"অপ্রত্যাশিত" ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী || amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, February 17, 2020

"অপ্রত্যাশিত" ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী || amarkhobor24.com

সুনসান নীরবতা।বাইরে চাঁদের অালোয় অালোকিত পুরো ধরণী।দক্ষিণা শীতল হাওয়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যায়।এমন সময়  তাহসান পাশে থাকলে কতই না মজা হত? এমন হাজারো প্রশ্ন তাকে বারংবার আঘাতে অাঘাতে জর্জরিত করছে।এ ব্যথা দেখা যায় না,এ কথা বলা যায় না,এ ব্যথা ধরা যায় না।এ ব্যথা সহ্য করতে হয় চোখের অশ্রু বিসর্জনে।হঠাৎ ভাবনার রাজ্যে হারিয়ে যায় রিমি।কত রাত, কত দিন তাহসানের সাথে গল্পে কাটিয়েছে তার হিসেব নেই।আজ সবই যেন স্মৃতি হয়ে এক এক করে ভেসে উঠছে হৃদয়ের আয়নায়।চোখ দুটি বারণ মানছে না।চোখ আজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে খাদে পড়ে যাওয়া গাড়ির ন্যায়।হৃদয়টা হু হু করে কেঁদে উঠছে বিয়োগ বেদনায়।এভাবে অন্য জনের সাথে বিয়ে হয়ে যাবে ভাবতেই কষ্ট বুক ফেটে যাচ্ছে।হৃদয়ে যার নাম অঙ্কিত, যাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছে পাঁচটি বছর তাকে ছেড়ে জীবন সংসার করতে হবে অপরিচিত জনের সাথে তা মেনে নেওয়া  বড় যাতনার।বাড়ির লোকজন কমে গেছে। হয়তো ঘরে ফিরবে তার স্বামী। কিন্তু রিমি আজ কঠিন মুহুর্তে এসে দাঁড়িয়েছে।না পারছে বলতে,না পারছে সইতে।মা মারা যাওয়ার পর ব্যবসায়ী বাবার  কাছে বড় হয়েছে।তাহসানের কথা বললেও বাবা রাজি হয়নি।বাবার কথা রাখতে গিয়ে বাধ্য হয়ে বিয়েতে রাজি হয়েছে।এভাবে রাকিবের সাথে বিয়ে হয়ে যাবে তা কল্পনাও করেনি রিমি।

বাসর রজনীতে রিমি রাকিবকে সরাসরি  বলে দিয়েছে তাকে স্পর্শ না করতে।রাকিবও মেনে নিয়েছে।বিয়ের সব অানুষ্টানিকতা শেষে রাকিব বউ নিয়ে ফিরবে ঢাকায়।কাগজে কলমে বউ হলেও প্রকৃত বউ হতে পারেনি রিমি।বাসর রাতে যে বউ ডিবোর্স  চায় সে বউকে নিয়ে কতটা বিপাকে তা রাকিব ছাড়া কেউ জানেনা।বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাকিব চলে যায় ঢাকায়।রাকিব ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করে।বেতনও ভাল। নিজস্ব  বাড়ি করেছে বাড্ডায়।ঢাকায় গিয়ে দু'জনই আলাদা ঘরে থাকে।ডিবোর্সের জন্য উতলা হয়ে উঠে রিমি।রাবিকও বাবা মায়ের কথা রাখতে গিয়ে বিয়েতে রাজি হয়েছে।তার বিয়ে করার সাধ মিটেছে বহু আগে। আফসানাকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসত রাকিব।কিন্তু আফসানার বাবা মা রাজি ছিলনা বিধায় তাকে হারাতে হয়েছে।রাকিব আর রিমি একই ছাঁদের নিচে রাত যাপন করছে ঠিকই কিন্তু তাদের দু'জনের হৃদয়ে ভালোবাসার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে।বিরহের মাঝে কাটছে দিন রাত।এক একটি রাত যেন শেষ হতে চায়না।এভাবে কেটে যায় ছয় মাস।

হঠাৎ রাকিবের বাবা মা ঢাকায় বেড়াতে আসে।বাবা মা আসার খবরে তারা দু'জনই অভিনয় করে যাতে বাবা মা তাদের অমিল বুঝতে না পারে।ইতোমধ্যে তারা কোর্টে ডিবোর্সের আবেদন করেছে।আবেদন মঞ্জুর হলেই দু'জনই আলাদা হয়ে যাবে।বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে দুটি জীবন আজ বিপর্যয়ের পথে।দুটি কোমল হৃদয়ে যেন পাথর চাপা পড়েছে।চাপা কষ্টে কাটছে দিনাতিপাত। বাবা মায়ের সামনে তারা খুব সুন্দর অভিনয় করেছে।রিমি  শ্বশুর শ্বাশুড়ি কে আপন বাবা মায়ের ন্যায় সেবা যত্ন করেছে।
তারাও  ছেলের বউকে নিজের মেয়ের মত আদর করেছে।অাট দিন পর রাকিবের বাবা মা চলে যান।রাকিব রিমি কে বলে, তুমি বেশ ভালো অভিনয় করেছে।বাবা মা কে বুঝতেই দাওনি আমাদের মাঝে কোন অমিল আছে।তুমি কিন্তু ভালো অভিনয় করতে পারবে।সিনামায় যারা অভিনয় করে তাদের চেয়ে তুমি কোন অংশে কম নয়। রিমির চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।নীরবে অশ্রু বিসর্জন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।রাকিব পেছনে তাকাতেই দেখে সে কাঁদছে।রাকিব চোখের অশ্রু হাত দিয়ে মুছে দিতে চাইলেও থমকে দাঁড়ায়।বিয়ের এক বছর অতিবাহিত হলেও রাকিব বউ হিসেবে রিমিকে একটুও স্পর্শ করেনি।দিনের পর দিন কষ্ট সয়ে গেছে রাকিব।দু'জন মানব মানবী একই বাড়িতে থাকার পরও তাদের শারিরীক আর মানসিক মিলন না হওয়াটা বিস্ময়ের। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে তারা দু'জনের মাঝে কোন মিল ছিলনা।বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় তারা খুব সুখে।কিন্তু বাস্তবতা কতটা কঠিন তা তাদের না দেখলে বুঝা যাবেনা।

তুমি কাঁদছ কেন? ভেজা কণ্ঠে রাকিবের প্রশ্ন।রিমির কান্না আরো বেড়ে যায়।আজ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে তার। ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদতে কাঁদতে রাকিবকে জড়িয়ে ধরে।কান্না যেন থামছেই না তার।বহু কষ্টে রিমিকে শান্ত করে সে। রিমি বলে, আমি না বুঝে তোমাকে এত কষ্ট দিয়েছি।দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও।এ কথা বলেই,রিমি রাকিবের পায়ে লুটিয়ে পড়ে।বিয়ের আগে নামাজ রোজা না করলেও বিয়ের পর রাকিব নামাজ রোজা ছাড়েনি।রিমির অবহেলা আর কষ্ট থেকে বাঁচতে নামাজ শেষে কায়মানো বাক্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করত।মুনাজাতে অশ্রু গড়িয়ে পরত।আজ তার একটি বিষয়ে অবাক লাগছে।এক হুজুরের ওয়াজে ছিল যে যত জন বেপর্দা নারী পুরুষের সাথে বিবাহপূর্ব অবৈধ মেলামেশা করবে সে যাকে বিয়ে করবে সেও তার মত  হবে।এটাই নাকি আল্লাহর বিধান।সে কথা রাকিবের পূর্বে বিশ্বাস না হলেও এখন শতভাগ বিশ্বাস হচ্ছে।সে যেমন অন্য মেয়ের সাথে বিবাহ পূর্ব সম্পর্ক করেছিল ঠিক তেমনি রিমিও  তাহসানের সাথে সম্পর্ক করেছিল।সে রিমির আশা ছেড়েই দিয়েছিল।রিমিকে ডিবোর্স দেওয়ার পর আর কাউকে বিয়ে করবেনা বলেও সিন্ধান্ত নিয়েছিল।কিন্তু বিধাতার বিধান বুঝা বড় দায়।একেবারে অপ্রত্যাশি বিষয় আজ তার জীবনের গতি পাল্টে দিয়েছে।রিমিকে জড়িয়ে ধরে বলে তোমার স্থান পায়ে নয় বুকে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages