ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে হিংসুকদের পাতানো ফাঁদ |||নুর আহমেদ সিদ্দিকী |||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, April 4, 2020

ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে হিংসুকদের পাতানো ফাঁদ |||নুর আহমেদ সিদ্দিকী |||amarkhobor24

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে আলোচিত নাম।টেকনাপ থেকে তেতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া সমানতালে কাজ চলছে দলটির।জ্যামিতিকহারে বাড়ছে ভোট ও দলীয় কর্মী।দলটির বর্তমান আমির হলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই এবং দলের শীর্ষ নেতা ও সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ  ফয়জুল করিম।দলটির মহাসচিবের  দায়িত্ব  পালন করছেন প্রিন্সিপ্যাল ইউনুছ আহমদ।দেশ ও বিদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত আমির ও নায়েবে আমির।অন্যান্য দলে আমির ও মহাসচিব বেশি অালোচিত হয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়।
বিএনপিতে চেয়ারপারসন বেগম জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল যেমন সর্বাধিক আলোচিত তেমনি আওয়ামী লীগেও তাই। জামায়াতেও  গোলাম আজমে/ নিজামীর চেয়ে সাঈদি সাহেব আলোচিত বেশি ছিলেন।দলের আমির/ সভাপতি/ চেয়ারম্যানের চেয়ে সহসভাপতি বা নায়েবে আমির বেশি অালোচিত হলে যোগ্যতা আমির থেকে বেশি হয়ে যায়না।যারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির থেকে নায়েবে আমির বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে মনে করেন তাদের মধ্যে দুটি পক্ষ রয়েছে।প্রথম পক্ষ, ভালোবেসে এবং না বুঝে সেই থিউরিতে বিশ্বাস করে, দ্বিতীয় পক্ষ, দলের মধ্যে পাটল ধরানোর জন্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির থেকে নায়েবে আমির  বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে প্রচার করে।দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় প্রধানের প্রতি নেতা কর্মীদের অনাস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এমন প্রচারণা চালায় হিংসুকরা।

বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগ( ১৯৫৫ সালে পরির্বতন হয়ে আওয়ামী লীগ হয়েছে)  সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষাণী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান এর মাঝে পাটল সৃষ্টি করতে পাকিস্তান পন্থীরা ( জামায়াতও গণ্য হবে)  প্রচার করত ভাষাণী থেকে শেখ মুজিবুর রহমান বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন।পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে ঠিকই পাটল ধরেছিল।মাওলানা ভাষাণী নিজে প্রতিষ্টিত আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুনভাবে গঠন করেন ন্যাপ( ন্যাশনাল পার্টি)।এটা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যে হিংসুক ও বিরোধী পক্ষের এমন প্রচারণা ।এতে দলীয় নেতা কর্মীরা অনেকটা বিভ্রান্তও হয়ে থাকে।

আমি মাঝে মাঝে ইসলামী আন্দোলনের কিছু কর্মীদেরও দেখেছি আমির থেকে নায়েবে আমির বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে প্রচার করতে। এটা মূলত শত্রুদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়ার মত।শত্রু পক্ষ এতে সফল হয়।তাদের মূল টার্গেট আমিরের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি।আমিরের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারলেই তারা সফল।এই জন্যে অনেকে দেখবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির থেকে নায়েবে আমির বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে প্রচার করছে।এরা নায়েবে আমির কে ভালোবেসে এমনটা প্রচার করছে তা নয় বরং তারা শত্রু দ্বারা শত্রু নিধন পদ্ধতি অনুসরণ করে।তারা যার সুনাম করে তাকেও শত্রু বলে মনে করে এবং যাকে কম যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করে তাকেও শত্রু মনে করে।সুতরাং শত্রুর সাথে শত্রু যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্যে।এটা কাঁটা দিয়ে কাটা তোলার মত।

আমি কওমী ঘরানার অনেকে ইসলামী দলের নেতা কর্মীদেরও এমন দেখেছি যারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির থেকে নায়েবে আমির বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে প্রচার করে।তাদের লক্ষ্যে উদ্দেশ্যে কি জানিনা।তবে এটাই বাস্তব যে,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও নায়েবে আমির দু'জনই যোগ্যতা সম্পন্ন তা তো বটে দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা নেতৃবৃন্দও যোগ্যতা সম্পন্ন।দলীয় নেতারা যদি যোগ্যতা সম্পন্ন না হতো এত অল্প সময় দলটি জনতার হৃদয়ে আসন গাঁড়তে পারতনা।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা কর্মীদের প্রতি আমার প্রশ্ন - আমির যদি যোগ্যতা সম্পন্ন না হয় তাহলে এতটা সফলতা কিভাবে অর্জন হলো? কিভাবে সংসদের বিরোধী দল ( গুহপালিত)  কে টপকিয়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল? আমিরের প্রতি অগাধ আস্থা রাখুন।হিংসুকদের পাতানো ফাঁদে পা দিতে যাবেন না।

এমন প্রচারণা জামায়াত শিবির কর্তৃকও দেখা যায়।অথচ তাদের মতিউর রহমান নিজামী থেকে সাঈদিকে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে মনে করা হত।তবুও সাঈদি সাহেব নায়েবে আমির ছিলেন।এটাই বাস্তব সত্য যে জামায়াত স্ববিরোধী রাজনৈতিক দল।নিজেদের বেলায় যা সঠিক অন্যের বেলায় তা বিপরীত।তারা পীর মুরিদের বিরোধিতা করে অথচ তাদের দলে শতাধিক পীর আছে( প্রমাণ রয়েছে)।তারা যুগে যুগে সব দলের দালালি করে আসছে আর চরমোনাই পীর সাহেব ও তাঁর দলকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে।অথচ তারাই ১৯৯৬ সালে বিএনপির সাথে বেঈমানি করে আওয়ামী লীগের সাথে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছিল। স্ববিরোধী শব্দটি জামায়াতের জন্যে পারফেক্ট। তাই ইসলামী আন্দোলন ববাংলাদেশ আমিরের চেয়ে নায়েবে আমির বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন এমন প্রচারণা হিংসুকদের পাতানো ফাঁদ মাত্র।দলের প্রতি, দলের আমিরের প্রতি অাস্থা রাখুন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্টার ৩২ বছরে সব চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ২০০৯ সালের পর থেকে।২০০৬ সালের ২৫ নভেম্বর সাবেক আমির আল্লামা সৈয়দ ফজলুল করিম ইন্তেকাল করলে আমিরের দায়িত্ব পান তাঁর তৃতীৃয ছাহেবজাদা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।সাত ভাইয়ের মধ্যে উনাকেই সবচেয়ে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে মনে করায় দলীয় শুরা কমিটি তাঁকেই আমির নির্বাচিত করেন।আমির নির্বচিত হওয়ার দুই বছরে মধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে চমক দেখান তিনি।২০০৯ সালে ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে বাধ দিয়ে বাংলাদেশ কে মরুভূমিতে রূপান্তরিত করার নীলনঁকশা প্রণয়ন করেছিল তখনই রাজপথে গর্জে উঠেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও,দেশব্যাপি তুমুল আন্দোলনের পরেও যখন ভারত সরকার তাদের ষড়যন্ত্র থেকে সরছে না তখন ভারতের টিপাইমুখ অভিমুখে তিন দিন ব্যাপি লংমার্চের ডাক দেন।লংমার্চে আওয়ামী লীগ আর জামায়াত ছাড়া সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল।ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সফল লংমার্চের নেতৃত্বদানকারী হলেন আজকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই।সেদিন থেকে বিশ্ববাসী চিনতে পেরেছে পীর সাহেব চরমোনাই কে? কি তাঁর পরিচয়?  কি তাঁর যোগ্যতা? আসুন হিংসকুদের মুখে চুনকালি লেপন করতে আমিরের যোগ্যতার নমুনা প্রচার করি।সব কথার এক কথা আমির ও নায়েবে আমির দুজনের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতা রয়েছে।তাই বলে, আমিরের চেয়ে নায়েবে আমিরের যোগ্যতা বেশি এমনটা ভাবা অমুলক।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages