গুজব থেকে দূরে থাকুন ||শফিকুল ইসলাম ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, March 30, 2020

গুজব থেকে দূরে থাকুন ||শফিকুল ইসলাম ||amarkhobor24.com

মুখে মুখে রটে যাওয়া ভিত্তি হীন কথাকে আমরা গুজব বলে থাকি। এই রটে যাওয়া ভিত্তি হীন কথাই যখন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় তখন গুজব আর গুজবের আকৃতিতে না থেকে গজবে পরিণত হয়। এমন গুজব নামের গজব খুব আনুষ্ঠানিকতার সাথে ঘটে চলছে আমাদের এই সোনার দেশে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এখন একটি খবর খুব দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে৷ এখন প্রায় সবাই একটা খবর শেয়ার করার আগে খবরটি সত্য নাকি মিথ্যা সেটা যাচাই করার মানসিকতা রাখেনা এবং থাকেনা। হাজারো খবরের ওয়েব সাইট অমুক -নিউজ তমুক নিউজ ইত্যাদি। এইসব ওয়েবসাইটে যারা খবর লিখে তারাও অনেক সময় খবরের সত্যতা যাচাই করে না।  একজনের কাছে কোন ভাসা তথ্য পেলেই নিউজ করে দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি অনেকেই ফেসবুকে অনেক নিউজ শেয়ার করে যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। এমনকি যেই ওয়েবসাইট থেকে নিউজ প্রকাশ করা হয় সেটারো কোন পরিচয় নেই।  অথচ একটা খবর আমরা সত্যতা না জেনেই অন্যের কাছে শেয়ার করছি৷ বিষয়টা কখনই সাধারণ নয়। এর চেয়ে ভয়ানক আর কি হতে পারে যে, আমার কাছে একটা খবর আসল আমি এটার সত্যতা না জেনে রসালোভাবে অন্যের কাছে পড়ে ফেললাম। আর এইসব মিথ্যা খবর এবং তথ্যের জন্য অনেকেরই প্রাণহানি হয়েছে। আমরা জানি গত কয়েকমাস আগে দেশব্যাপী গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে পদ্মাসেতু নির্মাণে মানুষের আস্ত মস্তকের প্রয়োজন সেই গুজবের উপরই ভিত্তি করে মানুষ যখন আমল করা শুরু করেছিল তখন ঘটেছিল নানা নির্মম ঘটনা। অনেক এনজিও কর্মীকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। এনজিও কর্মীরা প্রত্যন্ত গ্রামে তাদের চাকরির সুবাদে কাজ করে থাকে।  তাদের হাতে ব্যাগ দেখে গ্রামের সাধারণ জনতা ছেলেধরা বলে গণধোলাই দিয়েছে এরকম খবর আমরা জাতীয় পত্রিকায় পড়েছি। রাজশাহীতে এই ছেলেধরা গুজবকে কাজে লাগিয়ে ঘটেছিল আরেকটি দুর্ঘটনা। দুই ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।  একব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে অন্যজনকে মস্তকহীন করে ছাড়বে আর এই কাজটা ছেলেধরা করেছে বলে চালিয়ে দিবে। যদিও ষড়যন্ত্র অবশেষে ফাস হয়েছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে গুজবকেও অনেকেই কাজে লাগাতে চায়। সবচেয়ে বহুল আলোচিত এবং হৃদয়বিদারক যে ঘটনাটি ঘটেছিল তা হলো তাসলিমা বেগম রেণুকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা।  শুধুমাত্র দেশব্যাপী চলা এই গুজবের কারনেই এই নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার সন্তান আজো তার মায়ের বাড়িতে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি এবং ধর্ম কোন ক্ষেত্রেই এই গুজব ছড়ানো বাদ নেই সব জায়গায় সমান তালে গুজব ছড়িয়েই যাচ্ছে দুবৃত্তমহল। সম্প্রতি সারা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস৷ চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিশ্বের সব বড় বড় দেশ মিলেও যখন করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে আমাদের দেশের অপপ্রচার সৃষ্টিকারি মহল থেমে নেই৷ তারা সারা দেশে এক যোগে প্রচার করেছে থানকুনির পাতা, হলুদ এইসব জিনিসের রস সেবন করলে নাকি করোনা কাছেও আসতে পারবেনা। কোন ধরনের সতর্কতা অবলম্বন তো দূরে থাক তারা উল্টো গুজবে গা ভাসাচ্ছে। করোনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি বড় গুজব সারা দেশে ঘটেছে।  রাতে হঠাৎ করে সবাই রাস্তায় বেরিয়ে পরেছে। যেখানে এই করোনার মহামারীতে সবাই আলাদাভাবে দুরত্ব বজায় রাখার কথা ছিল সেখানে ঘটল ঠিক উল্টো। সবাই বলাবলি করছে সব গরু করোনার কারনে মরে নাকি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য প্রত্যেক মসজিদে মসজিদে একযোগে  আজান দিয়েছে। সবার মাঝে কি একটা আতংক!  প্রথমে ভেবেছিলাম শুধু নির্দিষ্ট একটি গ্রামেই এই ঘটনা কিন্তু কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা এবং ময়মনসিংহে খবর নিয়ে দেখলাম সেখানেও একই ঘটনা। গুজব সৃষ্টিকারি মহল কতটাই শক্তিশালী।  যেকোন ঘটনা তারা সারাদেশে একযোগে ঘটাতে সফল হচ্ছে। আর এই গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাচ্ছে সর্ব সাধারণ। তবে আমি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি যেটা দেখে সেটা হলো শিক্ষিত ব্যক্তিরাও এদের সাথে গা ভাসিয়েছে। এখন গ্রামে বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে দেখলাম তারাও এই গুজবে কান দিয়ে সবার সাথে একই সুর তুলেছে।  বিষয়টা আমাকে ব্যথিত করেছে। যারা এইসব গুজব থেকে মানুষকে সাবধান করবে তারাই যদি গুজবে কান দেয় তাহলে আর ভরসার জায়গা অবশিষ্ট থাকেনা। সর্বশেষ সবার প্রতি আমার মুক্ত আবেদন কোন খবর প্রচার করার আগে অবশ্যই সেটার তথ্যসূত্র খাটি কিনা যাচাই করে নিবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শতশত বিষয় মানুষ প্রচার করে, কে কোন মনোভাব নিয়ে প্রচার করেছে সেসব বিষয় লক্ষ্য করবেন।  এবং ধর্মীয় কোন বিষয় প্রচার করার আগে ধর্মীয় নেতাদের কাছে সত্যায়ন করে নিবেন। অন্য যেকোনো বিষয়ও প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন ব্যক্তিকে দিয়ে বিষয়টার সত্যতা যাচাই করে নিবেন। গুজব নামের অপসংস্কৃতি বাংলার মাটি থেকে নিপাত যাক এই কামনাই করি।

লেখকঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম নিয়ামত 
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

No comments:

Post a Comment

Pages