আদর্শের লড়াইঃ তালেবান থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, February 29, 2020

আদর্শের লড়াইঃ তালেবান থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com

আদর্শচ্যুত না হলে যে বিজয় নিশ্চিত তা আফগানিস্তানের তালেবানদের দেখে বুঝতে পারলাম।বিশ্বের পরাশক্তি আমেরিকা কে নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়িয়েছে তালেবান।দীর্ঘ ১৯ বছর আফগানের তালেবান আমেরিকার সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করে বিজয় নিশ্চিত করলেন।গতকাল আমেরিকার সাথে শান্তি চুক্তি হয়েছে।১৪ মাসের মধ্যেই আফগান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যহার করে নিবে।এটা গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্য সুখবর বলা যায়।অাল্লাহ তায়ালা খাঁটি মুমিনদের যে বিজয়ের বার্তা কোরআনে পাকে দিয়েছেন যেন তারই নমুনা তালেবানদের মাধ্যমে দেখল বিশ্ববাসী।একটা সময় বাংলাদেশের আলেম ওলামা দাড়ি টুপি ওয়ালাদের তালেবান বলে কটুক্তি করত।তারা বুঝাতে চাইত তালেবান মানে জঙ্গি।বিশেষ করে বামপন্থী সুশীল সমাজ নামের ইসলাম বিদ্বেষীরা তালেবান কে জঙ্গি বলে কটুক্তি করত।গতকালের শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে বামপন্থীদের চপেটাঘাত করলেন তালেবানরা।এটা আদর্শের বিজয়।
আমি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আদর্শিক বিজয় দেখতে পাচ্ছি।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে  স্থান করে নিয়েছে।নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলটি সফলতার পানে ছুটছে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে।ক্ষমতার মোহে অাদর্শকে জলাঞ্জলি  দেয়নি দলটি।সাম্প্রাতিক নির্বাচন গুলোতে দলটির ফলাফলে বামপন্থীদের গাত্রদাহ যেমন শুরু হয়েছে তেমনি বিরুধী শিবিরেও চলছে না গুঞ্জন। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্টিত দলটি সংসদে কোন আসন আজ অব্দি পায়নি।তা স্বর্থেও দিন দিন দলটি এমন সফলতার অংক কষছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।কেউ বলছে দলটি জামায়াতের শূন্যতা পূরণ করছে আবার কেউ কেউ বলছে দলটি ক্ষমতাসীনদের সুনজরে থাকায় বিনা বাধায় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে।অাদর্শকে বিসর্জন না দেওয়া দলটির প্রতি ক্ষমতাসীনদের মদদতপুষ্ট বলে অভিযোগ আনা রাজনৈতিক অদূরদূর্শিতার নামান্তর। রাজনীতি সম্পর্কে যারা গভীর জ্ঞান রাখে তারা কখনো এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য বা অভিযোগ করতে পারেনা।এই অভিযোগ করার তিনটি কারণ দেখছি।প্রথমত,হিংসা থেকে বিরুধিতা,দ্বিতীয়ত হলো সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবংতৃতীয়ত হলো অজ্ঞতা থেকে বিরুধিতা।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি ক্ষমতাসীনদের মদদতপুষ্ট হয়ে থাকে তাহলে দলটি তো ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার কথা ছিল।তাহলে কেন তারা অাজ পর্যন্ত একটি আসনেও জিততে পারেনি? 

বিষয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোন জোটে নেই।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে বেশি চাপাচাপি করলে তারা বিএনপি জামায়াতের সাথে মিশে সরকারের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে।তাছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল।যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করছে।সুতরাং এক কথা স্পষ্ট যে রাজনৈতিক কৌশল রক্ষায় আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বেশি চাপাচাপি করে না।তার মানে এই নয় যে,আওয়ামী লীগের  সহযোগিতায় তারা রাজনীতি করছে।এটা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে আদর্শের দিক থেকে বিএনপি আওয়ামী লীগ ও জামায়াত কারো সাথে মিলেনা।আদর্শের ক্ষেত্রে চুল পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ দলটি।দলটি যদি আওয়ামী লীগের মদদতপুষ্ট হত তাহলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে কয়েকটি আসন দিয়ে দেওয়াটাই যৌক্তিক ছিল।আওয়ামী লীগ তা করেনি।২০১৪ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেকে নির্বাচনে যাওয়ার আহবান করেছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।দিয়েছিল মেঘা অফারও।কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আদর্শকে জলাঞ্জলী দেয়নি।আদর্শিক দৃঢ়তার ফলে তালেবানের ন্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একদিন বিজয় অর্জন করবে ইনশাঅাল্লাহ।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages