ত্রাণ বা সরকারি কোনো সাহায্যই পাচ্ছে না মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকরা - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, April 29, 2020

ত্রাণ বা সরকারি কোনো সাহায্যই পাচ্ছে না মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকরা

শাহাদাত হোসেন সুমন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিশ্ব আজ থমকে গেছে মহামারি (কোভিড-১৯) নভেল করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ ছোবলে। চারদিক থেকে শুধুই মৃত্যুর মিছিল বের হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহ মহামারিতে থমকে গেছে পৃথিবী, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বিশ্বের সকল প্রভাবশালী নেতারা। ভয়াবহ এই করোনা ভাইরাস থেকে বাচঁতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশগুলো দেশকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
 তেমনিভাবে বাংলাদেশেও বাঁচতে পারেনি করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহ ছোবল থেকে। গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ৩ জন করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে বাংলাদেশে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এ করোনা রোগীর সংখ্যা। বাংলাদেশেও এই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন ঘোষণা করছে বাংলাদেশ সরকার।যা এখনও চলমান রয়েছে। কবে এই লকডাউন ওঠানো হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবং দুই দুই বারের এই ছুটি বাড়ানোর পরও গত পড়শু প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় বারের মতো দেশের পরিস্থিতি স্বাবাবিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছুটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।

কবে পরিস্থিতি ঠিক হবে?  কবে লকডাউন থেকে মুক্তি পাবে মানুষ? কবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এমন প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অবনতির কারনে দেশ লকডাউন হওয়াতে গৃহবন্দি হয়ে আছে দেশের সকল মানুষ। গৃহবন্দি হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ায় এরি মাঝে বিপাকে পড়েছেন দেশের হত দরিদ্র, দিনমজুর, মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকরা। তাদের পকেটে নেই টাকা, বাড়িতে নেই নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। এমতাবস্থায় তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয় পর্যায়ে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে দেশের হতদরিদ্র, দিনমজুর ও কর্মহীন মানুষদের জন্য ত্রাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন। যা ইতিমধ্যে দেশের প্রত্যেকটি স্থানে বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিতরণকৃত ত্রাণ বা কোন ধরণের সাহায্যই পাচ্ছে না মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকরা। গত কয়েকদিন যাবত লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকদের সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গিয়েছে। বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সাহেবরা জানিয়েছেন, আমরা দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মসজিদে  আমাদের যেই সম্মানী ভাতা (বেতন) দেওয়া হয় তা দিয়ে কোনো রকমে আমাদের সংসার চালাতাম। কারণ আপনারা তো জানেন একটি মসজিদে একজন ইমামকে কত টাকা ই সম্মানি (বেতন) দেওয়া হয়। তারওপর আবার অনেক মাস বকেয়া! তারপরও কোনো রকমভাবে আমাদের সংসার চালিয়ে নিতাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের কোনো প্রকার বেতন ই দিচ্ছেন না। মসজিদ কমিটি আমাদের বলছেন যে ''দেশের যেই পরিস্থিতি মসজিদে মুসুল্লিরা আসতে পারছেন না, তাদের হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই তাদের থেকে চাঁদা কালেকশন করতে পারছি না। তাই আমাদের কাছে বেতন চাইবেন না! মুসুল্লিদের থেকে কালেকশন না করতে পারলে আমরা কোথা থেকে আপনাদের টাকা দেব?" ইমাম সাহেবরা জানান মসজিদের ইমামতির কারনে তারা মসজিদে অবস্থান করছেন কিন্তু তাদের পরিবারে নেই কোনো খাবার!  প্রতিদিন বাড়ি থেকে ফোন আসে রান্না করার মতো কোনো চালও ঘরে নেই। ইমাম বলেন আমার পরিবার ও ছেলে মেয়েরা কি খেয়ে দিনাপাত করছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইমাম জানান, গত এক মাস আগে তার স্ত্রীর হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে একটি সন্তান জন্ম নেয়। সেখানে তার স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ চালাতে অনেক টাকা ঋণ করেন তিনি। পাওনাদাররা বার বার ফোন দিচ্ছেন কিন্তু তিনি তাদের পাওনা শোধ করতে পারছেন না। তার মধ্যে বাড়িতে নেই কোনো বাজার সদাই, কিভাবে বাড়িতে আমার সংসার চলছে আল্লাহই ভালো জানে, বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। অনেক কওমী মাদরাসার শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা শুধুমাত্র একটি মাদরাসায় নাম মাত্র বেতনে চাকরি করেই সংসার চালাতেন।  কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে মাদরাসা বন্ধ থাকায় কোনো প্রকার বেতন পাচ্ছেন না তারা। এদিকে তাদের পরিবারের অবস্থা খুবই শোচণীয়। পরিবারে চাল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় কোনো খাদ্য সামগ্রীই নেই অধিকাংশের ঘরে। আবার অনেকে গত দুই মাস ধরে ঋণ করে বাজার সদাই করছেন। কিন্তু দেশে অঘোশিত লকডাউন চলায় এখন কেউ ধার অথবা ঋণ দিচ্ছেন না বলেও জানান তারা। এমন অনেক ইমাম ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলার সময় তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা। আবার অনেকেই জানান "গত কয়েকদিন যাবত নিজেরা উপভাস থাকছি! ছেলে সন্তানের মূখে কোনো আহার দিতে পারছি না"। সরকারি কোনো ত্রাণ বা সাহায্য পাচ্ছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তাদের অধিকাংশ জানান, সরকারি কোনো সাহায্যই তারা পাচ্ছেন না। তারা কোনো ব্যক্তির কাছে নাম দিতে যাই না লোক লজ্জার ভয়ে। আবার যারা ত্রাণ বিতরণ বা সরকারি সাহায্য বিতরণ করছেন তারা কেউ মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকদের কোনো খোজখবর নিচ্ছেন না। তারা মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকদের কোনো প্রকার সহযোগীতা করছেন না বলেও জানা গেছে।আবার অনেকের কাছে ত্রাণ লিষ্টে নাম লিখাতে গিয়েও অনেক ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে জানান তারা। যারা ত্রাণ লিষ্ট তৈরি করছেন তারাও কোনো মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার কোনো শিক্ষকদের নাম তালিকাতে রাখছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
 
এখন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কয়েক মাস মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসা শিক্ষকদের কিভাবে সংসার চলবে? কিভাবে তারা না খেয়ে উপভাস হয়ে বেঁচে থাকবে এমন প্রশ্ন করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা।
এমতাবস্থায় দেশের সরকার, ও ত্রাণ বিতরনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসমস্ত মসজিদের ইমাম ও কর্মহীন কওমী মাদরাসার শিক্ষকদের পাশে সাহায্য নিয়ে না দাড়ান, তাহলে শীগ্রই খাদ্য সংকটে পড়ে করোনা ভাইরাসের চেয়ে আরো ভয়াবহ মহামারির সম্মুখীন হবেন এসমস্ত মসজিদের ইমাম ও কওমী মাদরাসার শিক্ষকরা।

No comments:

Post a Comment

Pages