জোবায়ের আনসারি (রহঃ) জানাজা ও করোনার ভয়াবহতা, আমাদের মানসিকতা ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, April 27, 2020

জোবায়ের আনসারি (রহঃ) জানাজা ও করোনার ভয়াবহতা, আমাদের মানসিকতা ||amarkhobor24

SARS-CoV2 বা nCoV একটি RNA ভাইরাস। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জার মত ফ্লু সৃষ্টি করতে পারে। তা মানলাম কিন্তু করোনা খুবই দ্রুত ছড়াই। তাই আমরা ধারণা করতেই পারি আনসারি (রহ) জানাজায় ১ জন করোনা রোগী থাকলে হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু আমাদের এ ধারণার ভিত্তি কতটুকু মজবুত? কেউ আনসারি (রহঃ)কে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেছেন, আবার কেউ এত মানুষ জানাজায় আসার কারণে আনসারি হুজুরকেই দ্বায়ী করেছেন। আবার কেউ আগ বাড়িয়ে সেখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছেন। যার যত ক্ষমতা তা দেখিয়েছেন। আমরা যে এসব করেছি তা আমাদের দোষ না। এসব দোষ আমাদের সিস্টেমের। 
মজার কথা হচ্ছে একজন করোনা রোগী থেকে তা ছড়ানোর রেট ২/২.৫। অর্থাৎ একজন করোনা রোগী ২ থেকে ২.৫ জন কে আক্রান্ত করতে পারে (https//bit.ly/2XO7Kus) আরো মজার কথা হচ্ছে হামের ক্ষেত্রে ১ জন থেকে ১৮ জন, সার্সের (Severe Acute Respiratory Syndrome) ক্ষেত্রে ১ জন থেকে ৪ জন, মার্সের( Middle East Respiratory Syndrome) ক্ষেত্রে ১ জন থেকে ৭ জন আক্রান্ত হয়। আর কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে ১ জন থেকে ২ জন। WHO এসব জানার পরও করোনার ক্ষেত্রে লকডাউন কে মহৌষধ মনে করছেন। আর তখনই প্রশ্ন আসে WHO চিন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না তো!!! আবার আমাদের মনে হতে পারে এর মৃত্যুর রেট তো বেশি। আমরা জানি কি USA ২০১৭ সালে সিজনাল ফ্লু তে মারা গিয়েছিল ১৮ হাজার লোক!!(https//bit.ly/3ahRwfL)। তখন কিন্তু লক ডাউনের প্রশনই আসে নাই। 
এখন প্রশ্ন হচ্ছে করোনা রোগী এত মারা যাচ্ছে কেন??? আসলে করোনায় রোগী মারা যাচ্ছে নাকি ঔষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়। কারণ আমাদের স্বাস্থ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ম্যালেরিয়ার ঔষুধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ম্যালেরিয়ার ঔষুদের মাত্রারিক্ত ব্যবহার হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করে যাতে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।আর ব্রাজিলের একটি গবেষণায় সেটাই প্রমাণিত হয় (https//nitI.ms/2yqFeEu)। বাংলাদেশ ভারত থেকে ২০ লক্ষ পিস ম্যালেরিয়া ঔষুধ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে (https//bit.ly/2KiTJgg)
১৮ এপ্রিলের একটি নিউজ অনুযায়ী আমেরিকার বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি বিশ্বের প্রথম করোনার seroprevalence study শেষ করে ডাটা এনালাইসিস করেছে যেটি পাবলিকেশনের অপেক্ষায় আছে। ক্যালিফোর্নিয়াতে (Santa Clara county) 3,330 জন সুস্থ মানুষকে এন্টিবডি টেস্ট করেছে যাদের করোনার কোন রেকর্ড ছিল না। তাদের এনালাইসিস অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে অফিসিয়াল কেইস (করোনা পজিটিভ) এর চেয়ে বাস্তবে ৫০ থেকে ৮০ গুন মানুষ বেশী সংক্রমিত হয়েছে। অফিসিয়াল ফিগার অনুযায়ী সেই এলাকায় ল্যাব পজিটিভ কেইসের সংখ্যা ছিল ১০৯৪। কিন্তু এন্টিবডি টেস্ট অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা হতে পারে - ৪৮,০০০-৮১,০০০!(doi: https://doi.org/10.1101/2020.04.14.20062463)

বর্তমানে আমেরিকায় কেইস ফ্যাটালিটি (মৃত্যুর হার) হচ্ছে ৪.১% । কিন্তু এন্টিবডি টেস্ট অনুযায়ী সেই এলাকায় প্রকৃত মৃত্যুর হার ০.১২% থেকে ০.২%। এই স্টাডির এনালাইসিসের উপর Arthur Reingold, an epidemiology professor at UC Berkeley মন্তব্য করেন যে করোনাকে আমরা যেরকম মরণঘাতি মনে করতাম বাস্তবে তা মনে হচ্ছে না ("The study confirms the widely-held belief that far more people than originally thought have been infected with the coronavirus")

একটি এলাকায় আসলে কতজন সংক্রমিত হয়েছে তা প্রচলিত পিসিআর টেস্টে জানা যায় না। টেস্ট সাধারনত তাদেরকেই করা হয় যারা লক্ষন প্রকাশ করে। অনেকেই অজান্তেই ইনফেক্টেড হতে পারে লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই। বাস্তব চিত্র পাওয়ার জন্য এন্টিবডি টেস্ট (seroprevalence study) করতে হয় যার মাধ্যমে অতীত ইনফেকশনের ইতিহাস জানা যায়।

আমেরিকায় এখন ১০,০০০ সুস্থ মানুষের উপর এন্টিবডি টেস্ট করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারনে seroprevalence study রেজাল্ট জিওগ্রাফিক্যালি ভিন্ন হতে পারে। সামনে দিনগুলো এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।
তবে আমাদের কে আরো সতর্ক হতে হবে, কারো ফাঁদে যেন আমরা পা না দেই।
আপাদত,লকডাউন নিয়ে একটু বিবেচনা করতে হবে, আমাদের দেশের অর্থনীতির কথা মাথায় রাখতে হবে।

-একেএম জাকির হোসেন
এম এস. (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)
গবেষকঃ ইনফেকশাস ডিজিজ।

No comments:

Post a Comment

Pages