কুতুবদিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ছোটনের প্রচেষ্টায় ৭ হাজার মানুষের পানীয় জলের ব্যবস্থা - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, February 11, 2020

কুতুবদিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ছোটনের প্রচেষ্টায় ৭ হাজার মানুষের পানীয় জলের ব্যবস্থা

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: উদ্দ্যেগ আর প্রচেষ্টায় চার গ্রামের ৭হাজার  মানুষের পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন । নিজস্ব তহবিল ও সরকারি তহবিলের অর্থায়নে প্রায় দুই কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করায় চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মহাখুশী। 
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের সদর ইউনিয়নের গোলদারপাড়া,নয়াপাড়া, সাইটপাড়া, উত্তর আজম কলোনী,দক্ষিণ আজম কলোনী গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ শত বছর ধরে পানীয় জলের অভাবে ছিল। সরকারি বেসরকারি উদ্দ্যেগে অর্ধশত গভীর অগভীর নলকূপ স্থাপন করে লবনাক্ত পানির সয়লাবের কারণে পানীয় জল সংকটে ছিল এলাকাবাসি।
 যার ফলে যুগ যুগ ধরে ঐ চার গ্রামের মানুষ উপজেলা সদর ও বিদ্যুৎ মার্কেট এলাকা থেকে গভীর নলকূপ থেকে ভ্যান গাড়ি ও কলসি যোগে পানীয় জল সংগ্রহ করে চাহিদা মিটাত। 
সম্প্রতি বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে  নির্বাচিত চেয়ারম্যান আ,ন,ম শহীদ উদ্দিন ছোটন নির্বাচনী প্রতিশ্রতি পালন করতে এ উদ্দ্যেগ হাতে নেন। বিগত এক মাস পূর্বে বিদ্যুৎ মার্কেট গোলদারপাড়া এলাকায় বড় আকারের গভীর নলকূল স্থাপন করে ঐ জায়গায় ব্যাপক আকারের পানির ট্যাংক তৈরী পূর্বক পাইপ লাইন করে গোলদারপাড়া, নয়াপাড়া, সাইটপাড়া, উত্তর আজম কলোনী,দক্ষিণ আজম কলোনী,কাজির ঘোনা এলাকায় ১০টি জনগুরুতপূর্ণ এলাকায় পানির কল দিয়ে খাওয়ার পানি সরবরাহ করে আসছে বলে বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান আ,ন,ম, শহীদ উদ্দিন ছোটন নিশ্চিত করেন। 
বড়ঘোপ ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সাহানা বেগম জানান, চেয়ারম্যান জনগণের নিকট দেয়া প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের লক্ষে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে পানীয় জল সরবরাহের প্রকল্প ফলপ্রসু হয়েছে। দীর্ঘ যুগ যুগ ধরে এ চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানীয় জলের অভাবে ছিল। এখন আর এ চার গ্রামের মানুষের পানীয় জলের অভাব নেই।
কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গোলদারপাড়া,সাইটপাড়া,নয়াপাড়া, কাজির ঘোনা,উত্তর আজম কলোনী, দক্ষিণ আজম কলোনী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানীয় জলের সংকটে ছিল। বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যানের উদ্দ্যেগে পানীয় জলের সংকট  সমাধান হয়েছে। এরকম কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর,কলস্যাঘোনা, বিন্দাপাড়া,লেমশীখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ লেমশীখালী এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানীয় জলেরর সংকটে রয়েছে। এসব এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থার কাজ চলছে বলে জানান। 
আজম কলোনী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু মুছা বলেন, গেল শতাব্দির ৬০দশকের দিকে বড়ঘোপ বাজারের পশ্চিমে সমুদ্রের ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়া মানুষকে সে সময়ের সরকার দ্বীপের পূর্ব পাশে ৩০.৬০ একর সরকারি খাস জায়গায় পূর্নবাসিত করে। এ গ্রামের নাম আজম কলোনী। সে সময় থেকে এ পর্যন্ত আজম কলোনী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানীয় জলের অভাবে ছিল। পুকুরের পানি ছিল এ গ্রামের মানুষের ব্যবহার এবং পানীয় জলের ভরসা। বর্তমানে এ গ্রামে স্থানীয় চেয়ারম্যান পানীয় জলের সুব্যবস্থা করে দেয়ায় পুরা গ্রামবাসী মহাখুশি। দূর-দূরান্ত থেকে খাওয়ার পানি আনতে গিয়ে কত মা বোনের ইজ্জত হারাতে হয়েছে তা বলা মুশকিল। 
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জিয়াউল হক মীর বলেন, বড়ঘোপ সদরে যে ওয়ার্ডে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে সে ওয়ার্ডে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি অফিস যথাক্রমে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস, রেঞ্জ অফিস, খাদ্য গুদাম, কোস্টগার্ড স্টেশন। এছাড়াও পিলট কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,আলহাজ আনওয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দুটি বে-সরকারি কেজি স্কুলের শতশত শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থানীয় জনগন ছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের অভাবে ছিল। বর্তমানে পানীয় জলের সু-ব্যবস্থা করায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরাও মহাখুশী। 
ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসাইন বলেন, প্রতি কলসি পানি ১০টাকা করে কিনে খাওয়া হতো। স্থানীয় চেয়ারম্যানের উদ্দ্যেগে বর্তমানে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা করায় তাদের এ খরচটা আর হচ্ছে না। এমনও সময় গেছে লোকের অভাবে পানি আনতে না পেরে পুকুরের পানিও খেতে হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Pages