তীব্র প্রতিবাদের মুখে কিশোরগঞ্জে সাদ পন্থীদের ইজতেমা বন্ধ ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, March 3, 2020

তীব্র প্রতিবাদের মুখে কিশোরগঞ্জে সাদ পন্থীদের ইজতেমা বন্ধ ||amarkhobor24

বিশেষ প্রতিবেদকঃঃ 
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সাদ পন্থী অনুসারীদের জেলা ইজতেমা হচ্ছে না।  মঙ্গলবার 
২ মার্চ দুপুরে  মিডিয়াকে   বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে আগামী ৫ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলা ইজতেমা বাস্তবায়নের লক্ষে ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীদের আয়োজনে এই জেলা ইজতেমার প্রস্ততি চলছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের উলামায়ে কেরামগণ ইজতেমার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায়  আজ ২ মার্চ মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার সর্বস্তরের উলামায়ে কেরামগণ ও তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বীগণ অবস্থান করে প্রতিবাদ সম্মেলন করে। কিশোরগঞ্জ ইমাম ও উলামা পরিষদের আয়োজনে প্রতিবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পরিষদের সভাপতি মাও. শফিকুর রহমান জালালাবাদী, সহসভাপতি ও জামিয়ার মহাপরিচালক মাও.শাব্বির আহমেদ রশিদ,সাধারণ সম্পাদক মাও.আবুল বাশার, জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাও.ইমদাদুল্লাহ, মাও,লুৎফুর রহমান, মাও.আনজার শাহ তানীম, মাও. মোহাম্মদ উল্লাহ জামী সহ আরও ওলামায়ে কেরাম  প্রমুখ। সম্মেলন চলাকালে একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের সাথে স্বাক্ষাত করলে জেলা প্রশাসক পাকুন্দিয়ার ইজতেমা হবে না বলে আশস্থ করেন।
এর আগে পাকুন্দিয়ার সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও বাংলাদেশ আলমী শুরা তাবলীগের সাথীদের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমা বন্ধের দাবিতে পাকুন্দিয়া সদরে হাজারো মানুষের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই  একই সময়ে কিশোরগঞ্জ জেলাতেও আলেম ওলামা ও আলমী শুরার তাবলীগের সাথীরা তীব্র প্রতিবাদ  বিক্ষোভে উওাল হয় পাকুন্দিয়া ও কিশোরগঞ্জ  ।  

এসব কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে বিতর্কিত সাদ পন্থীদের কথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়৷  এতে হাজারো তৌহিদী জনতা তাবলীগের সাথী আলেম ওলামা অংশ নেন।    পরে প্রশাসন ইজতেমা বন্ধের আশ্বাস দিলে তাদের সিদ্ধান্ত সম্মান জানিয়ে উলামায়ে কেরামগণ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  সমাপ্ত করেছিল ।

তাবলীগের চলমান বিরোধের কারণে বিশ্ব ইজতেমার পর জেলা ওয়ারী কোন বিচ্ছিন্ন  ইজতেমা হবেনা। বাংলাদেশ আলমী শুরা পক্ষ  ও ভারতের মাওলানা সাদ অনুসারী পক্ষ   উভয়ে এমন সমঝোতা হয়েছিল।  কিন্তু সাদ পন্থীরা জেলা ইজতেমা   করার চেষ্টা শুরু করে।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলাটে পরিবেশ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।  এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা তাবলীগের সাথী ও  আলেম ওলামা সমাজের পক্ষ থেকে জেলা  প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি ও বিভিন্ন ভাবে আবেদন নিবেদন করে বন্ধের দাবী জানানো হয়ে আসছিল ।             

বাংলাদেশ  তাবলীগ জামাতের আলমী শুরার অনুসারী সাথীরা জানান, সাদ পন্থীরা আলেম ওলামা ও মাদ্রাসা বিরোধী।  মুল তাবলীগ থেকে সরে গিয়ে ভীন্ন মতবাদ ছড়াচ্ছে।    সাধারণ মানুষ তাদের সাথে নেই৷ গুটিকয়েক লোকজন মুলধারা তাবলীগের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিত ভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করছে।

সাদ পন্থী অনুসারীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরাই আসল তাবলীগ।  আমাদের ইজতেমা বাধা দেয়া ঠিক হয়নি।  

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর মিডিয়াকে বলেন, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ইজতেমা হচ্ছে না। শুধু পাকুন্দিয়া নয় টঙ্গীর পরে আর কোন ইজতেমা হবে না বলেও জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Pages