করোনা:কওমী শিক্ষকদের বেতন প্রদানের আবেদন টেকনাফে পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, April 4, 2020

করোনা:কওমী শিক্ষকদের বেতন প্রদানের আবেদন টেকনাফে পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের

আমান উল্লাহ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
করোনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
 বরাবর মাদ্রাসার শিক্ষক/ 
শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য আবেদন জানিয়েছেন টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ও টেকনাফ উপজেলা ওলামা পরিষদের শীর্ষ নেতা মাওঃ মুজিবুর রহমান । তার লিখা আবেদন পত্রের হুবহু নিম্নে উল্লেখ করা হইলো।
বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়- কওমী মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট নুরানী, হেফজ খানা এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক/শিক্ষিকা, কর্মচারীর বেতন ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে।

জনাব,
যথাবিহীত সম্মানপ্রদর্শন পূর্বক বিণীত নিবেদন এই যে, আমি আবেদনকারী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একজন সাধারন নাগরিক হই। আপনি জানেন সম্প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা নিয়ে ঝামেলা না হলেও বিপাকে পড়েছেন দেশের প্রতান্ত অঞ্চলে দেশ ও জাতির ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত কওমী মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট নুরানী এবং হেফজ খানায় কর্মরত প্রায় কয়েক লক্ষাধিক শিক্ষক/শিক্ষিকা বৃন্দ। আপনার নিকট দেশের সকল কওমী মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট নুরানী, হেফজ খানা এবং বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা/ কর্মচারীদের পক্ষ হয়ে আবেদন করছি যে, দেশে কওমী মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট নুরানী এবং হেফজ খানায় কয়েক লক্ষাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মচারী কর্মরত আছে। আপনি গত ১৬/০৩/২০২০ ইং দুপুরে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে- সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে সকল মাদরাসাগুলো তাৎক্ষনিক জরুরী বৈঠখ বসে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পরের দিন থেকে। বন্ধ করে দেওয়াতে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছে। কওমী মাদরাসা সমূহের সম্পুন্ন আয় এদেশের সর্বসাধারনের দেওয়া জকাৎ, ফিৎরা ও সাধারণ চাঁদা নির্ভর। একটি প্রতিষ্ঠানের আয় হতে হোস্টেলে থাকা গরীব অসহায় ছাত্র/ছাত্রীদের দৈনিক খাবার, ঔষধ পত্র, শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ গ্যাস ও পানির বিলে চলে যায়। এখন সব আয় বন্ধ হয়েছে। আপনি সবশ্রেণী, পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকারা কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিচ্ছেন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তাদের নিয়ে একটু চিন্তা করলে উপকৃত হত আমাদের জন্য। আপনি আমাদের অভিভাবক। আপনাকে না বললে কাকে বলবো? আপনি করোনায় ঘরবন্ধী মানুষের জন্য হাজার কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছেন। তার থেকে এক ভাগ সকল কওমী মাদরাসা ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সকল কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আসতো না। এছাড়া সামনে রমজান মাস। এই মাসে প্রত্যান্ত অঞ্চলে কওমী মাদরাসা সমূহ জকাৎ, ফিতরা আদায় করে থাকে। সে টাকা দিয়ে হোস্টেলে থাকা গরীব অসহায় ছাত্র/ছাত্রীদের দৈনিক খাবার, ঔষধ পত্র, সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীর বেতন আদায় করে। সাধারন চাঁদা হতে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীর বেতন আদায় করা হয়। কন্তিু করোনায় হইত আসন্ন রমজান মাসে ওইসকল মাদরাসার আয়ে ঘাটতি পড়তে পারে। বিধায় আপনি একজন ধর্মপরায়ন, পর্দানশীন ও দেশের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের অভিবাক হিসাবে বিষয়টি বিবেচনা করলে হইত কওমী মাদরাসাসহ সকল বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীদের বেতন আদায় সহজ হত। দূর হত তাদের পরিবারের দুঃখ ও দূর্দশা।

অতএব, বিণীত অনূরোধ আপনার বিবেচনা পূর্বক বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

No comments:

Post a Comment

Pages