চলে গেলেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, February 7, 2020

চলে গেলেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ||amarkhobor24.com

শিরোনামটা নিয়েছি নয়াদিগন্ত পত্রিকা থেকে।কয়েকদিন আগে একই শিরোনামের প্রতিবেদন তিনবার প্রকাশ করেছে নয়াদিগন্ত পত্রিকা।ভাবছিলাম সাঈদি সাহেবের মত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে কোন গ্রহে পাঠিয়ে ছাড়বে।কিন্তু ঘটল হিতে বিপরীত।তিনি স্বেচ্ছায় চলে গেলেন মালেশিয়ায়।কিন্তু রেখে গেলেন লাখ ভক্ত ও অনুসারী।তবে এভাবে চলে যাওয়াটা আমারও পছন্দ হয়নি।তিনি বলছেন,গবেষণার জন্য গেছেন।বহুদিন আগের ঘটনা যা আমরা ইংরেজিতে পড়েছি।জার্মানের হ্যামিলন নামক শহরে ইঁদুরের অাধিপত্য বেঁড়ে গিয়েছিল।চিন্তায় পড়ে যায় সেই শহরের মেয়র।সবাই যখন নগরভবনে টেনশন করছিল ঠিক সেই সময় এক নতুন লোকের আগমন ঘটে।যার হাতে ছিল বাঁশী আর কাধে একটি কাপড়ের থলে।সবাই তখন চমকে উঠে অদ্ভুত এই লোকটিকে দেখে।আগান্তুক বলল,আমি এই ঈঁদুর গুলো মারতে পারব।মেয়র তাকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিলেন।তিনি এমন এক বাঁশীর সুর দিলেন যাতে শহরের সব ঈঁদুর তার পিছু নেয়।ঐ বাঁশীওয়ালা বাঁশী বাঁজাকে বাঁজাতে ঈঁদুর নিয়ে গেলেন সাগরে।বাঁশীর সুরে পাগল হয়ে ঈঁদুর গুলো সাগরে ঝাপিয়ে পড়েছিল।এতে সব ঈঁদুর শেষ।ফিরে এসে মেয়রের কাছে পুরস্কার চাইলে মেয়র প্রতিশ্রুতি মত পুরস্কার না দিয়ে অর্ধেক দিতে চাইল।বাঁশীওয়ালা ঐ অর্ধেক না নিয়ে ক্ষোভে চলে যান।রাগের মাথায় ভিন্ন একটি সুর তুলেন বাঁশিতে। সুর শুনে শহরের সব শিশু কিশোর বাড়ি ছেড়ে বাঁশীওয়ালার পিছু নেয়।সেই বাঁশীওয়ালা আর ফিরে আসেনি।ঐসব শিশু কিশোরদেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।ইতিহাসে  সে হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা নামে পরিচিতি লাভ করে।
নয়াদিগন্তের শিরোনামের সাথে আজহারীর কিছুটা মিল আছে।তাঁর বাঁশীর সুরে কিশোর তরুণ পাগল হয়েছে ঈঁদুর আর হ্যামিলন শহরের শিশু কিশোরদের মত।তাঁর বাঁশীর সুরে জাহান্নামে যেতেও বাধা নেই বলে ঘোষণা দিয়েছে তাঁর বাঁশীর সুরে পাগল হওয়া কিছু তরুণ কিশোর।হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা শিশু কিশোর নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু আজহারীকে কাউকে নিয়ে যায়নি।হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা আর ফিরেনি কিন্তু আজহারী ফিরে আসবে ফের ভক্তদের কাছে।হ্যামিলনের বাঁশীর সুর ভালো ছিল।তাই বলে সুর শুনে ঈঁদুরের মত সাগরের পানিতে লাফ দিতে হবে কেন? সুন্দর বাঁশির সুর শুনে বাঁশীওয়ালা যা বলে তা করতে গেলে বিপদে পড়তে হবে  হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালার মত।আজহারী সাহেব একজন ভদ্র ও জনপ্রিয় বক্তা। সাম্প্রাতিক তাঁর কিছু ভুল ফতোয়া ও মাসায়ালার জন্য হক্কানি কওমী অালেম ওলামারা তাঁকে শোধরাতে বললেও তিনি তাতে কর্ণপাত না করে নিজ অবস্থানে অটল থাকে।ভুল তো হবে মানুষেরই।ভুল করা অপরাধ নয় বরং ভুলের উপর অটল থাকাটাই অপরাধ।হ্যামিলন শহরের আসা বাঁশীওয়ালা প্রতি জার্মানের তরুণ কিশোররা যেমন অন্ধ ভক্ত হয়েছিল ঠিক তেমনি আজহারীর কিছু অন্ধ ভক্ত তৈরি হয়েছে যারা কওমী অালেমদের জাত তুলে গালি দিতেও দ্বিধা করেনি।
তিনি এতটা বিতর্কিত হওয়ার মূল কারণ  জামায়াত শিবিরের কিছু উগ্র কর্মীদের অতি বাড়াবাড়ি।তাঁরা সাঈদিকে যেভাবে চাঁদে উঠিয়েছিল ঠিক তেমনি আজহারীকেও কোন গ্রহে পৌছাতে মোটেও ভুল করতনা।তাছাড়া সাম্প্রাতিক তাঁর বিতর্কিত বয়ানের কারণে গোয়েন্দাদের নজরে ছিলেন।হয়তো তিনি গ্রেপ্তারও হতেন।সেই সব কথা মাথায় রেখে ফের পাড়ি জমিয়েছে মালেশিয়ায়। তাঁকে যদি গ্রেপ্তারও করা হত তা হতো জামায়াত শিবিরের অতি বাড়াবাড়ির ফসল।কওমী অঙ্গনে বহু পন্ডিত ও আমলী আজহারী আছে।তারা তো কখনো মিজানুর রহমান আজহারীর মত তাদের আকাশে উঠাইনি।আমির হামজা,তারেক মনোয়ার যেন পাগলের প্রতিচ্ছবি। তাদের বয়ান শুনে জামায়াত শিবির।এমন ভুলভাল তথ্য উপাত্ত দিয়ে বয়ান করে যা ক্লাস ফাইভের ছেলেরাও দাঁত খেলিয়ে হাসে।কওমী অঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র আল্লামা মাহমুদুল হাসান আজহারী বড় মেধামী আলেম।কৈ কোন দিন তো তাঁকে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করেনি কওমী  অঙ্গনের কেউ।জামায়াতের হলেই বড় মুফাচ্ছির হয়ে যায়? আসলে বিষয়টি হলো জামায়াত কাটমোল্লা হলেও তাকে আল্লামা করে চাঁন্দে  পাঠিয়ে দেয়।হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালার মত রাগ করে না থেকে বিতর্ক পরিহার করে ফিরে আসবেন মাতৃভূমিতে। অতীতের সকল ভ্রান্তি পরিহার করে কোরআনের পথে দাওয়াত দিবেন এটাই প্রত্যাশা করছি।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages