কারোনা এবং আমাদের বাংলাদেশ || এফ এম বুরহান ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, March 27, 2020

কারোনা এবং আমাদের বাংলাদেশ || এফ এম বুরহান ||amarkhobor24.com

২০১৯-এনকোভি - যা নভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত - সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এবং এর বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
চীনের উইহানে যখন কারোনার বংশ বিস্তার শুরু করে তখন থেকেই সমস্ত বিশ্ব আতংকিত, কখন কোন দেশে কারোনা যাবে তা নিয়ে সবাই ভীত সন্ত্রস্ত । 

আমার প্রিয় মাতৃভূমি ভুমি বাংলাদেশে এখন এসে পৌঁছেগেছে। কারোনা নামক অদৃশ্য শত্রু
যা আক্রোমন করেছে অনেক মানুষ কে,কিন্তু কত মানুষ আক্রান্ত তা সঠিক জানা যাচ্ছে না।
কারণ এই মরণঘাতী ভাইরাস নিয়ে ও চলছে রাজনীতি।

প্রাণঘাতী কারোনা ছোট বড় সকলের শত্রু। এই ভাইরাস নিয়ে আমাদের এমপি মন্ত্রীদের মতামত , যা শুনলে মানুষ হাসবে, না কাঁদবে, না গালি দেবে তাও এখন আমরা সাধারণ জনগণ বুঝে উঠতে পারিনি। নিচে কিছু এমপি মন্ত্রীদের মতামত দেওয়া হলোঃ
"করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজনে চীনের মত হাসপাতাল বানানো হবে।" - মুস্তফা কামাল। 

"শেখ হাসিনা আল্লাহওয়ালা মানুষ, করোনা কিছুই করবে না।" -এনামুল হহক শামিম। 

"করোনা ভয়ংকর শক্তিশালী, আমরা তার চেয়েও শক্তিশালী!" -ওবায়দুল কাদের। 

"শেখ হাসিনার মত নেত্রী পাওয়ায় করোনা প্রতিরোধ করতে পারছি।" -মোহাম্মদ নাছিম।

"করোনা নিয়ে বিএনপি জামায়াত জনগনকে আতঙ্কিত করছে।" -হাছান মাহমুদ 

"করোনা মারাত্মক রোগ নয়,এটা সর্দি-জ্বরের মত।"-আব্দুল মোমেন। 

"আল্লাহ নিজে আসলেও কিছু করতে পারবেন না।" -জাহিদ ফারুক। 

"করোনা প্রতিরোধে ঢাকা বিমানবন্দরের মত ব্যাবস্থা উন্নত দেশগুলোতেও নেই।" 
-শাহরিয়ার আলম।

"করোনা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা,ইতালির চেয়েও বেশী সফল বাংলাদেশ।"
- জাহিদ মালেক

তাদের মতো রাজনীতিবিদরা যদি এমন মন্তব্য করে এই ভয়াবহ ভাইরাস নিয়ে, তাহলে সাধারণ মানুষরা কি বলবে...?

কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?

শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

করোনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীগনের অবস্থা..

আমার প্রিয় মাতৃভূমি কিছু দিন আগে এতটা আতংকে ছিল না , তখন সবাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছে, তখন ছিল না বেশী ঝৈ ঝামেলা, ছিল না খুব বেশি সতর্কতা, ছিল না মাক্স নামের সামান্য কাপড়টির কদর তা বিক্রয় হতো তখন খুব নগণ্য দামে। 
কিন্তু যখন পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলো যে , বাংলাদেশে তিন জন জীবন ঝুঁকি কারোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তখন থেকেই শুরু হলো প্রিয় গরীব দেশের প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের অর্থ কামাইয়ের অসৎ পথ অবলম্বন। ব্যবসায়ীগণ  গরীব বাংঙ্গালীদের দিকে না তাকিয়ে শুধু মাত্র তাদের ব্যবসকে প্রাধান্য দিচ্ছে   তারা সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবছে না , তারা ১০ টাকার মাক্স  বিক্রি করছে ১০০ টাকা । প্রতিটি ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে। সাথে সাথে দাম বাড়াচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের।

এদিকে সরকারের পরিকল্পনা কি করোনা নিয়ে..!

আমাদের দেশের মাননীয় সরকার বলেছেন, বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত, করোনা মোকাবেলা করার জন্য সরকার নাকি সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

যেখানে চীন এর মতো শক্তিশালী দেশ হয়ে যাচ্ছে শেষ সেখানে, বাংলাদেশ বলে আমারা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত ..! 

আচ্ছা মোকাবেলা অর্থ কি ...?

কারো সাথে সমান সমান শক্তি নিয়ে তার সাথে লড়াই করে  নিজেকে শক্তিশালী প্রমাণ করা হলো মোকাবেলা। 

তাহলে কি বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী কারোনা ভাইরাস এর বিরুদ্ধে...? বাংলাদেশে কি যথেষ্ট মেডিসিন আছে ..? বাংলাদেশে কি যথেষ্ট ডাঃ আছে ..? কারোনা এর বিরুদ্ধে...? 

হ্যাঁ ডাঃ বাংলাদেশে যথেষ্ট আছে .. তবে অধিকাংশ দূর্নীতির সাথে জড়িত .. কারণ যখন হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত যায় তখন খুঁজে পাওয়া যায় না  অধিকাংশ এ্যপ্রন প্ররিহিত ডাকাতের দলকে।
চিকিৎসার নামে তারা মানুষের ধন দৌলত হাতিয়ে নেয়.. সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে যে সমস্ত ওষুধ আসে হাসপাতালে .. সেগুলো বিক্রি করে ডাঃ নামের কশাইগন তাদের গাড়ির তেল খরচ চালায় ..  সেখানে কারোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবার বিষয়ে কি হতে যাচ্ছে বা হতে পারে এ সংক্ষিপ্ত ভাবেই বোঝা যায়..

ভাইরাসের জন্য হাসপাতাল কি যথেষ্ট আছে..?

কে কোন হাসপাতালে কত বার যান তা আমি জানি না.. তবে একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমার প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতালে যাওয়া হয়... 
এইযে দেখেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কয়েক জন কারোনা রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হ‌ওয়ার পর পর ই ফাকা হয়ে গেছে পুরা হাসপাতাল। এখন সেখানে কারোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছাড়া আর কোন রুগী তো দূরের কথা মাছি নেই বললেও চলে। 

এদিকে চলে এই মারাত্মক ভাইরাস নিয়ে বাঙালির হাস্যকর কর্মকাণ্ড

#১_কোয়ারান্টাইনে থাকা ইতালি প্রবাসি সড়ক দূর্ঘটনাই আহত! (সমকাল)।
#২_কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি তোলায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে সাংবাদিক।
#৩_ধামরাইয়ে কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে ২৮টি সিলিং ফ্যান চুরি।
#৪_মাস্ক না মাক্স - এই নিয়ে সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক।
#৫_দূরত্ব বজায় রেখেই মদের দোকানের বাইরে ক্রেতাদের লাইন।
#৬_মাস্ক পড়া অবস্থায় শ্বশুরকে চিনতে না পারায় সিগারেটের আগুণ চেয়ে অপমানিত হলো মেয়ের জামাই।
#৭_করোনার টিকা বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতারক আটক।
#৮_হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছাড়া ঘুষের টাকা নিতে চাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তারা।
#৯_কার মাস্ক টেকসই - এই নিয়ে দুই প্রতিবেশীর বিবাদ।
#১০_আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী (বানীতে ওবায়দুল কাদের সাহেব)
#১১_স্যানিটাইজার ঢালতে গিয়ে ফেলে দেয়ায় কাজের বোয়াকে মেরে ঘর থেকে বের করে দিছে নোয়াখালীর এক স্কুল শিক্ষিকা।
#১২_মিরপুরে লকডাউন বাড়িটি দেখতে শতশত মানুষের ভিড়।
#১৩_আমাদের দেশের ডাক্তার নার্সদের এখনো PPE পড়ার সময় হয় নাই(বানীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
#১৪_নবীগঞ্জে এক প্রবাসীকে রাখা হয়ছে কোয়ারান্টাইনে, একনজর দেখার জন্য পাঁচ শতাধিক মানুষের ঢল, হিমসিম খাচ্ছে পুলিশ।
#১৫_রাজবাড়িতে করোনা নিয়ে তর্কের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ১!
#১৬_বরিশালের এক হাসপাতাল থেকে দৌড়ে পালানোর সময় করোনার রোগীকে পিছন হতে ধাওয়া করেন চার যুবক, ধরে কাঁধে করে নিয়ে আবার ভর্তি করিয়ে দেন হাসপাতালে! চার যুবকের এমন বীরত্ব দেখে ওই চার যুবককে কাঁধে করে এলাকায় আনন্দ মিছিল করেছে দুই-আড়াইশ মানুষ।
সুত্রঃ বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল 

এক কথায় বলা যায় করোনা VS বাংলাদেশ সমান সমান মৃত্যুর আগে বিনোদন ।

No comments:

Post a Comment

Pages