বিমানবাহী ছেলে মারলেন জন্মদাতা বাবাকে ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, February 9, 2020

বিমানবাহী ছেলে মারলেন জন্মদাতা বাবাকে ||amarkhobor24.com

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বর্তমান যুগে উচ্চ শিক্ষিত ছেলে মেয়েরাই বাবা মায়ের সাথে পশুসুলভ আচরণ করছে।শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলেও অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্টিত সন্তানের বাবারা নির্যাতনের শিকার।ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি, বিসিএস ক্যাডার ছেলে নির্যাতন করলেন বাবাকে,মাকে স্টেশনে রেখে পালালেন সন্তান।এমন হাজারো শিরোনাম পত্রিকার পাতায় আমরা দেখে আসছি।নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে সন্তানরা আজ বাবা মায়ের সাথে পশুর ন্যায় ব্যবহার করছে।তেমনি একটি ঘটনা ঘটল চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার পুকুরিয়া ইউনিয়নে।পুকুরিয়া ইউনিয়নের নতুন পাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ আজিজ।তিনি পেশায় দিন মজুর।তিন ছেলে আর দুই মেয়ে।বড় সন্তান আব্দুল মজিদ একটি এনজিও সংস্থার মাঠ কর্মীর আর মেজ সন্তান আব্দুর রশিদ বিমানবাহিনীতে চাকরি করে।

পঞ্চাশোর্ধ আজিজ দিন মজুরি কাজ করে স্ত্রী সন্তান ছাড়া একা একা দিনাতিপাত করছে।যখন সন্তানের উপার্জনে বসে বসে খাওয়ার কথা ঠিক তখনও তিনি দিন মজুরের কাজ করে। আব্দুল মজিদ আর অাব্দুর রশিদ দুই জনই বিবাহ করলেও বাবাকে একবার জানানোটাও কর্তব্য বলেও মনে করেনি।২০১২ সালে বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন আব্দুর রশিদ।এস এস সি পাস করেই যোগদান বিমানবাহিনীতে।এর পর থেকে সংসারে লেগে থাকে অশান্তি। আজিজের স্ত্রীর সাথে সামান্য মনোমালিন্য হলেই দুই সন্তান মায়ের পক্ষ নিয়ে বাবাকে নির্যাতন করে।এই কারণে বাবা কে বাড়িতে একা রেখেই মা কে নিয়ে পুকুরিয়া চৌমুহনীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে।ঐদিকে বাবা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।বাবাকে দেখার মত কেউ নেই।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে মোনাজাতে কেঁদে অশ্রুঝরায় মুহাম্মদ আজিজ।তাঁর ছেলে বয়সীদের দেখলে হাউমাউ করে দেখে উঠে।

গতকাল ৮ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ আজিজ তার পুরাতন বাড়ি উত্তর পুকুরিয়া যায়।উত্তর পুকুরিয়া থেকে ফেরার পথে রাস্তায় স্ত্রীর ছোট মেয়েকে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে যান।আবেগে স্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলে,তুমিই আমরা দুঃখ বুঝবে।আমি বাড়ি অর্ধাহারে আর অনাহারে থাকছি।চলো অতীতের সকল ভুল শোধরে নিয়ে আগের মত ভালো হয়ে যায়।এ কথা বলার পর তাঁর স্ত্রী তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে।তাৎক্ষিণ মেজ ছেলে বিমানবাহিনী আব্দুর রশিত কে ফোন করে ঐ জায়গায় আসতে বলতেই সে হাজির হয়।এলাকার প্রত্যক্ষ দর্শীলরা জানান,আব্দুর রশিদ এসে বাবাকে যা ইচ্ছা ব্যবহার করে।বাবা তাঁর প্রতিবাদ করতে চাইলে আব্দুর রশিদ( বিমানবাহিনী)  বাবাকে চড় থাপ্পড় মারে।এতে বৃদ্ধ বাবা পড়ে যায় রাস্তার দ্বারে।পড়ে গিয়ে  হাতে আর হাটুতে ব্যথা পান।পরে এলাকার লোকজন এসে ছেলে ও মায়ের হাত থেকে বাবাকে রক্ষা করেন।মুহাম্মদ আজিজ বলেন,এই দুই সন্তানদের নিজে না খেয়ে খাইয়েছি,নিজে না পড়ে  পড়িয়েছি অথচ আজ তাদের হাত মার খেতে হয়। দুই সন্তান ও স্ত্রীর নির্যাতনরর কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি অঝরধারায় কাঁদেন।এর আগে বড় ছেলে আব্দুল মজিদ বাবাকে বহুবার মেরেছে যা এলাকার লোকজন অবগত।

No comments:

Post a Comment

Pages