গ্রাম হবে শহর সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে নড়াইলের কৃষকের লাঙ্গল গরু!! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, February 8, 2020

গ্রাম হবে শহর সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে নড়াইলের কৃষকের লাঙ্গল গরু!!

উজ্জ্বল নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ গ্রাম হবে শহর শেই সাথে নড়াইল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের লাঙ্গল গরু। এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে  যাচ্ছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এখন এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়ে না বললেই চলে। দিন বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে মানুষের জীবনধারা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে পাল্টে যাচ্ছে সব কিছুই। আধুনিকতার স্পর্শে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। উজ্জ্বল নড়াইল জেলা প্রতিনিধ জানান, তাইতো কাঠের লাঙ্গলের পরিবর্তে এসেছে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। চিরায়ত বাংলার রূপের সন্ধান করতে গেলে এই দুই কৃষি উপকরণের কথা যেমন অবশ্যই আসবে, তেমনি আসবে হালের গরুর কথাও। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে হাল চাষের পরিবর্তনে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করা হয়। থেকে কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হালচাষ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা লাঙ্গল কাঁধে এক জোড়া গরু/মহিষ নিয়ে বেরিয়ে যেত মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কৃষকের লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ, সঙ্গে ভাটিয়ালি-পল্লীগীতি গানের মধুর সুর মাতিয়ে রাখতো হাট-ঘাট ও মাঠ। কৃষাণীরা সাজিয়ে নিয়ে যেত সকালের খাবার পিয়াজ, কাঁচা মরিচ দিয়ে পান্তাভাত ও দুপুরে গরম ভাত। কৃষাণীদের সকালের পান্তাভাত নিয়ে যেতে দেরী করলে কৃষকেরা রসিকতার গান ধরতো ‘এতো বেলা হয় ভাবীজান পান্তা নাই মোর পেটে… রে…’। এটাই ছিল গ্রামবাংলার কৃষাণ-কৃষাণীর চিরা চারিত অভুতপূর্ব দৃশ্য। এক সময়  নড়াইল জেলার তিন টি উপজেলার ও চার টি, থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে, গ্রাম ও মহল্লা বাণিজ্যিক ভাবে কৃষক গরু পালন করতো হাল চাষ করার জন্য। আবার কিছু মানুষ গবাদিপশু দিয়ে হাল চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন। আবার অনেকে তিল, সরিষা, মাসকলাই, আলু চাষের জন্য ব্যবহার করত। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। আর এখন জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চলাচ্ছে চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদল করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে গরু দিয়ে হাল চাষ। কৃষক কায়জার রহমান, জানায়, আমরা ছোটবেলা থেকে হাল চাষের কাজ করতাম। আমাদের বাড়িতে সব সময় হাল চাষের বলদ গরু ১-২ জোড়া রেডি থাকত।

চাষের জন্য দরকার হতো ১ জোড়া বলদ, কাঠ লোহার তৈরি লাঙ্গল, জোয়াল, মই, পান্টি (বাঁশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি), গরুর মুখের লাগাম ইত্যাদি। আগে গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো। অনেক সময় গরুর গোবরের জৈব সার জমিতে পড়ত। এতে করে ক্ষেতে ফলন ভালো হতো। গরুর লাঙ্গল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০/৪৫ শতাংশ জমি চাষ করা সম্ভব। আধুনিক যন্ত্রপাতির থেকে গরুর লাঙ্গলের চাষ গভীর হয়। জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও ফসলের চাষাবাদ করতে সার, কীটনাশকের সাশ্রয় হয়। কষ্ট হলেও গরু দিয়ে হাল চাষ করতে খুব ভাল লাগত। এখন মনে পড়লেই কষ্ট হচ্ছে। ফিরে পাবনা আর সেই পুরনো দিনগুলো। এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। উজ্জ্বল নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।


No comments:

Post a Comment

Pages