কোন ব্যাপারই না।যেখানে দলের আমির কে ফাঁসি দিয়ে দিতে পারে সেখানে জামায়াত নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য মামুলি ব্যাপার।

জামায়াত রাজনৈতিকভাবে চরম ব্যর্থ।কারণ তারা যতটা কূটকৌশলী ততটা দেখাতে পারেনি।আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আসাটা চরম ভুল ছিল।জাতীয় পার্টি আজীবন দাবার গুৃটি হৃযে রাজনীতি করে আসছে।এখন তাদের নিজস্ব কোন শক্তি নেই বললে চলে।আওয়ামী লীগ তাদের উঠতে বললে উঠে,আর বসতে বললে  বসে।নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তা বলতে তাদের কিছুই রইল না।জাতীয় পার্টিতে চলছে দেবর--ভাবির লড়াই।দলীয় পদ আর সংসদীয় পদ টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত আওয়ামী লীগের পা চাটে।জামায়াতের মধ্যে দুটি দলে বিভক্তি দেখা দিচ্ছে।এক দল চাইছে স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন করে রাজনীতি শুরু করা, অপর দল চাইছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের কে জাতির কাছে ছোট না করতে।জামায়াতের সংস্কারপন্থীরা বলছে,যুদ্ধাপরাধের কোন দায় তারা নিবে না।কারণ তারা  যুদ্ধের সময় জামায়াতের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকায় ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ জামায়াত কে এক প্রকার অকেজো করে রেখেছে।জামায়াত নেতারা না পারছে এই ঘৃণিত দলটি বিলুপ্ত করতে,না পারছে নতুন করে চাঙ্গা করতে।তারা এখন উভয় সংকটে।

বিএনপির জোটেও তাদের সম্মানজনক অবস্থান নেই।জোটের অধিকাংশ নেতারাই চায় জামায়াতকে ২০ দলীয় জোট থেকে বাদ দিতে।বিএনপির সিনিয়র নেতারা এতে সাড়া দিচ্ছে না।বিএনপি জামায়াতকে পুরাপুরি বিশ্বাস করতে পারেনি।আজ যদি বিএনপি জামায়াতকে তাদের জোট থেকে বাদ দেয় তাহলে আগামীকাল তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিবে না তারই বা গ্যারান্টি কি? কারণ জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সেটাই প্রমাণ করে।১৯৯১ সালে বিএনপির সাথে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছিল জামায়াত।কিন্তু ১৯৯৬ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রাপ্ত তিনটি আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের কাধে ভর করে ক্ষমতায় গিয়েছিল।পরে ২০০১ সালে বিএনপির সাথে জোট করে ফের ক্ষমতায় যায় জামায়াত।এই বহুরূপী চরিত্রের কারণে তাদের বিএনপি যেমন বিশ্বাস করে না,তেমনি আওয়ামী লীগও বিশ্বাস করেনা।অন্যান্য ইসলামী দল তো বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসেনা।আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করে বিএনপি ও জামায়াত দু'দলকেই কৌশলে কোনঠাসা করে রেখেছে।জামায়াত যতই নতুন নাম দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করুক তাতে হালে পানি পাবে না।তাদের সব কৌশল আজ পরাজিত।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages