চৌহালীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, February 21, 2020

চৌহালীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার ||amarkhobor24

মোঃ ইমরান হোসেন (আপন) 
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। ফলে জাতীয 
দিবস গুলোতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিশু শিক্ষার্থীরা। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের 
শিক্ষার্থীরা শহীদদের সম্মান জানাতে পারছেন না। এমনকি শিশুশিক্ষার্থীরা মহানভাষা আন্দোলন ও 
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়,চৌহালী উপজেলায় ১৮টি 
মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৭টি দাখিল মাদ্রাসা. ৫টি কলেজ, ৪টি কারিগরি কলেজ, ৪টি ফাজিল 
মাদ্রাসা, ১২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি এবতেদায়ীসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষা 
প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উপজেলায় ২শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মাত্র ডজন খানেক শিক্ষা অঙ্গনে  শহীদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে ৩/৪টি শহীদ মিনারে সহীদদের সরণে পুস্পত্বক প্রদান করা 
হয়,বাকি মিনারগুলো অযত্নে অবহেলায় পরে আছে কারো নজর নেই। খোঁজ নিয়ে জানা 
গেছে, উপজেলা সদর চৌহালী সরকারি কলেজ, খামার বাড়ী ডিগ্রীকলেজ প্রাঙ্গনে শহিদ মিনার 
স্বচল থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে, সেগুলো রয়েছে অযত্নে অবহেলায়। ২১ 
ফেব্রয়ারী ২০২০ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয় সরকারি কলেজ 
মাঠ প্রাঙ্গনে। 
উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা অঙ্গনে ২১ শে ফেব্রয়ারী, ২৬শে মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, ২১ আগষ্ট সহ 
জাতীয় দিবস গুলোতে বন্ধ থাকে প্রতিষ্ঠান। ২/১টি শহীদ মিনারে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও 
সামাজিক সংগঠন তারা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। উপজেলার প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানের 
শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কিছুই 
বলতে পারে না। ঘুশুরিয়া সপ্রাবি শিক্ষার্থী মো, রকি বলেন, স্কুল আছে শহিদ মিনার নাই, তাই 
জাতীয় কোন দিবস সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। সুম্ভুদিয়া বহু মুখী উচচ বিদ্যালয়ের 
ছাত্রী মোছাঃ মারিয়া বলেন,বাঘুটিয়া ইউপি’র সুনামধন্য বিদ্যপিট সুম্ভুদিয়া উচচ 
বিদ্যালয়, শহিদ মিনার না থাকায় ভাষা আন্দোলন আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধ 
সম্পর্কে তেমন কিছুই বলতে পারি না। নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল যুগে আমরা শিক্ষা অঙ্গনে 
সরকারের কাছে শহিদ মিনার চাই।   উপজেলার সচেতন মহল জানান, আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা যুদ্ধে 
শহীদদের সম্মান শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান ও ছাত্র-
ছাত্রীদের এ ব্যাপারে সচেতন করা প্রয়োজন। এতে করে সবাই শহীদদের প্রতি যেমন সম্মান 
জানাতে পারবে, তেমনি শিক্ষার্থীরা জাতীয দিবসগুলোর তাৎপর্য বুঝতে পারবে। দেশের প্রত্যেক 
উপজেলায় মুক্তি যুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর ও প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান করা আবশ্যক। 
কারন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস জাতীয় দিবস ও শহীদ দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা 
জানাতে শহীদ মিনার দরকার। দিবস কি এবং এর তাৎপর্য কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে 
ধরতে উপজেলা পর্যায়ে জাদুঘর, প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান এবং শহীদদের নিয়ে 
আলোচনা অব্যাহত রাখা দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

No comments:

Post a Comment

Pages