সফলতার গল্প গুলো সাজিয়ে রাখি || amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, February 4, 2020

সফলতার গল্প গুলো সাজিয়ে রাখি || amarkhobor24.com

কথায় আছে,  রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে।জীবন সংসারের গ্লানি টানতে গিয়ে আমরা হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাই।বেঁচে থাকার আশা যখন ক্ষীণ হয়ে যায় তখন নতুন করে বাঁচার শক্তি হারিয়ে ফেলি।অমানিশার রজনী শেষেই পূর্বদিগন্তে উদিত হয় ঝলমলে রক্তিম সূর্য।সূর্যের আগমনে হারিয়ে যায় অমানিশার রজনী।মেঘ দেখে তুই করিস না ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে।এই ধরণীতে সুখ দুঃখ একটি অপরটির বিপরীতে অবস্থান করে।দুঃখের অনুপস্থিতি মানে সুখ আর সুখের অনুপস্থিতি মানেই দুঃখ।জীবন সংসারে সবাই সুখী হতে চাই কিন্তু সবার কপালে সুখ জুটেনা। কেউ হয় অর্থ বিত্তের মালিক, কেউ বা দিনে এনে দিনে খায়।কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেয়।সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয় যা মনের সাথে সম্পর্কিত।ধনীরা সবাই সুখী এ কথাটি শতভাগ সত্য নয়।টাকা দিয়ে সুখ ক্রয় করা যায়না।কেউ কুঁড়েঘরে দিনে এনে দিনে খেয়ে সুখে থাকে।কেউ  বা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েও সুখে থাকতে পারেনা।তবে যার যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার মাঝেই সুখ নিহিত।
বিশ্বের বিখ্যাত ধনী ব্যক্তি বিলগেস্টও যে সুখে আছে তা নয়।অর্থবিত্ত সুখ দিতে পারেনা।ইসলামের বিধি বিধান মেনে জীবন যাপন করার মাঝেও প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়।হতাশা মারাত্বক ব্যাধি যা মানুষকে সহজেই ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যায়।ব্যর্থ হলে ভেঙ্গে না পড়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ফের উঠে দাঁড়াতে হবে।কিন্তু সমাস্যা  হলো আমরা যা জানি তা মানি না।সবাই জানি কালি প্রসন্ন ঘোষের সেই পারিবনা কবিতাটি  কিন্তু মেনে চলি কয়জনে?

পারিবনা এ কথাটি বলিওনা আর
কেন পারিবনা তাহা ভাব একবার
একবর না  পারিলে দেখ শতবার

ঠিক সেই কবিতার শেষে বলা হয়েছে-
হাঁটিতে শিখেনা কেহ না খেয়ে আছাড়
জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতার
একবার না পারিলে দেখ শতবার।
মনে করেন আপনি ব্যর্থ হয়েছেন।তো সফল হওয়ার জন্য কি আবার চেষ্টা করেছেন? নিশ্চয়ই করেননি।অথচ স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুশ সাতবার চেষ্টা করেই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিলেন।প্রতিবেশি দেশের সাথে যুদ্ধে  পরাজিত হয়ে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেন একটি গুহার মধ্যে।হঠাৎ তিনি একটি মাঁকড়সার জাল দেখে কৌতুহলী হয়ে পড়েন।দেখলেন মাঁকড়সা জাল বেয়ে উপরের দিকে উঠার চেষ্টা করলেও বার বার পড়ে যাচ্ছে।বার বার পড়ে গেলেও মাঁকড়সাটি তার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।এভাবে সেই মাঁকড়াসাটি  ছয় বার পড়ে যায়।রাজা দেখলেন সাতবারের চেষ্টায় মাঁকড়সাটি সফল হয়।ইতোপূর্বে রাজা ছয়বার যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছিল কিন্তু মাঁকড়সার চেষ্টা দেখে রাজার মনে জোর আসে।ফের অনুপ্রাণিত হয়।নিজ দেশে গিয়ে নতুন করে সেনাদল গঠন করে ফের যুদ্ধ করে শত্রু দেশের সাথে।সপ্তমবারের চেষ্টায় রবার্ট ব্রুশও বিজয়ী হয়।

ব্যর্থতাই সফলতার মূলমন্ত্র ।ব্যর্থ হয়ে হাতগুঠিয়ে বসে থাকাটা বেকামী।ব্যর্থতা সফলতার মন্ত্র শিখায়।জীবনে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছে তাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাদের সফলতার মূলে রয়েছে নিরন্তন প্রচেষ্টা,অাত্মবিশ্বাস, অদম্য মনোবল।যারা এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তারা হাতগুঠিয়ে বসে থাকেনা।তাদের পথ চলা হয় দুর্বার।অন্য কেউ যে কাজটি পারেনি  সেটা আমিও পারবনা এমনটা ভাবা বোকামী।যারা চন্দ্র অভিযানে গেছে তাদের অনেকেই আহত ও নিহত হয়েছে।সে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে যারা চন্দ্র অভিযানে সফল হয়েছে তারা যদি বলত আমরাও সফল হবনা।আমরাও আহত নিহত হতে পারি সে ভয়ে চন্দ্র অভিযান থেকে বিরত থাকত তাহলে কি অাদৌ চন্দ্র অভিযান সফল হত? যারা এভারেস্ট জয় করেছে তারাও যদি ভাবত তাদের অাগে অনেকে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে নিহত হয়েছে সুতরাং তারাও নিহত হবে।সেই ভাবনা থেকে যদি এভারেস্ট অভিযান থেতে বিরত থাকত তাহলে আদৌ এভারেস্ট জয় করা সম্ভব হতোনা।অন্য কেউ পারেনি বলে আমিও পারবনা বিষয়টি এমন নয়।ইসলাম,দেশ,মানবতাও স্বাধীনতাে জন্য স্বপ্ন দেখা উচিত।তবে মনে রাখতে হবে,আত্মকেন্দ্রীক মানুষ জীবনে সফল হতে পারেনা।জাতীয় কবি কাজী নজরুল কেমন সাধনা করে বড় হয়েছেন তা সকলেরই জানা।ভারতর সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম বলতেন,রাতে ঘুমে যে স্বপ্ন দেখে সেট স্বপ্ন নয় বরং স্বপ্ন তো সেটা যা আপনাকে ঘুমাতে দেয়না।অলসরা সফল হয়না।পড়ে থাকে সবার পিছনে।গত ২০১৭ সালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেছিল পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে সে ট্রেন চালিয়ে যাবে।সে পারবে কিনা সেটা না ভেবে তার এত বড়স্বপ্ন দেখার মত সাহসের প্রশংসা করা উচিত।একই বছর আমেরিকার তেরো বছরের কিশোর উমর বলেছিল সে আমেরিকার মুসলিম প্রেসিডেন্ট হবে।স্বপ্ন দেখতে তো আর বাধা নেই। যে ছাত্রটি এ+ পাওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখে এবং সে অনুসারে পড়ালেখা করে সে এ+ না পেলেও এ গ্রেড পাবে সেটা আশা করা যায়।কিন্তু যে ছাত্র ছাত্রী পাস করার জন্য পড়বে সেসব ছাত্র ছাত্রীরা নির্ঘাত ফেল করবে।মনে রাখতে হবে,চাহিদা যত বড়, প্রাপ্তিও তত বড়।স্বপ্ন যত বড় প্রাপ্তিও তড় বড়।আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট গণতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রহাম লিংকন তার জীবনটা ছিল অবর্ণনীয় কষ্টের। পিতা ছিল একজন মুচি।মায়ের চিকিৎসা করার মত টাকা ছিলনা তাঁর।প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও তাকে মুচির ছেলে বলে কটুক্কি করেছিল।আমেরিকার আরেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা।ছোট বেলায় তাকে প্রশ্ন করেছিল - সে বড় হলে কি হবে? সহজ সরল ভাষায় উত্তর দিয়েছিল সে প্রেসিডেন্ট হবে।যেভাবেই হোক তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।তিনটা বাক্য মনে রাখতে পারলেই আপনি সফল হতে পারেবন।
( ক) ইনশাঅাল্লাহ আমি পারব
(খ) আমাকে পারতেই হবে
(গ) অসম্ভব বলতে কিছুই নেই

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages