নিয়মের বাহিরে আচমকা আযান নিয়ে পুরো দেশ তোলপাড় ! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, March 26, 2020

নিয়মের বাহিরে আচমকা আযান নিয়ে পুরো দেশ তোলপাড় !

২৬শে মার্চ ২০২০ ইং খ্রিষ্টাব্দ দিবাগত রাতের শুরুর কয়েকঘন্টা পর ঠিক ১০-১১ টার মধ্যে সারা বাংলাদেশের অনেক মসজিদে আজানে আজানে প্রকম্পিত!উদ্দেশ্য করোনা ভাইরাস তথা মহামারী থেকে আল্লাহপাকের কাছ থেকে পানাহ চাইতেই নাকি এই মহা ঝটিকা আয়োজন।অবশ্য তথ্য আছে বেশ আগ(সন্ধ্যা) থেকেই এই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চট্টগ্রামে আজকের গুজব

রাত ১০ টায় সকল মসজিদে একযোগে মাইকে আযান দিবে। শ্রোতারাও দিতে হবে। না হয় কাল কেউ বেঁচে থাকবে না। সবাই করোনায় মরবে।  ইতিমধ্যে আযান হয়ে গেছে।
জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া থেকে নাকি এই গুজব ছড়ানো হয়েছে।

গজবে ধরা জাতি গুজবের পিছনে দৌঁড়ে।।

এই আযানের পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা এবং তর্ক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মাধ্যম ফেসবুকে।কেউ জেনে তর্ক করতেছে আবার কেউ না জেনে।কিন্তু মূল যে কাজ করা বা আমল করা দরকার তা কিন্তু সকলেই মানছেনা।মানার প্রয়োজনীয়তাও প্রদর্শন করছেনা।

তবুও সংক্ষিপ্ত আলোচনা উল্লেখ না করলে চলছেনা তাই প্রকাশ করলাম।

মহামারীতে আযান দেওয়া কি সুন্নত?

মহামারীতে সমষ্টি বা ব্যক্তিগতভাবে আযান দেওয়ার কি বিধান? কেউ কেউ সমষ্টিগতভাবে রাত দশটায় আযান দেওয়ার কথা বলেন। তা কি সঠিক? তা জানার পূর্বে আমরা জেনে নিব কুরআন সুন্নাহর আলোকে কখন কখন আযান দেওয়ার বিধান রয়েছে। নিম্নে আযান দেওয়ার স্থানসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নাত। তেমনি তাহাজ্জুদের জন্য আযান দেওয়া প্রমাণিত।
২. নবজাতকের ডান কানে আযান ও বাম কানে আযান দেওয়া সুন্নাত।
৩. জঙ্গলে যখন ভয় পাবে:
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন,
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ أَبُوهُ فِي حِجْرِ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ لِي أَبُو سَعِيدٍ: إِذَا كُنْتَ فِي الْبَوَادِي، فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالْأَذَانِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَا يَسْمَعُهُ جِنٌّ، وَلَا إِنْسٌ، وَلَا شَجَرٌ، وَلَا حَجَرٌ، إِلَّا شَهِدَ لَهُ
“হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সা‘সায়া তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা আবু সায়ীদের কোলে ছিল তিনি বলেন, আমাকে আবু সায়ীদ বলল, যখন তুমি জঙ্গলে থাকবে তখন তুমি আযান দাও আওয়াযে। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, তা যে কোনো জিন, মানুষ ও পাথর শুনবে এর জন্য সাক্ষ্য দেবে।।” ইবনে মাজাহ, হাদিছ নং: ৭২৩।
বাজ্জাজ বর্ণনা করেন,
عَنْ سَعْدٍ، قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَغَوَّلَتْ لَنَا الْغُولُ، أَوْ إِذَا رَأَيْنَا الْغُولَ نُنَادِي بِالْأَذَانِ
“হযরত সাদ (রা.) বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো ভূত দেখলে বা পেশ হলে আযান দেওয়ার জন্য বলেন।” (বাজ্জাজ, হাদিছ নং: ১২৪৭)। 
৪. কোনো ঘরে জিন্নাতের সমস্যা দেখা দিলে:
বায়হাকী শুআবুল ঈমানে লিখেন,
عَنْ مَالِك، قَالَ: اسْتُعْمِلَ زَيْدُ بْنُ أَسْلِمَ عَلَى مَعْدِنِ بَنِي سُلَيْمٍ وَكَانَ مَعْدِنًا لَا يَزَالُ يُصَابُ فِيهِ الْإِنْسَانُ مِنْ قِبَلِ الْجِنِّ، فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى زَيْدِ بْنِ أَسْلِمَ: " فَأَمَرَهُمْ بِالْأَذَانِ، وَأَنْ يَرْفَعُوا بِهِ أَصْوَاتَهُمْ، فَفَعَلُوا فَانْقَطَعَ ذَلِكَ عَنْهُمْ " فَهُمْ عَلَيْهِ حَتَّى الْيَوْمِ "
“হযরত মালিক বলেন, জায়দ ইবনে আসলামকে বনী সুলাইরে খনিতে দায়িত্ব দেওয়া হলো। তা এমন খনি ছিল যাতে মানুষ জিন দ্বারা আক্রান্ত হত। তখন তারা জায়দের নিকট অভিযোগ করল। তখন তিনি তাদেরকে বড় আওয়াজে আযান দেওয়ার জন্য বলেন। তারা যখন তা করল জিনের আছর বন্ধ হলো। অতঃপর তারা নিরপদ হলো।” (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, হাদিছ নং: ২৭৮৮)।
তাই বুঝা যায় উল্লিখিত স্থান ছাড়া আযান দেওয়া প্রমাণিত নয়। তাই মহামারী দূর করার উপায় হলো, তাওবা করে নামাজ পড়া, নামাজের পর চারকুল ও আয়াতুল কুরসী পড়া, নফল রোজা রাখা, সদকা করা, সমাগম থেকে দূরে থাকা ও বিভিন্ন তাসবীহ পড়া। যেমন, ইসতিগফার, দুরূদ, দোয়ায়ে ইউনুস, দোয়ায়ে তাওয়াক্কুল ইত্যাদি পড়া। ইমাম শাফেয়ী বলেন, মহামারী দূর করার সবচেয়ে প্রভাবশালী আমল হলো দোয়ায়ে ইউনুসের তাসবীহ ও দূরূদ পাঠ করা। তাই তাওবা করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে বেশি বেশি তাসবীহ ও দুরূদ পাঠ করুন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, খ. ১, পৃ. ১৪৬)।
তবে ফরজের আযানের পর পর মহামারী দূর হওয়ার জন্য স্পেশাল দোয়া করা যেতে পারে।
তাবরানী বর্ণনা করেন,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِذَا نُودِيَ بِالْأَذَانِ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَاسْتُجِيبَ الدُّعَاءُগ্ধ
“হযরত আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যখন আযান দেওয়া হয় তখন আসমানের দরজা খোলা হয় এবং দোয়া কবুল হয়।” (তাবরানী, আদ দোয়া, হাদিছ নং: ১৬৭)।
তাবরানী আল মুজামুল কবীরে লিখেন,
عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا قَوْمٍ نُودِيَ فِيهِمْ بِالْأَذَانِ صَبَاحًا إِلَّا كَانُوا فِي أَمَانِ اللهِ حَتَّى يُمْسُوا، وَأَيُّمَا قَوْمٍ نُودِيَ عَلَيْهِمْ بِالْأَذَانِ مَسَاءً إِلَّا كَانُوا فِي أَمَانِ اللهِ حَتَّى يُصْبِحُوا
“হযরত মাকল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, যে কোনো জাতির মাঝে সকালে আযান দেওয়া হলে তারা বিকেল পর্যন্ত আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকবে আর যে জাতির মাঝে বিকেলে আযান দেওয়া হবে তারা সকাল পর্যন্ত আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকবে।” (তাবরানী, আল মুজামুল কবীর, হাদিছ নং: ৪৯৮)।

No comments:

Post a Comment

Pages