তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উৎসাহিত করতে হবে ||শফিকুল ইসলাম ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, February 13, 2020

তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উৎসাহিত করতে হবে ||শফিকুল ইসলাম ||amarkhobor24

বর্তমান কালে তরুন প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই দেশের প্রতি অনিহা খুজে পাওয়া যায়। তারা প্রায় সব ক্ষেত্রে দেশের বিপরীতে বিদেশকেই বেশি প্রধান্য দেয়। তাদের মধ্যে এই ধারনা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে , দেশে তৈরি পণ্যের চেয়ে বিদেশে তৈরি পণ্যের গুনগত মান ভালো।নতুন কোন প্রযুক্তি কারখানা গড়ে উঠলে সেটাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে কার্পন্য করে না। বিশ্বসেরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিদেশীদের আস্থা থাকলেও, আমাদের তরুনদের গতানুগতিক বিদেশি পন্য চাই। প্রযুক্তি পন্য উৎপাদনে এখন আমাদের দেশ ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে ।এই প্রযুক্তি পন্যের একটা বড় অংশ তরুনদের উদ্দেশ্য করে তৈরি করা হয় কিন্তু এখানেও দেশকে সহায়তার বদলে বিদেশকেই প্রাধান্য। শিক্ষা খাতের কথা তো অবর্নণীয় , বাংলাদেশে নাকি কোন মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই তাই ধনীর দুলালেরা বিদেশে গিয়ে পারি জমায়। আবার মধ্যবিত্তদের মধ্যে যারা এদেশের আবহাওয়ায় বেড়ে উঠে তারা এদেশের মধ্যে থাকে বটে কিন্তু হাহুতাশ করে । অথচ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন মেধাবিদের তৈরি করে দেয় তখন এই মেধাবীদেরকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা বা চাকরির ক্ষেত্র গুলি। আর আমাদের তরুনরাও বগল চাপরিয়ে তাদের ডাকে সাড়া দেয়। দেশ যে তাকে এত কিছু দেয় বিনিময়ে দেশকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে বিদেশে  যাওয়া ছাড়া আর কিছুই দেয়না । অর্থাৎ দেশকে সংস্কার করা , সমাজকে পরিবর্তন করা যে তার নৈতিক দায়িত্ব এটা সে বুঝতে চায়না। বর্তমানে বাংলা ভাষার সাথেও তাদের সম্পর্কের অবনতি লক্ষনীয়। অনেককেই দেখা যায় কথার মাঝে হঠাত করে একটা ইংরেজি শব্দ বলে সেটার বাংলা খুজতে থাকে , যদিও শব্দটার ভালো বাংলা আছে কিন্তু সে বাংলার বদলে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেয়া বা চর্চার কারনে অথবা বাংলাকে অবহেলার কারনে শব্দকে হারিয়ে ফেলে। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের দিকে যদি আমরা দৃষ্টি দেই তাহলে আমরা এটাই আবিষ্কার করতে পারি যে , তাদের দেশের এত সমৃদ্ধি ,সুনাম এবং গতিশীলতা অথবা নতুন নতুন উদ্ভাবন সবই তরুনদের হাত ধরে। তরুনদের দক্ষতা এবং মেধাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নতুন উদ্ভাবনিতেও কাজে লাগাচ্ছে। তবে আমাদের দেশের আরেকটি গুরুতর যে সমস্যা সেটি হচ্ছে আমরা তরুন দের নিয়ে কাজ করতে বেশি আগ্রহী নই। এই ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে জাতীয় ভাবে তরুনদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। কিছুদিন আগে পত্রিকায় একটা রিপোর্ট দেখলাম । আমাদের দেশের বহুজাতিক কোম্পানির বড় বড় পদ গুলোতে নাকি বিদেশীদের আনাগোনা বেশি। কারন হিসেবে তারা তরুনদের অদক্ষতাকে দায়ী করেছে। বিষয়টাকে একেবারে হালকা করে না দেখে গভীরভাবে দেখলে তাদের যুক্তি ফেলে দেয়ার মত নয় । আমাদের দেশের তরুন যারা উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করে তাদের বিদেশে ঠাই হয় এটা আগেই বলেছি । বাকি যারা দেশে থাকে তাদের অধিকাংশের দক্ষতা এবং যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। সংগত কারনেই দেশের একটা বড় অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের এই ছোট সোনার দেশকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তুলতে  তরুনদের ভূমিকা অপরিহার্য । দেশের প্রতি তাদের যে বিপরীত ধারনা বদ্ধমূল হয়েছে সেটাকে আর গাঢ় হতে দেয়া যাবেনা। প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে তরুণদেরকে উতসাহিত করতে হবে। দেশের প্রতি তাদের মনোযোগ বৃদ্ধির স্বার্থে সরকারকে যেকোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে । বর্তমান সরকার তরুনদের মেধাকে কাজে লাগানোর স্বার্থে কিছু উদ্যোগ গ্রহন করেছে যা প্রশংসার দাবী রাখে। দেশের প্রতি মনোযোগ ও ভালোবাসা সৃষ্টির লক্ষে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাদের কানে বাজাতে হবে । মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার বাণী তাদের শোনাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য তাদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। একটি স্বাধীন জাতি হয়ে পরনির্ভরতা কাটিয়ে স্ব-নির্ভিরতা অর্জনের দিক উন্মোচনের লক্ষে  প্রয়োজনীয় কর্মযজ্ঞ হাতে নিতে হবে। তরুনরা দেশের প্রতি মনোযোগী হয়ে দেশপ্রেমের অনুভূতি নিয়ে কাজ করলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের সারিতে নাম লেখাবে।

লেখক,
মোঃ শফিকুল ইসলাম নিয়ামত
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

No comments:

Post a Comment

Pages