নিন্দুকের নিন্দায় মানুষ সফল হয় ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, April 8, 2020

নিন্দুকের নিন্দায় মানুষ সফল হয় ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com

এই জগৎ সংসারটা বড়ই বিস্ময়কর। কেউ কারো উন্নতি সহ্য করতে পারে না।মানুষ এ কারণেই বেশি শুকিয়ে যায় যে পাশের বাড়ির লোকটি উন্নতি করছে কেন।মানুষের উন্নতিতে হিংসা করা লোকদের সংখ্যা সমাজে কম নয়।দিন দিন হিংসা নামক রোগটি বেড়েই চলছে।ব্যক্তিগত,পারিবারিক  সামাজিক,  রাজনৈতিক হিংসা বেড়েই চলছে।একে অন্যের উন্নতি কিভাবে রূখে দিবে তা নিয়ে হরদম গবেষণা চালিয়ে যায়।আল্লাহ যদি কাউকে উন্নতি দেয় তাহলে অন্যজনের হিংসা উন্নতি কখনো দাবিয়ে রাখতে পারে না।রাতের অমানিশা দেখে ভয়ে পায় না স্বপ্নচারী বিপ্লবীরা।অপেক্ষায় থাকে ঝলমলে প্রভাতের।কথায় আছে,রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে।মানুষের দুঃখ স্থায়ী হয়না।কঠিন দিন পেরিয়ে নতুন প্রভাতের ত
দৃপ্তীমান সূর্য  দূর করে মানুষের মলিন বদন।হিংসা করে কেউ কারো উন্নতি ঠেকাতে পারে না।বরং হিংসুকের হিংসা আর নিন্দুকের নিন্দা কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পারলেই জীবনে সফল হওয়া সহজ ব্যাপার।
মানুষের মাঝে দুটি স্বভাব রয়েছে। একটা মানবিক আর অন্যটি হলো পাশবিক।মানুষের মাঝে যদি মনুষ্যত্ববোধ থাকে তাহলে মানুষকে সমাজের মাঝে সম্মানের আসনে আসীন করে ।আর পাশবিকতা মানুষকে পরিণত করে ঘৃণার পাত্রে।জগৎ সংসারে যারা সফল হয়েছেন তাদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাদের জীবনে হিংসুক আর নিন্দুকের অভাব ছিলনা।নিন্দুকের নিন্দা আর হিংসুকের হিংসাকে পায়দলে এগিয়ে গেছেন সফলতার স্বপ্নীলভূবনে। স্বপ্নচারী বিপ্লবী অভিযাত্রীরা কখনো পশ্চাতে তাকায় না।তাদের গতি সর্বদা সম্মুখে চলে।একটি সিংহের গতির চেয়ে একটি হরিণের গতি অনেক বেশি।তা স্বর্থেও হরিণ সিংহের কাছে পরাজিত হয়।সিংহ সদা সম্মুখে চলে।একটা সিংহ যখন হরিণকে তাড়া করে তখন হরিণ কিছুদূর যাওয়ার পর একটু একটু পশ্চাতে তাকিয়ে দেখে সিংহ তার থেকে কতদূর।এতে করে হরিণের গতি কিছুটা কমে যায়।যার ফলশ্রুতিতে হরিণ সিংহের খাবারে পরিণত হয়।পক্ষান্তরে, সিংহ দুর্বার বেগে হরিণ কে তাড়া করে।এই তো আর একটু হলেই  হরিণ কে  ধরতে পারব।তার এই মানসিকতা তাকে অনুপ্রাণিত করে। ফলে সে শিকারে সফল হয়।যারা একটু একটু করে সফলতার মুখ দেখছেন তাদের উচিত হবে পেছনে কে, কি বলছে সে দিকে কান না দেওয়া।আপন গতিতে সফলতার পানে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

আপনি যখন সফলতার দিকে পা বাড়াবেন তখন দেখবেন প্রতি পদে পদে বাধা এসে উপস্থিত।পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গেলেই আপনার হাতে কাঁটা বিঁধার সম্ভাবনা থাকবে।রংধনুর সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে চাইলে বৃষ্টিকে হাসিমুখে বরণ করতে হবে।পৃথিবীতে সুখের পথও কুসুমাস্তীর্ণ নয়।নানা বাধা -বিঘ্ন, দুঃখকে অতিক্রম করে সুখ লাভ করতে হয়।জীবনে যারা সমস্ত বাধা-বিপত্তি, দুঃখ-দৈন্যকে তুচ্ছ করে আপন  লক্ষ্য সাধনে স্থির ও অটল থাকে  কেবল তারাই পায় ইপ্সিত বস্তুর সন্ধান।জীবনে তারাই পৌঁছতে পারে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে। তাই তো কবি বলেছেন,-- কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে
দুঃখ বিনে সুখ লাভ হয় কি মহীতে?সুখ পেতে চাইলে কষ্টকে মেনে নিতে হয়।ঝলমে প্রভাত পেতে চাইলে রাতের ঘণঘোর অন্ধকারকেও মেনে নিতে হয়।পরিশ্রম,অধ্যাবসায় আর সাধনার ফলে সফলতা অর্জন সম্ভব।হিংসুকরা পশ্চাতে আপনার বদনাম করবে।তাতে আপনি কর্ণপাত করবেন না।কথায় আছে- 
সুজনে সুযশ গায় কুজন ঢাকিয়া 
কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া।অতীতের ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিতে পারলেই সফলতা হাতের কাছে।মনে রাখবেন-- 
পরিশ্রমে ধন আসে
পুণ্যে আনে সুখ।
অালস্যে দরিদ্রতা আনে
পাপে আনে দুঃখ।
আপনি নিজেকে যতই ভালো প্রমাণ করতে চান না কেন তবুও আপনি সবার কাছে প্রিয় হতে পারবে না। তাই সবার কাছে জনপ্রিয় হওয়ার কথা ভাবাটা বোকামী।

আপন গতিতে চলুন। পশ্চাতে কে কি বলছে তা দেখার সময় নেই।কামিনীয় রায় এর কবিতা মনে পড়ে গেল।

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয়, সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে অাড়ালে থাকি,
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

কবি বুঝাতে চেয়েছেন,পাছে লোকে কিছু বললেও আপনার গতি থামাবেন না।নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার নামই হল স্বপ্নচারী বিপ্লবী অভিযাত্রীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাছে লোকের কথায় কান দিতে গেলে আপনার চলার গতি থেমে যাবে।নিজের লক্ষ্যে অটুট থেকে নিরন্তর সাধনার মাধ্যমে আপনি সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছতে পারবেন। আপন গতিতে, আপন লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রয়োজন কঠিনসাধনার।দুঃখ কষ্টকে হাসি মুখে বরণ করে সুখের তাগিদে কাজ করে যেতে পারলেই সফলতা হাতছানি দিয়ে আপনাকে ডাকবেই।আপনার উচিত হিংসুক ও নিন্দুকের কথায় কর্ণপাত না করে আপন লক্ষ্যে অটুট থেকে কাজ করে যাওয়া।তাহলে আপনি সফল হয়েছেন ইনশাঅাল্লাহ।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages