চরমোনাই মাহফিলে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ, কাল আখেরি মোনাজাত ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, February 28, 2020

চরমোনাই মাহফিলে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ, কাল আখেরি মোনাজাত ||amarkhobor24

বিশেষ প্রতিবেদক / ও পারভেজ হোসাইন ময়দান থেকেঃ    
ঐতিহাসিক চরমোনাই  ময়দানে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল ২৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকাল ৯ টায় আখেরী মোনাজাতে এবারের মাহফিল সমাপ্ত হবে।    এবারের মাহফিল অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে।      
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী ) সকাল থেকেই জুমার নামাজের  জামাতে অংশ নিতে চরমোনাই   গোটা এলাকায়  মুসল্লিদের ঢল নামে।  বৃহৎ জামাতে শরিক হতে   আশপাশের সব জেলার অধিকাংশ   মুসল্লি এতে অংশ নেয়। সকাল থেকেই নদী পথে শত শত নৌকার বহর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকে।  সড়ক পথেও যানবাহনে এসেছে মানুষ।।

দিল্লিতে মুসলমানদের উপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন চলছে অবিলম্বে তা বন্ধ না হলে মোদিকে ঢাকায় আসতে দেয়া হবে না। মুজীববর্ষে সন্ত্রাসী মোদীর আগমন ঠেকাতে শান্তিকামী জণগণকে সাথে নিয়ে ঢাকা অবরোধ করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম।

বরিশালের চরমোনাইতে চলমান ঐতিহাসিক চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিলের ৩য় দিনে আজ শুক্রবার জুমআ পূর্ব আলোচনায় মুফতী ফয়জুল করীম আরও বলেন, দিল্লির কুৎসিত চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে স্পট হয়ে গেছে। সেখানে বেছে বেছে মুসলিম বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্নরকম হামলা চালাচ্ছে আরএসএস সদস্যরা। কিন্তু মোদী সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরব ভুমিকা পালন করছে।


 
মুফতী ফয়জুল করীম নরেন্দ্র মোদীকে কসাই আখ্যা দিয়ে বলেন, গুজরাটের কসাই মোদী এখন গোটা ভারতকে কসাইখানায় পরিনত করতে চায়। অকারণে মানুষ পুড়িয়ে মারার এই বর্বরতার ব্যাপারে মোদী সরকারের নিরবতা প্রমাণ করে তারা অসুস্থ ও বর্বর।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গোটা বিশ্বের মুসলিমরা এখন নির্যাতিত। এখন আর বসে থাকার সুযোগ নাই, তাওহীদবাদী সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।

নামাজ শুরুর আগে  ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও খালি জায়গায় অবস্থান নেয় মানুষ। এছাড়া অনেকেই লঞ্চের ছাদ  , নৌকা, গাড়ির ছাদে পাটি, পলিথিন, চট ও পত্রিকা বিছিয়ে নামাজে অংশ নেন।  আগে থেকেই ৫ টি বৃহৎ ময়দান কানায় কানায় ভরপুর ছিল।  শুক্রবার মানুষের জনস্রোত কয়েকগুণ বেড়ে যায়।           
জুমার আগে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেছেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।  জুমার খুতবা ও   ইমামতী করেন চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা  সৈয়দ  মোসাদ্দেক বিল্লাহ্ আল মাদানী।

চরমোনাই মাহফিলে এতো বিশাল পরিসরে এটা ই প্রথম জুমার জামাত বলে জানা গেছে। এবারের মাহফিলে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে মুসল্লিদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বছর চারটি মাঠে মুসল্লিদের নিয়ে মাহফিল হতো। গত বছর থেকে বাড়ানো হয়েছে পাঁচ নাম্বার মাঠ।এর পরেও মুসল্লীদের জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।  আশপাশের বাড়িঘরের উঠানে, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েই মাহফিল শুনছে মানুষ।              

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) ফজরের নামাজে একইসাথে পাঁচটি মাঠে জামাতের সংযোগ (ইত্তিসাল) এর মধ্য দিয়ে জুমার নামাজ অনুষ্ঠি হয়। ফলে জুমার জামাতে কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী রাস্তা থেকে একইসাথে পাঁচটি মাঠে জুমার জামাতে শরীক হয়। পাচটি মাঠ পূর্ণ হয়ে পাশ্ববর্তী বাড়িঘর, রাস্তাঘাট লোকে লোকারণ্য হতে দেখা গেছে।

বৃহত্তম এ জামাতে শরিক হতে পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে মুসল্লিদের ঢল নেমেছিল। ঘাটে লঞ্চ ভেড়ানোর জায়গা না থাকায় ছোট ছোট যন্ত্রচালিত নৌকায় মুসল্লিরা মাঠে এসেছেন।

নামাজে বরিশালের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

No comments:

Post a Comment

Pages