নামধারী মুছল্লী বনাম নয়া মুছল্লী ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, March 24, 2020

নামধারী মুছল্লী বনাম নয়া মুছল্লী ||amarkhobor24.com

কলেজের গন্ডি পেরিয়ে এবার ভার্সিটিতে পা রাখল হাসান। খুব শান্ত ও মেধাবী ছেলে। এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত সে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্বেও ভাবসাব তার মাঝেও কম ছিলনা। যেহেতু ভার্সিটিতে পড়ে ভাবসাব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। হাসান ছিল সুন্দর মেধা ও সুন্দর  চেহারার অধিকারী।

বাহ্যিকভাবে সব ঠিকঠাক থাকলেও ছিলনা তার ভিতরে ধার্মিকতা। সেই কবে নামাজ পড়তে গেছে হয়তো সে ভুলেই গেছে। তবে নামাজ পড়বে পড়বে এরকম একটা আগ্রহ তার ভিতরেও কাজ করছিল। কিন্তু নামাজ পড়তে যাওয়া হয়না। এলাকার অনেক যুবক ভাইরা দাওয়াত দিলে  সে নামাজ পড়তে যাবে বলে স্বীকার করে।

আজ শুক্রবার। বেলা বারোটায় হঠাৎ ইতির ফোন। ইতি হলো হাসানের গার্লফ্রেন্ড। ততটা ধার্মিক না হলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকঠাক ভাবে আদায় করে সে। হাসান কে মাঝে মাঝে সে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য বলে । ইতি আজকেও হাসানকে অনুরোধ করলো জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য। হাসান নামাজ পড়তে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় ইতিকে।

হাসানের আজ মনটা ভালো। আজ জুমার নামাজ পড়তে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় সে। কারন যুবকদের দাওয়াত সাথে প্রিয় মানুষটার অনুরোধ সব মিলিয়ে জুম্মার নামাজ পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর।

জুমার আজান হলেই সাথে সাথে হাসান গোসল করে রেডি হয়ে নেয় নামাজের জন্য। কিন্তু মনে একটা  সংকোচ রয়েই গেল কত দিন সে নামাজ পড়তে যায় না । লোকে কি না কি বলে, কি মন্তব্য করে। এরকম সংকোচ বোধ করেছে হাসান। তবু ধীরপায়ে মসজিদের দিকে আগায়।

সবেমাত্র,ওজু করে মসজিদে ঢুকবে তখনই পিছন থেকে একজনের ডাক। পিছনে ফিরে দেখে এলাকার প্রসিদ্ধ নামাজি খালেক চাচা।

হাসানঃ জি চাচা, বলেন খালেকে চাচাঃ কি ওজু করছোত ঠ্যাং দি ভিজে নাই!
(লজ্জা পায় হাসান)
নিরুপায় হয়ে বলে, চাচা আমি ঠিকভাবে অজু করে আসছি। এবার ভালভাবে ওযু করে মসজিদে ঢুকে সে। মসজিদে মুসল্লি এখনো আসে নাই কেবল মাত্র 10-12 জন এসেছে।

সামনের কাতার থেকে হাক দেয় করিম চাচা, ওই বেটা প্যান্ট ফিন্দে নামাজ পড়তে আসছোছ শুক্রবারও কি প্যান্ট ফিন্দে নামাজ পড়তে আসা লাগে? আচ্ছা চাচা, সামনে থেকে প্যান্ট পরে আসবো না।

মোটামুটি একটা অপমান হলেও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয় হাসান। পিছন থেকে আরেকজন বলে  শুক্রবার দে কেন বাকি পাঁচ ওয়াক্ত কই থাকোস। এভাবেই যার যা খুশি বলছে হাসানকে, হাসান দম খিচে সবকিছু মানিয়ে নেবার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ যেন আর পারছে না। যখনই নামাজ পড়তে দাঁড়াবে তখনই আরেকজনের ডাক পেন্ট উপরে উঠা উপরে উঠা।

মনে মনে হাসান অনুতপ্ত হয় কেনই বা নামাজ পড়তে আসলাম আর কেনই বা এত অপমান। যাই হোক, সবশেষ যখন ইমাম সাহেব বয়ান করছেন, ইতিমধ্যেই হাসানের ফোন বেজে ওঠে।
বেজে উঠতে না উঠতেই হাসান ফোনটি কেটে দেয়। এবং নিজেকে অপরাধী মনে করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু উপরে তাকিয়ে যা দেখল তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না সে। বেশিরভাগ মুসল্লি তার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে যে সে অনেক বিশাল অন্যায় করে ফেলেছে। ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই  মসজিদ থেকে বের হয় সে।

আর নিজেকে খুব অপরাধী মনে করে অনুতপ্ত হয়, আর বলে কেনইবা অসময়ে নামাজ পড়তে এলাম আর এত অপমান হলাম। বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে এসব কথা ভাবতে থাকে হাসান।

সেদিনের পর থেকে আর কখনো মসজিদে হাসানকে নামাজ পড়তে দেখা যায়নি। আর এভাবেই আমরা পুরান মুসল্লীরা তথা নামধারী মুসল্লীরা ধ্বংস করে দেই নয়া মুসল্লীদেরকে। যার কারণেই সমাজের নামাজী মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যায়। আর এর জন্য একমাত্র দায়ী আমরা।

No comments:

Post a Comment

Pages