মৃত্যুর পর কিংবদন্তি নয়,চাই মৃত্যুর আগে যথাযথ মর্যাদা - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, March 31, 2020

মৃত্যুর পর কিংবদন্তি নয়,চাই মৃত্যুর আগে যথাযথ মর্যাদা

আমাদের সমাজে একটা প্রবাদ ব্যাপক প্রচলিত তাহলো- দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝেনা।এটা আমাদের জন্যে শতভাগ মিল।আমরা সেই জাতি মৃত্যুর আগে কাউকে যথাযথ মর্যাদা দিতে জানিনা।মৃত্যুর পূর্বে যে মনীষী অবহেলার শিকার হয় মৃত্যুর পর আমরাই তাকে কিংবদন্তি বলে মঞ্চে গলাবাজি করি।কিন্তু মৃত্যুর আগে তার প্রতি করি অবিচার।কথায় আছে,যেদেশে গুণীজনের কদর নেই সেদেশে গুণীজন জন্মায় না।অনেক মনীষী,লেখক,কবি দার্শনিক,শিক্ষাবিদ,
সাংবাদিক, বিজ্ঞ আলেম জীবিত অবস্থায় যথাযথ সম্মান পায় না।অভাব অনটনে দিনাতিপাত করলে সহযোগিতার হস্ত আমাদের প্রসারিত হয়না।কিন্তু সেইসব গুণীজন যখন মৃত্যুবরণ করে তখন আমরা সকলে মিলে তাঁর স্মরণে সোশ্যাল মিডিয়ায় তথা ফেইসবুকে বিশাল বিশাল কলাম লিখি।শোকগীতি গাই অশ্রুবিসর্জনে।শোক সভার আয়োজন করে তাঁর কীর্তি নিয়ে মঞ্চে গলাবাজি করি এটাই কি আমাদের কর্তব্য? এতেই তাঁর প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন হয়ে যাবে?
গেল বছর তথা ২০১৯ সালে হজ্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন  বাংলাদেশের কিংবদন্তি, আরবি সাহিত্যিক আল্লামা ডক্টর জসিম উদ্দীন নভদী।তাঁর মৃত্যুর পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাঁর স্মরণে সেমিনার করেন।উক্ত শোক সেমিনার বা শোক সভায় আমারও বক্তব্যদানের সুযোগ হয়।প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্নমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান,। আমার বক্তব্যে আমি বরাবরের মত বলেছি,মৃত মনীষীদের যেভাবে স্মরণ করছি,যেমন তাঁর গুনগান গাইছি তেমনি জীবিত মনীষীদের কদর ও সম্মান করা উচিত।অনেক জীবিত মনীষী আছেন যারা বিভিন্ন সমাস্যার মাঝে নিপতিত তাদের খুঁজ খবর নিয়ে সমাস্যা নিরসনের প্রয়াস চালানোই হবে মনীষীদের প্রতি যথাযথ কর্তব্য।কবি আল মাহমুদ, কবি ফররুখ, কাজী নজরুল ইসলাম,ডক্টর মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ এখন যেভাবে সম্মানের অধিকারী মনে করছি হয়তো জীবিত অবস্থায় তারা অবহেলিত ছিল।আমরা জীবিত অবস্থায় কাউকে প্রাপ্য সম্মানের অাসনে অাসীন করতে আগ্রহী নই।এটাই এ জাতির জন্য হতাশার।

বাংলাদেশের জমিনে যেসব বিখ্যাত আলেম ও বুজুর্গ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তারা জীবিত অবস্থায় অনেকটা অবহেলার শিকার হয়েছে।আল্লামা হাফেজ্জী হুজর রহ,আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ,আল্লামা সৈয়দ ফজলুল করিম রহ,মুফতি আমিনি রহ,শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ,মুহিউদ্দীন খান,মুফতি আব্দুর রহমান,আল্লামা জমির উদ্দীন নানুপুরী রহ এর মত যুগশ্রেষ্ট মনীষীদের এখনো আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।জীবিত অবস্থায় হয়তো যথাযোগ্য সম্মান তারা পায়নি।বর্তমান বাংলাদেশে যেসব জীবিত মনীষী রয়েছে তাদের যথাযথ সম্মান করা উচিত।জীবিত অবস্থায় অবহেলা করা আর মৃত্যুর পর কিংবদন্তি উপাধি দেওয়া অনেকটা  ভন্ডামির মত মনে হয়।বর্তমান বাংলাদেশে আল্লামা শফি, আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, আল্লামা মুহি্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শাহ তৈয়ব,আল্লামা আব্দুল হালিম বোকারী,মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম ( পীর সাহেব চরমোনাই) , মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ,আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম,আল্লামা ডক্টর মোস্তাক আহমদ,আল্লামা মোস্তাকুন্নবী,আল্লামা ডক্টর আঃফঃম খালেদ হোসেন,আল্লামা মাহমুদুল হাসান,আল্লামা মানুনুল হকসহ জীবিত মনীষীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে না পারলে তাদের মত গুণীজন হয়তো জন্মাবে না।
তাদের মৃত্যুর পর কিংবদন্তি উপাধির কথা না ভেবে মৃত্যুর আগে যথাযথ সম্মান করা উচিত।
বাংলার ইসলামী সংগীতের পুরোধা মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ মৃত্যুর আগে ছিল অবহেলিত কিন্তু মৃত্যুর পর হয়ে গেল কিংবদন্তি। শুধু অালেম নয়,কবি সাহিত্যিক,সাংবাদিক,লেখক,শিক্ষক,আইনজীবিসহ সকল শ্রেণি পেশার জীবিত মনীষীদের সম্মান করা উচিত বলে মনে করছি।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages