নড়াইলে ভিজিডির ৪০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ!! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, April 20, 2020

নড়াইলে ভিজিডির ৪০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ!!

উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইলঃ নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডির ৪০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জারজিদ মোল্যার (৫২) বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় পরিবারের মহিলাদের ভিজিডি কার্ডের ৪০ মেট্রিক টন ৮শকেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের হয়েছে।কালিয়া উপজেলা মহিলা
বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার মো: মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে। উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইল জানান,  শনিবার (১৮এপ্রিল) ঘটনা উল্লেখ করে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য থানা
থেকে অভিযোগটি যশোর দুদক কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল
পর্যায়ে ১১নং পেড়লী ইউনিয়নের অসহায় পরিবারের মহিলাদের দুই বছরব্যাপী
বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০কেজি করে ১৯০টি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ করা হয়।উক্ত
কার্ডের বিপরীতে চলতি ২০১৯-২০২০অর্থবছরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার
কার্যালয়ের ০৬ এপ্রিলের ৯৬নং স্মারকে ১১নং পেড়লী ইউপির চেয়ারম্যান মো:
জারজিদ মোল্যার অনুকূলে ভিজিডি সুবিধার আওতায় ১৯০ কার্ডের বিপরীতে ৫হাজার
৭০০কেজি চালের ডিও প্রদান করা হয়। চেয়ারম্যান গত ১৪এপ্রিল উক্ত চাল গ্রহণ
করে তার পরিষদের কমপ্লেক্স  ভবনের গোডাউনে সংরক্ষণ করেন।
বিধিবহির্ভূতভাবে ভিজিডির ওই চাল বিতরণের অভিযোগ থাকায় উপজেলা নির্বাহী
অফিসারের মৌখিক নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের
সুপারভাইজার মো: মতিয়ার রহমান ১৬ এপ্রিল ভিজিডির চাল বিতরণের সময় তা
তদারকির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সরেজমিনে উপস্থিত হন। ওইদিন
তার উপস্থিতিতে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৯০টি কার্ডের মধ্যে ১০৫টি কার্ডের
চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়। এদিন অবিতরণকৃত ৮৫টি কার্ডের ২হাজার ৫৫০ কেজি
(৮৫বস্তা) চাল গোডাউনে সংরক্ষণ করে তালার চাবি চেয়ারম্যানের হাতে
হস্তান্তর করেন মতিয়ার রহমান।পরবর্তীতে ১৮এপ্রিল মতিয়ার রহমান ইউপি
কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অবিতরণকৃত ওই চাল অসহায় মহিলাদের মাঝে বিতরণের
জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট  থেকে ইউপি সচিব মো: আফজাল হোসেনকে গোডাউনের
চাবি আনার কথা বলেন। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহচর মো: নিজাম শেখ চেয়ারম্যান
জারজিদ মোল্যার কাছ থেকে চাবি এনে গোডাউনটি খোলেন।এ সময় মো: মতিয়ার রহমান
এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিশিকান্ত রায়
গোডাউনের ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান গোডাউনে ১৬ এপ্রিল রেখে যাওয়া
৮৫বস্তা ভিজিডির চালের হদিস নেই।দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই দুকর্মকর্তা ইউপি সচিব
মো: আফজাল হোসেনকে ভিজিডির চাল কি করা হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে পাশে উপস্থিত
থাকা চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহচর মো: নিজাম শেখ জানান, গোডাউনে সংরক্ষিত
চাল চেয়ারম্যান বিতরণ করে ফেলেছেন। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য
তদারককারী মো: মতিয়ার রহমান ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত পাপিয়া,
লাকী, নীলা, হাজেরা,মর্জিনাসহ ১১জন কার্ডধারী মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে
তারা  জানান,চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা তাদের কোন চাল দেননি। তাদের নামে
কার্ড থাকলেও বরাদ্দকৃত চাল তাদের না দিয়ে চেয়ারম্যান কর্তৃক কালোবাজারে
সেই চাল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন জীবিত ও মৃত
ব্যক্তির নামে ভিজিডি কার্ডের তালিকা করে প্রতিমাসে ২হাজার ৫৫০কেজি চাল
আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরো উল্লেখ
করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা জানুয়ারি/২০১৯ মাস হতে
এপ্রিল/২০২০ পর্যন্ত মোট ১৬ মাসে ৪০টন ৮০০ কেজি সরকারি চাল আত্মসাত করে
কালোবাজারে বিক্রি করে অবৈধপন্থায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নাজমুল হুদা বলেন,চেয়ারম্যান মো:
জারজিদ মোল্যার বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়ম ও অত্মসাতের অভিযোগ
প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় মামলা দায়ের হয়েছে।তিনি সরকারি সম্পত্তি
আত্মসাত করে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা
নিশিকান্ত রায় বলেন, নিয়মানুয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে
ভিজিডির চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও চেয়ারম্যান মো: জারজিদ মোল্যা বিতরণ
নীতিমালা সবসময় অনুসরণ করেন না।মাঝে-মধ্যে তিনি আমাকে (ট্যাগ অফিসার) চাল
বিতরণের তারিখ অবহিত না করে নিজের ইচ্ছেমত চাল বিতরণ করে থাকেন বলে তিনি
জানান।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, পেড়লী
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ
লিখিতভাবে পেয়েছি।এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করে পরবর্তী
কার্যক্রমের জন্য অভিযোগটি যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।
চাল আত্মসাতের ব্যাপারে জানতে পেড়লী  ইউপি চেয়ারম্যান মো: জারজিদ মোল্যার
সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে (০১৭৫৬৭৮০০২১নাম্বারে) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও
তিনি ফোন রিসিভ করেননি।উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইল।  

No comments:

Post a Comment

Pages