ইসলামী আন্দোলনের সফলতায় সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজের এলার্জি || নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Tuesday, February 11, 2020

ইসলামী আন্দোলনের সফলতায় সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজের এলার্জি || নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com

রাজনৈতিক ডেস্কঃ রাজনীতিতে এখন আলোচিত নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রতিষ্টার ৩২ বছরে দলটি হাটি হাটি পা পা করে সম্মুখে এগিয়ে চলছে সফলতার সাথে সুকৌশলে।১৯৮৭ সালে মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম এর হাত ধরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নাম ধারণ করে জীর্ণশীর্ণ একটি কাফেলার জন্ম হয়।সেই কাফেলা আজ গণমানুষের অধিকার অাদায়ের জন্য কাজ করছে।প্রতিষ্টাতা আমির যেভাবে নীতি আদর্শ বিসর্জন বা জলাঞ্জলি দিয়ে কোন জোটে যায়নি ঠিক তেমনি বর্তমান আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমও নীতি আদর্শে অটল।আদর্শিক দৃঢ়তার কারণে দিন দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গণমানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।বিগত যত সিটি নির্বাচন হয়েছে রংপুর ছাড়া সব সিটি নির্বাচনে ভোটের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে দেশবাসীকে চমকে দিয়েছে দলটি।

আজ বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেনডেন্ট চ্যানেল সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন চমক শিরোনামে যে রিপোর্ট করেছে তার জন্য কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।উপস্থাপক শুরুতে বলছে একটি মৌলবাদী দলের এভাবে এগিয়ে আসাটাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অশনি সংকেত বলে মনে করছেন। আসলে বাংলাদেশে ইসলাম পন্থীদের সফলতা সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ ও বামপন্থীরা মেনে নিতে পারেনি,পারছে না এবং পারবেও না।কারণ ইসলাম শব্দটার প্রতি তাদের এলার্জি রয়েছে।এই সব সুশীল সমাজ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সফলতাকে সুনজরে দেখছে না বরং তাদের অন্তরজ্বালা  শুরু হয়েছে।৭ তারিখ দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকার রিপোর্ট ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতাসীন দলের অার্শীবাদপুষ্ট।ঘুরে ফিরে বুঝাতে চেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনুকূলে থেকে কাজ করছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় পত্রিকা ইত্তেফাকের রিপোর্ট ছিল মূলত স্ববিরোধী। যে রিপোর্ট এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর যুগ্নমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রিপোর্টার কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে পত্রিকার রিপোর্টটি ছিল স্ববিরোধী। রিপোর্ট বলা হয়েছে বড় ধরণের প্রচারণা না থাকলেও ভোটের অংকে তৃতীয় থাকায় জনমনে না প্রশ্ন উঠছে।আবার বলছে ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পোস্টারের চেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখার পোস্টার বেশি দেখা গেছে।একবার বলছে বড় ধরণের প্রচারণা হয়নি আবার বলছে নৌকা ধানের শীষের চেয়ে হাতপাখার পোস্টার বেশি।এটা মূলত পত্রিকাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গিয়ে নিলর্জ্জভাবে স্ববিরোধীতা করেছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দুই প্রার্থীর প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মত।দিন রাত নেতা কর্মীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছে।নিজেদের টাকা খরচ করে, নিজের খেয়ে পরে হাতপাখার প্রচারণায় অংশ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতা কর্মীরা।বিএনপি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় যেখানে টাকা দিয়ে ভাড়া করে লোক অানতে হয় সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা কর্মীরা নির্বাচনী ফান্ডে টাকা দেয়।দলের প্রতি  অগাধ ভালোবাসা থেকে দলের কর্মীরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হাতপাখার পক্ষে প্রচারণা চালায়া।আমি মনে করি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার মূলে রয়েছে দলীয় প্রধানের আদর্শিক দৃঢ়তা,অনুগত কর্মীবাহিনী এবং যুগোপযোগী, সৃজনশীল ও গণমুখী কর্মসূচি।

বামপন্থী সুশীল সমাজ কখনো চাইনি ইসলাম পন্থীদের এগিয়ে আসা।তা হোক রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিকভাবে।রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভোটের মাঠে বার বার চমক দেখাচ্ছে দলটি।রংপুর সিটি নির্বাচনের পরে চমকে উঠে সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ।তখন বলাবলি করছিল পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিল।নৌকা হয়েছিল দ্বিতীয়,ধানের শীষ ৩৫ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় আর হাতপাখা ২৪ হাজার ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছিল।বিএনপির মত এত বড় দলের কাছাকাছি ভোট পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।এরপর খুলনা সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পেয়েছিল মাত্র ১২ শত ভোট।সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখার প্রার্থী পেয়েছিল ১৪ হাজার প্লাস।মিডিয়ার বৈষম্যনীতি আর সুশীল সমাজের এলার্জির ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো দেশব্যাপি বিএনপি আওয়ামী লীগের মত পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নিয়মিত পালিত কর্মসূচির ২০% প্রচার করলেও এতদিনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কারো কাছে অপরিচিত থাকত না।ইলেকট্রনিক মিডিয়া আর প্রিন্ট মিডিয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে এক প্রকার দমিয়ে রেখেছে।স্বাধীনতা পরবর্তী অল্পসময়ে কোন দল এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতির মাঠে কাজ করছে।সাম্য, মানবিক মর্যাদা তারা ফিরিয়ে আনতে চায় যা স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রে ছিল।সাম্প্রাতিক বছর গুলোতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস,মাতৃভাষা দিবস গুলো যেভাবে পালন করছে তাতে বুঝা যায় দলটি গণমুখী রাজনীতির মাঠে অনেকটা এগিয়ে গেছে।দলের সিনিয়ে নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম জাতীয় দিবস গুলোতে যেভাবে শরীরে জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে রাজপথে মিছিল করে তাতে সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজকে চপেটাঘাত করার ন্যায়।যে সব বামপন্থী সুশীলরা আলেম ওলামা ও ইসলামী দলকে স্বাধীনতা বিরুধী বলে অাখ্যা দিত মুফতি ফয়জুল করিমের আচরণ তাদের গালে কষে চড় মারার মত হয়েছে।দিন দিন রাজনীতিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠার কারণে বামপন্থীদের যেমন ঘুম নেই তেমনি মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই।আজ নয় কাল দলটি সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিড়ে পৌঁছে যাবে লক্ষ্যপানে। দলটির জন্য রইল দোয়া ও শুভকামনা অন্তহীন।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages