রূপসার জোয়ার নামক গ্রামে তরমুজ চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, April 29, 2020

রূপসার জোয়ার নামক গ্রামে তরমুজ চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

এফ এম বুরহান,রূপসা প্রতিনিধিঃব্যবসার উদ্দেশ্যে এই প্রথম  তরমুজ চাষে ভাগ্য ফিরেছে রূপসার চাষী মোঃ ইমরান শেখ ও মোঃ টিটো শেখ এর । ক্ষেত থেকে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ তরমুজ। ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমন হয়েছে সুস্বাদু। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে তাদের এই সফলতা বলে জানালেন ওই দুই কৃষক। তাদের সাফল্যে এলাকায় পড়েছে ব্যাপক সাড়া। প্রতিদিন ক্ষেত দেখতে আসছে এলাকার অসংখ্য উৎসুক মানুষ। কেউ আসছে ক্রেতা হিসেবে। আবার কেউ আসছে এক নজর দেখতে। অনেকেই ইমরান ও টিটোর সাফল্য দেখে এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আগামীতে তরমুজ চাষে এ এলাকায় কৃষি বিপ্লব ঘটবে বলে দাবি স্থানীয়দের।
রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের জোয়ার এলাকার বাসিন্দা মৃত দৌলত আলী শেখের ছেলে চাষি মোঃ ইমরান শেখ ও তার ভাইপো একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম শেখের ছেলে মোঃ টিটো শেখ গেল বছর ধান চাষে আশানুরুপ ফলন পায়নি। অনেকটা হতাশ হয়ে তারা পরামর্শ নেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের। এ সময় তাদের তরমুজ চাষের পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর। কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তারা প্রথমবারের মতো ৮ আট একর জমিতে সুইট ড্রাগন (সাদাটে) ও পাকিজা (কালো) এই দুই জাতের তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাছি পোকা দমনে ক্ষেতে স্থাপন করা হয় সেক্স ফেরোমন ফাঁদ। বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হয়েছে বিশ হাজার টাকা। ফলনও হয়েছে বাম্পার। গড়ে তরমুজের ওজন হয়েছে প্রায় চার কেজি। ক্ষেত থেকে পাইকারি ভাবে পনের টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে এসব তরমুজ। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক তরমুজ বিক্রি করেছেন চাষি ইমরান শেখ ও টিটো শেখ। সাধারণত ডিসেম্বরের শেষে তরমুজের বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের তিনমাস পর তরমুজ বিক্রি শুরু হয়।  
জোয়ার গ্রামের মোঃ ইকবাল শেখ বলেন, ‘গত বছর ধানের ফলন ভালো না হওয়ায় এলাকার কয়েকজন কৃষক তরমুজ আবাদে ঝুঁকে পড়েন। তিনি বলেন, ফলনও হয়েছে বাম্পার। ফলে আগামীতে কৃষকরা তরমুজ আবাদে বেশি  আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’ 
তরমুজ চাষি মোঃ ইমরান শেখ বলেন, ‘গেল বছর ধান চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করেন কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফরিদুজ্জামান। এমনকি ক্ষেত শুরু করার থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিতেন তিনি। ফোন করলেই উনি আমাদের ক্ষেতে চলে আসেন। এখনো উপজেলা কৃষি অফিস থেকে খোঁজ-খবর নিতে আসেন।
আর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার তো প্রতিনিয়ত খোজ-খবর রাখেন। যে কারণে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তরমুজের দাম একটু কম। তারপরও ক্ষেত থেকে পাইকারি ১৫  টাকা ও খুচরা ২০ টাকা কেজিদরে ৫ শতাধিক তরমুজ বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা না পেলে কোন ভাবেই চাষাবাদ করে এ পর্যন্ত আসতে পারতাম না। আগামীতে আরো বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানালেন তিনি।   
উপজেলার মৈশাঘুনি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নীতিশ চন্দ্র বালা বলেন, প্রথমবারের মত তরমুজ চাষে আগ্রহী ইমরান ও টিটোকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহায়তা করা হয়েছে। এমনকি আমি এই ব্লকের দায়ীত্বে থাকার সুবাদে প্রায় প্রতিদিন খোঁজ-খবর নিয়েছি। তিনি বলেন, তরমুজ লাভজনক ফসল। তাই কিভাবে ফলন ভালো হয় সে ব্যাপারে কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক তদারকি করেছে।

No comments:

Post a Comment

Pages