বাংলাদেশের আলোচিত ৩ চেয়ারম্যান,জনসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, April 11, 2020

বাংলাদেশের আলোচিত ৩ চেয়ারম্যান,জনসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন ||amarkhobor24.com

বিশেষ প্রতিবেদকঃ   
অঘোষিত লকডাউন চলছে।হতদরিদ্র মানুষ  খাবারের অভাবে ছটফট করছে। অভাব অনটনে চারদিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে উঠছে নিন্ম আয়ের মানুষের৷ 

পিতা- মাতার সামনে ক্ষুদার্ত সন্তারা কান্না করছে৷  অভাবের কষ্টে সন্তানের সামনে মা-বাবাও কান্না করছে। করোনা ভাইরাসের উদ্ভুত এমন পরিস্থিতিতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে চাউল চুরি করে ধরা পড়তেছে কিছু চেয়ারম্যানরা এবং কিছু  ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। সরকারি গরিবের চাউল লুটপাট  চুরি চলছেই চলছে। মিডিয়াতে প্রতিদিন এমন খবর আসতেছে।এসব দেখে সচেতন মানুষের মনে কষ্টের আঘাত লাগছে।এত হতাশার  মাঝেও আশার প্রদীপ হয়ে অনেকেই মানবসভ্যতার ও জনকল্যাণমুখী সেবার অনুকরণীয়  দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচিত এমনি কয়েকজন চেয়ারম্যান হলেন,
 ১/ লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর মেয়ের জামাই। আল্লাহপ্রেমী, সৎ ও জনদরদি একজন চেয়ারম্যান। চালচলনে, পোশাক-আশাকে তিনি একজন সাদামাটা মানুষ হলেও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে খুবই সচেতন। ৬৮ বছর বয়সী প্রবীণ এ আলেম মানুষের কাছে ‘মিরপুরী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি করোনার প্রাদুর্ভাবে সারা দেশে যখন লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন তিনি ঘরে আটকা পড়া গরিব-অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে নিজ দায়িত্বে খাদ্য সহযোগিতা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।সম্প্রতি  করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে তিনি  এলাকার জনগণের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, ‘অভাবের কারণে আমার ইউনিয়নে যদি কাউকে না খেয়ে থাকতে হয়, তবে আমি সাইফুল্লাহ সর্বপ্রথম না খেয়ে থাকব। কারো ঘরে ভাতের চাল না থাকলে, কারো পকেটে সদাই করার টাকা না থাকলে, সরাসরি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আমার পকেটে টাকা থাকতে, আমার ঘরে এক মুঠো চাল থাকতে, চরকাদিরায় কেউ না খেয়ে থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।’         

 ২/ বরিশালের  চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের স্বনামধন্য সফল চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।
নির্বাচিত পর থেকেই জনগনের খাদেম হয়ে তিনি কাজ করছেন।রাতে নীরবে ঘুরে ঘুরে এলাকার খোঁজখবর রাখেন। হতদরিদ্র মানুষের তালিকা নিজেই করেন। এবং সঠিক বন্টন করে নিজে সবার হাতে তুলে দেন। সরকারি বরাদ্দ সকল কিছু শতভাগ তিনি নিজে তদারকি করে সম্পন্ন করেন।জনগণের পাহারাদার হয়ে শুধু থাকেন। কাজের দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সহ ইউনিয়নের সবার মন জয় করেছেন।করোনা পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে কয়েক দফা নিন্ম আয়ের প্রায় হাজারো পরিবারের মাঝে  খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে বিতরণ করেছেন।     

চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, আমি নিজেকে জনগণের খাদেম মনে করি। জনগনের সঠিক হক আদায় করাটাই আমার কাজ। সঠিক বন্টন ও কাজের  আমি শুধু একজন পাহারাদার মাএ।'      

৩/ লালমনিরহাটের আধিতামারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলাউদ্দিন আলাল।ইতিমধ্যে জনকল্যাণমুখী সেবা দিয়ে ইউনিয়নের মানুষের কাছে আপনজন পরিনত হয়েছেন।বন্যার সময়ও গলা সমান পানি দিয়ে মাথায় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।দিনে একা একা ঘুরে ঘুরে মানুষের খোঁজখবর নেন সবসময়। ইউনিয়নের জনগণ আপন করে 'আলাল ভাই' বলেই ডাকেন।  সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে তিনি চাউল সঠিক বন্টন করে নিজে তালিকা করে করে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। খাদ্য সামগ্রীর বস্তা মাথায় নিয়ে রাতে হাজির হচ্ছেন বাড়ির দরজায়। তার জনসেবা দেখে অন্য রাজনৈতিক দল ও ভীন্ন মতের  মানুষেরাও তাকে আপন করে নিয়েছেন।  সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।   

চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলাউদ্দিন আলাল বলেন, জনগনের প্রকৃত সেবার মাঝেই আনন্দ পাই।  নিন্দিত না হয়ে বরং জনগনের ভালোবাসা নিয়ে মরতে চাই। আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় থাকলে জনগনের হক ও অধিকার কেউ নষ্ট করতে পারে না। আমার ইউনিয়নের জনগনকে  পরিবার মনে করে ভালোবাসা দিয়ে বুকে আগলে রেখেছি।'                                        

সারাদেশে আলোচিত ৩ টি ইউনিয়ন এখন জনকল্যাণমুখী সেবা দেখিয়ে অনুকরণীয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদে পরিনত হয়েছে।    

No comments:

Post a Comment

Pages