মার্কিন-তালিবান চুক্তি ও পাক-ভারত সমীকরণ ||শফিকুল ইসলাম ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, April 1, 2020

মার্কিন-তালিবান চুক্তি ও পাক-ভারত সমীকরণ ||শফিকুল ইসলাম ||amarkhobor24.com

গত ২৯ শে ফেব্রুয়ারী কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন এবং তালিবানদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘোষনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট। উল্লেখ্য ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১৯ বছর ধরে চলা নানা সহিংসতার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে আসতে বাধ্য হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক বিবৃতে বলেন ‘’তালিবানরা আসলেই মহান যোদ্ধা আর এটা যদি আপনার বিশ্বাস না হয় তাহলে সোভিয়েত ইউনিয়নকে জিজ্ঞেস করতে পারেন’’। তার বিবৃতে এটা সুস্পষ্ট যে তালিবানদের সাথে যুদ্ধ করে তারা ক্লান্ত হয়ে গেছে। শুধু তালিবানদের সাথে চুক্তি করেই যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে এটা নিছক গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়। তালিবান ছাড়াও আফগানিস্তানে আরো অনেক  বাহিনী বিদ্যমান। শান্তি চুক্তি করার দুইদিন পরেই সশস্ত্র বাহিনী তালিবান যোদ্ধাদের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা করে। অন্যদিকে মার্কিন-তালিবান চুক্তি সম্পন্ন হলেও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সাথে এ বিষয়ে কোন বিস্তর আলোচনা কোন পক্ষই করেনি। সংগত কারনেই এ দিকটাতে একটু সংকট লক্ষ করা যায়। আফগানিস্তানের বিভিন্ন কারাগারে তালিবানের প্রায় পাচ হাজার সৈন্য বন্দি আছে। তালিবানরা ঘোষনা দিয়েছিলেন যে তাদের সৈন্যদের মুক্তি না দিলে সরকারের সাথে কোন আলোচনা করবে না। যদিও প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি কিছু সৈন্য মুক্তি দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন  তবে সেটা কতদূর পর্যন্ত সম্ভব হবে সেটা দেখার বিষয়। এদিকে মার্কিন-তালিবান চুক্তিকে কেন্দ্র করে পাক-ভারতের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় যদিও বিষয় গুলো খুব বেশি প্রকাশিত নয়। তালিবানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাকিস্তান সর্বময় সহায়তা করেছে এটা কোন রাজনীতি সচেতন ব্যক্তির অজানা থাকার কথা নয়। পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র সরবরাহ , তালিবান যোদ্ধাদের প্রশিক্ষন প্রদান সহ অনেক অর্থনৈতিক সহায়তা পাকিস্তান তালিবানদের করেছে। আর এর প্রতিদান হিসেবে তালিবানরা কখনই পাকিস্তানকে ভুলে যাবেনা সেটা তারা খুব সহজেই স্বীকার করে নিয়েছে। তাহলে সহজেই এটা বুঝা যায় যে যদি কখনও তালিবান সরকার গঠন করতে পারে তাহলে কাবুল এবং ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরো বেশি সুসংবদ্ধ হবে। বিপরীতে নয়াদিল্লীর মাথায় হাত। ভারত আফগানিস্তানে অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছে। যদি তালিবান সত্যিই সরকার গঠন করতে পারে তাহলে তাদের এই বিনিয়োগে কোন সফলতা পাবেনা বিষয়টা বুঝতে কারো অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগও মাঝে মঝে নয়াদিল্লির প্রতি আনা হয়। ভারতের প্রতি তালিবানের নেতিবাচক দৃষ্টিভংগি হওয়ার পিছনে যে কোন কারন নেই তা নয়।  তালিবানরা ভারতকে শত্রু দেশ বলে মনে করে কারণ ৯০-এর দশকে ভারত তালিবান বিরোধী নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সমর্থন জানিয়েছিল। এখন কাবুল এবং ইসলামাবাদ যদি এক হতে পারে তাহলে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ সুরক্ষিত থাকবে অন্যদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী সশস্র সংগঠনকেও তারা ভালো ভাবে মদদ দিতে পারবে। অর্থাৎ মোটামুটিভাবে ভারত একটু কোণঠাসার মধ্যে পড়বে। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করা হয়। তালিবানরা যা চেয়েছিল, তাই পেয়েছে। সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বন্দিমুক্তি। এরফলে পাকিস্তানের হাতও শক্ত হয়েছে। পাক সেনা ও আইএসআইয়ের প্রভাব বাড়তে চলেছে। এ কথা কোথাওই অস্পষ্ট রাখা হয়নি যে তারা ইসলামিক শাসন চায়। তবে মার্কিন- তালিবান এই চুক্তির মাধ্যমে তালিবানদের যে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা । দীর্ঘ দেড় যুগ যুদ্ধ করার পরে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তালিবানদের সাথে শান্তিচুক্তি এটা তাদের
নিশ্চিত পরাজয়। যারা এক সময় তালিবানদের জংগি- সন্ত্রাসী বলেছিল এখন তারাই তাদের মহান যোদ্ধা বলছে। সর্বশেষ দেখা যাক এই শান্তি চুক্তি কতটুকু কার্যকর এবং কতদূর স্থায়ী হয় । সেই সাথে ভারত- পাকিস্তানের রাজনীতি কোন দিকে গড়ায়।


লেখকঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম  নিয়ামত
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

No comments:

Post a Comment

Pages