কৃতিত্ব ব্যক্তির নয়, সিটিটিসি'র একদল নবীন সদস্যের,আমি শুধু পথ দেখিয়েছি! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, April 4, 2020

কৃতিত্ব ব্যক্তির নয়, সিটিটিসি'র একদল নবীন সদস্যের,আমি শুধু পথ দেখিয়েছি!

উজ্জ্বলরায় নিজস্ব প্রতিবেদকঃ    
"শুধুমাত্র সঠিক নেতৃত্ব না থাকার কারনে অনেক সংগঠন ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু করলেও মুখ থুবড়ে পড়ে, আবার দূরদর্শী ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের কারনে তরতর করে দাড়িয়ে যায় একটি সংগঠন। শূণ্য থেকে শুরু করে কিভাবে বৃত্তে পরিণত হতে হয় সে কাহিনী জানতে হলে জানতে হবে সিটিটিসির গত তিন বছরের ইতিহাস।যার সাথে জড়িত অত্র ইউনিটের প্রধান জনাব Monirul Islam এর নাম।পাশাপাশি এই কৃতিত্বের আরেকজন যোগ্য দাবীদার সহজাত ও সফল নেতৃত্বের অধিকারী সিটিটিসির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল এর দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশাল একশন গ্রুপের ডিসি Pralay Jourder, যার নেতৃত্বে সোয়াট ,ডিএমপি আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বব্যাপী আইএস এর আগ্রাসনের ঢেউ ইরাক সিরিয়ার দজলা ফোরাত হয়ে আছড়ে পড়েছিল বঙ্গোপসাগরে। হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে আবারো সন্ত্রাসবাদের উত্থানের মাধ্যমে তথাকথিত জিহাদীরা যখন দেশকে আফগানিস্তান , সিরিয়া বানিয়ে অকার্যকর ব্য্রথ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছিল তখনই সিটিটিসির সফল অধিনায়ক স্যারের নেতৃত্বে একদল নবীন ও অভিজ্ঞ অফিসারদের নিরলস প্রচ্ষ্টায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে , ঘুরে দাড়ায় বাংলাদেশ পুলিশ। একের পর এক অভিযানে ভেঙ্গে পড়েছে জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক।
গত তিন বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগর মনিরুল ইসলাম স্যারের নেতৃত্বে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরনে সন্ত্রাসবাদ দমনে আভিযানিক সাফল্যের পাশাপাশি ইউনিটের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী একটি সহনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষনা, তরুনদের উদ্বুদ্ধকরন, সন্ত্রাসবাদের শিকার পরিবারসমূহ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সাথে মত বিনিময়ের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপ, কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেষ্টিগেশন, সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম এবং ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম- এই চারটি ডিভিশনের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষন, অপরাধীদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটিটিসি। গত ১ জুলাই ২০১৬ খ্রি. গুলশানের হলি আর্টিজানে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহতায় বিশ্ববাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশকে নিয়ে, দেশের সাধারণ মানুষ হয়ে পড়েছিল স্তম্ভিত, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছিল এ নজিরবিহীন সন্ত্রাসবাদী হামলা। এছাড়াও বিভিন্ন প্রগতিশীল লেখক, মুক্তমনা ব্লগার/এ্যাক্টিভিস্টদের হত্যার মাধ্যমে সমাজে অসহিষনুতা তৈরী ও দেশের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করতে উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে তরুণ সম্প্রদায়কে। বিব্রতকর এই নেতিবাচক চিত্রটি পাল্টে দিয়েছে গত তিন বছরে সিটিটিসির একের পর এক সফল অভিযান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সিটিটিসি কর্তৃক ১৯ টি যরময ৎরংশ অপারেশনে মোট ৬৩ জন নিহত ও ০৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, উগ্রবাদি বই পুস্তকসহ নানা সরঞ্জামাদি। এছাড়াও সাইবার অপরাধীসহ ৫৩৫ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা ও অর্থদাতা, প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষক ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে সিটিটিসি সারাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে বিধ্বস্ত করেছে। ইতোমধ্যেই হোলি আর্টিসানে ভয়াবহ হামলার রহস্য উদঘাটন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত নিষ্পন্ন করে গত ২৭/০৬/২০১৮ তারিখে এ ঘটনার সাথে জড়িত ২১ জনের ( জীবিত ০৮, মৃত ১৩, পলাতক ০২ জন) মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকার কল্যাণপুর, রূপনগর, আজিমপুর, দক্ষিণখান, মোহাম্মদপুরে সিটিটিসির সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সংক্রান্তে রুজুকৃত মামলাসমূহের তদন্ত সম্পন্ন করেছে। সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ ই-মেইল হ্যাকিং, ফেইসবুক ক্লোনিং, সাইবার হ্যারাজমেন্ট, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি ইত্যাদি নানাবিধ অপরাধে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদান করছে। সাইবার অপরাধীদের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরাও উগ্রবাদকে উদ্বুদ্ধকরন, রিক্রুটমেন্ট, ট্রেনিং, অর্থ সংগ্রহ করছে, এ সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে অত্যাধুনকি প্রযুক্তি নির্ভর Digital Forensic Laboratory এবং Internal Investigation Laboratory এর মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশকে প্রযুক্তগিত ও ফরনেসকি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সাইবার বিভাগের হেল্পডেস্কে ১লা জানুয়ার/২০১৮ খ্রিঃ হতে ১৫ নভম্বের/ ২০১৮ খ্রিঃ পর্যন্ত মোট ১৫৭৯টি অভিযোগ গ্রহণ করা হয় যার মধ্যে ৭৮৬টি অভিযোগ নিস্পত্তি করা হয়। বোম্ব ডিসপোজাল টিম, প্রশিক্ষিত কেনাইন স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ইনভেষ্টিগেশন টিম এবং এন্টি ড্রাগস ও এন্টি ইলিগ্যাল আর্মস রিকভারি টিম নিয়ে গঠিত স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপ' সন্ত্রাসবিরোধী অভযিান পরিচালনা করছে। গত বছরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সর্বোমোট ৩৮২ টি অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়করণ টিম মতামত প্রদান করেছে। SWAT ও বোম্ব ডিসপোজাল টিমের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংযোজিত হয়েছে SWAT VAN এবং দুটি রিমোটলি অপারেটেড ভেহিক্যাল (আরওভি)। 
আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সাথে সমন্বয়পূর্বক সন্ত্রাসীদের অর্থায়নসহ বিভিন্ন ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম মোকাবেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিহত লেখক, ব্লগার, এ্যাক্টিভিস্টদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা, সিকিউরিটি এক্সপার্ট, এ্যাকাডেমিশিয়ান, এনজিও, সাংবাদিক, ধর্মীয় স্কলার এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপ। সিটিটিসি ইউনিট ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক গবেষনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগিতায় সন্ত্রাসবাদের কারণ এবং তরুনদের র‌্যাডিক্যালাইজেশন সংক্রান্তে দুটি গবেষনা এবং ইউএনডিপির অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড বিভাগের সহযোগিতায় সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক পাাঁচটি গবেষনা কর্মের কাজ চলমান রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও প্রতিশ্রুতির ফলস্বরূপ কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি একনেকের সভায় সিটিটিসির অনুকূলে ৩৫৬ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ন ও দক্ষ ইউনিট হিসেবে সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে সিটিটিসি এর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। (সহকর্মীর ওয়াল থেকে কপি)
শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন স্যারসহ অত্র ইউনিটের সকল সদস্যদের।

No comments:

Post a Comment

Pages