নড়াইলসহ ১০ গ্রামের মানুষ তাদের চাঁদাবাজি ভয়ে আতঙ্কিত জনপদ!! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, February 9, 2020

নড়াইলসহ ১০ গ্রামের মানুষ তাদের চাঁদাবাজি ভয়ে আতঙ্কিত জনপদ!!

উজ্জ্বল রায় জেলা নড়াইল প্রতিনিধিঃ
আকঞ্জিবাহিনীর ভয়ে আতঙ্কিত নড়াইল ও যশোরের ১০ গ্রামের মানুষ। তাদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষ। আকঞ্জিবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির কথা সাংবাদিকদের সামনে বলতে সাহস পাননি অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক তরুণী ও গৃহবধূকে ধর্ষণেরও অভিযোগ রয়েছে। উজ্জ্বল রায় জেলা নড়াইল প্রতিনিধিঃ তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিভিন্ন পেশার মানুষ জানান, আকঞ্জিবাহিনীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ নড়াইল সদরের মধুরগাতী, চাকই, রুখালী, আকবপুর, বিছালী, মির্জাপুর এবং যশোরের অভয়নগর উপজেলার মরিচা, ভবানীপুর, পোতপাড়াসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকার লোকজন। তাদের ভয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে হয়। আকঞ্জিবাহিনীর সদস্য সংখ্যা অন্তত ২০জন।  এদিকে, গত ১০ জানুয়ারি রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে আকঞ্জিবাহিনীর সদস্যরা নড়াইলের সীমান্তবর্তী যশোরের অভয়নগর উপজেলার মরিচা-ভবানীপুর-চাকই চৌরাস্তা এলাকার ধান-চাল ব্যবসায়ী ও কাঁচাবাজারের ইজারাদার শেখ নওয়াব আলীর কাছে মোবাইল ফোনে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনদিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসায়ী নওয়াব আলীসহ তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। নওয়াব আলী বিষয়টি স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দকে জানান।

নওয়াব আলী বাদী হয়ে ১৮ জানুয়ারি যশোরের অভয়নগর থানায় আকঞ্জিবাহিনীর প্রধান নড়াইল সদরের মধুরগাতী গ্রামের মনজুর হোসেন আকঞ্জিসহ (৫০) তার দুই সহযোগী একই উপজেলার চাকই গ্রামের মজনু মোল্যা মজিদের ছেলে আজমল হোসেন খোকন (৪৫) এবং লোহাগড়া উপজেলার ইতনা পশ্চিমপাড়ার মফিজুর রহমানের ছেলে কুদরত শেখ আকাশের (৩৩) নামে মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই মনজুর হোসেন আকঞ্জি ও আজমল হোসেন খোকনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও আকাশকে গ্রেফতার করতে পারেনি।  
মামলার বিরবণে ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মনজুর হোসেন আকঞ্জিকে গ্রেফতারের পর মরিচা-ভবানীপুর-চাকই চৌরাস্তা বাজারে স্থানীয় লোকজনের সামনে অভয়নগর থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন; তারা (আসামিরা) পরস্পর যোগসাজসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী নওয়াব আলীর কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এছাড়া মনজুর হোসেন আকঞ্জিসহ আসামিরা একই ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদার টাকা নেয়। পুলিশ এ সময় মনজুর হোসেন আকঞ্জির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে।   

অন্যদিকে ব্যবসায়ী শেখ নওয়াব আলীর মামলায় প্রায় ১৩দিন আগে মনজুর আকঞ্জি ও খোকন জামিনে বের হয়েছে। এরপর থেকে নড়াইল ও যশোরের সীমান্তের ১০ গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছেন। 

কে এই আকঞ্জিবাহিনীর প্রধান :
তার পুরো নাম-‘মনজুর হোসেন আকঞ্জি’। নড়াইল সদরের বিছালী ইউনিয়নের মধুরগাতী গ্রামের উকিল উদ্দিন আকঞ্জির ছেলে। পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোমিও বাহিনীর অন্যতম সহযোগী এই মনজুর আকঞ্জি। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত তিনটার দিকে নড়াইল সদরের কাড়ারবিল এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী রুম্মান হোসেন রোমিও (২৮) নিহত হয়। নিহত রোমিও নড়াইল সদরের মুধুরগাতি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। রোমিওর নামে খুন, ডাকাতিসহ নড়াইল, যশোর ও অভয়নগর থানায় ১৩টি মামলা ছিল। 

রোমিও নিহত হওয়ার পর বাহিনীপ্রধানের দায়িত্ব নেয় মনজুর হোসেন আকঞ্জি। এরপর থেকে এ এলাকায় আকঞ্জিবাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এ বাহিনীর সদস্যরা এলাকার দিনমজুর, ভ্যানচালক, নসিমন চালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। এছাড়া গরু, ছাগলসহ গবাদি পশু চুরিরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আকঞ্জিবাহিনীর অত্যাচার আরো বেড়ে যায় বলে জানান ভূক্তভোগীরা। তাদের অত্যাচারে অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আকঞ্জির সহযোগী হিসেবে কাজ করছে-মধুরগাতী গ্রামের হুমাউন মোল্যা ও শান্ত মোল্যাসহ অন্তত ২০জন। 

এলাকাবাসীর দাবি, আকঞ্জিবাহিনীর প্রধান মনজুর হোসেন আকঞ্জিসহ তার লোকজনকে কাঠোর ভাবে দমন করে আইনের আওতায় আনা হোক। এতে এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। তাদের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রক্ষা পাবেন সাধারণ মানুষ। 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভয়নগর থানার পরিদর্শক এস এম আকিকুল ইসলাম জানান, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যবসায়ী শেখ নওয়াব আলীর কাছে চাঁদা দাবি করার অপরাধে মনজুর হোসেন আকঞ্জি ও আজমল হোসেন খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। উজ্জ্বল রায় জেলা নড়াইল প্রতিনিধি।


No comments:

Post a Comment

Pages