করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষ যখন বুঝবে তখন হয়তবা আর সময় থাকবে না - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, March 30, 2020

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষ যখন বুঝবে তখন হয়তবা আর সময় থাকবে না

মোহাম্মদ নাঈম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
ভৈরবে করোনা প্রতিরোধে প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ট্রমা হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নিয়োজিত ৩টি শিফটে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজন ৬০টি (পিপিই) সুরক্ষা পোষাক। সেখানে মাত্র সরকারিভাবে ১৫টি সুরক্ষা পোষাক সরবরাহ করা হয়েছে। আছে প্রয়োজনীয় গ্লাবস, মাস্ক ও স্যানিটাইজারেরও সংকট। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্বাস্থ্য সেবাদানের সাথে জড়িত চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, ভৈরবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৫০২ জন বিদেশ ফেরত প্রবাসী কোয়ারান্টাইনে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৮৬ জন প্রবাসী তাদের নিজ বাসায় ও ১৬ জন প্রবাসীকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। যদিও কোয়ারান্টাইন মেনে চলাকালীন সময়ে এদের কারও মধ্যে কোন করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়নি। এমনকি উপজেলা করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি। এছাড়া ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইন মেয়াদ শেষে ৪৪৬ জন প্রবাসী স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৪৩১ জন বাসায় এবং ১৫ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে ছিলেন। আর গেল ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জন প্রবাসী কোয়ারান্টাইনের আওতায় এসেছে বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও এবং উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহম্মদ।
তিনি আরও জানান, তাদের সবাইকে নিজ বাসায় হোম কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা যায়নি। তারপরও বিনা প্রয়োজনে কেউ বাসার বাইরে বের না হতে এবং বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জানাগেছে, জেলার সব চেয়েও বেশি বিদেশ ফেরত প্রবাসী এসেছে ভৈরবে। ফলে করোনা প্রতিরোধে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা রোগী দেখা সীমিত করেছে। একই সাথে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না গিয়ে ২৪ ঘণ্টা হট লাইনে (মুঠোফোনে) স্বাস্থ্য সেবা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সহজে বুঝে ওঠতে না পেরে বিপাকে পড়েছে সাধারণ রোগীরা।
২৮ মার্চ শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা সালাহ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানায়, হাসপাতালে এসে এক ওয়ার্ড আর ২য় শ্রেণির একজন ছাড়া কাউকে পাননি। ফলে তিনি সেবা না পেয়ে ফিরে যান। তার মতো আরও লোকজন ফিরে যান বলেও দাবী করেন তিনি।
এদিকে চাহিদার তুলনায় এখনও সরকারের পক্ষ থেকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য পৌঁছেনি (পিপিই) সুরক্ষা পোষাকসহ প্রয়োজনীয় গ্লাবস, মাস্ক ও স্যানিটাইজার। ফলে করোনা মোকাবেলায় বা রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে বিপাকে রয়েছে তারা। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হলে জরুরী প্রয়োজনে রোগীদের জন্য নেই আইসিও ব্যবস্থা। ফলে হতাশ সচেতন মহলের লোকজন। যদিও শহরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের নবনির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট ট্রমা হাসপাতালটিকে করোনা মোকাবেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে কার্যক্রম চলছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহম্মদ জানান, প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ট্রমা হাসপাতালে নিয়োজিত ৩টি শিফটে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য ৬০টি (পিপিই) সুরক্ষা পোষাকের প্রয়োজন। সেখানে মাত্র ১৫টি সুরক্ষা পোষাক সরবরাহ করা হয়েছে। তাছাড়া করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় গ্লাবস, মাস্ক ও স্যানিটাইজারেরও সংকট রয়েছে। তবে উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা মহোদয়ের সহযোগিতায় ১শ সুরক্ষার সংগ্রহ এবং স্থানীয়ভাবে ৩৭টি (পিপিই) দর্জি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কাজ বা সেবা করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, অচিরেই চাহিদা অনুযায়ী সুরক্ষা পোষাকসহ প্রয়োজনীয় গ্লাবস, মাস্ক ও স্যানিটাইজার সরবরাহ করবে সরকার।
আর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা। তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার লোকজন এখনও প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করছেন। প্রয়োজন ছাড়াই মোটর সাইকেল নিয়ে শহরের অলি-গলিসহ বিভিন্ন সড়কে ঘুরছেন। একই সাথে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। সমাজের এসব মানুষজনকে দ্রুত সচেতন ও সতর্ক হতে আহবান করছেন। তা- না হলে যখন করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝবে, তখন হয়তবা আর সময় থাকবে না। তাই সচেতনতার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা।

No comments:

Post a Comment

Pages