রামগঞ্জে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর দিয়েই বাজারের ড্রেন নির্মাণের পায়তারা ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, March 3, 2020

রামগঞ্জে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর দিয়েই বাজারের ড্রেন নির্মাণের পায়তারা ||amarkhobor24

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারী বিধি উপেক্ষা করে ড্রেনেজ নির্মানের জন্য ব্যাক্তি মালিকানাধীন স্থায়ী ইমারত ভেঙ্গে ড্রেনেজ নির্মানের পায়তারা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আবদুল করিম লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এসময় ড্রেন নির্মানে বাধা দিতে গেলে জমির অংশিদার আবদুল করিমকে রামগঞ্জ পৌরসভার সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী মারধর করতে তেড়ে আসে সোমবার বিকালে পৌর সোনাপুর বাজার রিক্সাস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আহসান হাবিব অরুন রামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাছ বাজার হয়ে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যণÍ সড়ক নির্মান ও ড্রেনেজ স্থাপনের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪ কোটি ২০লাখ টাকায় কাজটি পায়।

সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার পর নানান অনিয়ম পরিলক্ষিত হলেও ড্রেনেজ নির্মান করতে গিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সোনাপুর চৌরাস্তা হয়ে সোনাপুর মৌলভি বাজার রিক্সাস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে গিয়ে ড্রেনেজ নির্মানের নকশা পরিবর্তন করে স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের যোগসাজসে প্রায় ২০ফুট বাঁকা করে উত্তর পাশে ব্যাক্তি মালিকানাধীন দোকান উচ্ছেদ করতে তোড়জোড় শুরু করে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আবদুল করিম জানান, রামগঞ্জ থানাধীন ৪৫ নম্বর মৌজার সাবেক ১৪২নম্বর খতিয়ানভূক্ত ১৯৯৮ দাগ আর এস ১৯২৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৪৬০৬ দাগে মোট .০০৩৬ একর সম্পত্তিতে ৫৭৩৯ সাব কবলা দলিল মূলে খরিদ সূত্রে প্রায় ৪১ বছর যাবত পাকা দোকানঘর নির্মান করে ব্যাবসা করে আসছি।
অথছ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ড্রেনটি নির্মান করতে গেলে জনৈক প্রভাবশালি ব্যাক্তি মোটা অংকের টাকার দিয়ে জেলা পরিষদের দোকান রক্ষায় দফারফা করে আমার সহায় সম্বল ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
আমি তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ পৌর সভার কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে মামলা হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্কিত করে। বাধ্য হয়ে আমি আজ মঙ্গলবার সকালে লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি জানান, আমি আপনার সাথে পরে কথা বলবো আমি চট্টগ্রামে মিটিংয়ে রয়েছি।
রামগঞ্জ পৌরসভার সচিব জাকির হোসেন জানান, আসলে বিষয়টা আমার এখতিয়ার না। আমাকে বিষয়টি জানানোর পর তাদেরকে পৌরসভার মেয়রের সাথে কথা বলার জন্য জানিয়েছি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মেসার্স ইম্পেরিয়াল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধীকারী আকবর হোসেন জানান, যেহেতু তারা মামলা করেছে সেহেতু আমরা আদালতে বুঝবো। আর মোটা অংকের লেনদেন বা কোন ধরনের আর্থিক লাভবান হওয়ার অভিযোগটি সত্য নয়। তবে তিনি কি কারনে ড্রেনটি সোজা না করে প্রায় ২০ ফুট বাঁকা করে ড্রেনটি নির্মান করছেন, তা তিনি এড়িয়ে যান।
রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারী জানান, আমরা জানি জমিটি জেলা পরিষদের। তাছাড়া ড্রেনটি সোজা করে নিতে গেলে সেখানে জেলা পরিষদের দোতলা স্থাপনা রয়েছে। তিনি এসময় জেলা পরিষদের সম্পত্তিতে কিভাবে দোতলা স্থাপনা নির্মান হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন এটা ভাঙ্গতে গেলে সময়ের ব্যাপার। তাই আমরা পৌরসভার ফান্ড থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে প্রায় ৩০ ফুট সরিয়ে ড্রেনের মুখটি খালের সাথে সংযুক্ত করবো। তবে এসময় তিনি ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই বলেও জানান।

No comments:

Post a Comment

Pages