সিটি নির্বাচনোত্তর প্রশ্ন বনাম রাজনৈতিক ভাবনা ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, February 5, 2020

সিটি নির্বাচনোত্তর প্রশ্ন বনাম রাজনৈতিক ভাবনা ||নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24

গত ১ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।দলকানা ইসির পক্ষাপাতি নির্বাচনে জনগনের কোন আগ্রহ ছিলনা।কেন্দ্র দখল,বিরোধী দলের এজেন্ডদের মেরে বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগের দুই মেয়র।এবারের নির্বাচনে দুই সিটিতে মোট ১৩ জন মেয়ের প্রার্থী ছিল।তবে প্রচার প্রচারণায় দেখা গেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের।এবার ঢাকার দুই সিটিতে হাতপাখার প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মত।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানবাজ কর্মীদের ত্যাগ ছিল প্রশংসা করার মত।ভোটের দিন রাতেই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জানাতে নির্বাচন কার্যালয়ে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর যুগ্নমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এর নেতৃত্বে দুই সিটি মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও আবদুর রহমান।
নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে  সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন গাজী আতাউর রহমান।উত্তর দেন বহু প্রশ্নের। পরে সিইসির সাথে বৈঠকে বসেন।প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার চোখে চোখ রেখে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন,আপনি সুষ্টু নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের পরে আমরা ভেবেছিলাম সিটি নির্বাচন কিছুটা সুষ্টু হবে কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।রাজনৈতিক দল গুলো ইভিএম এর বিরুধিতা করলেও আপনি ফের চাপিয়ে দিয়েছেন।সুতরাং আমরা চাইনা আপনি এই পদে থাকেন।ইজ্জত থাকতে পদত্যাগ করুন।গাজী আতাউর রহমান সেদিন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।একটা গণমুখী রাজনৈতিক দলের ঝানু রাজনীতিকের মত কথা বলেছেন গাজী আতাউর রহমান।দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

সিটি নির্বাচনের ফলাফল বিচারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তৃতীয় হয়েছে।ঢাকা উত্তর সিটিতে অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ হাতপাখায় পেছেন ২৮ হাজার ২০০ ভোট এবং দক্ষিণ সিটিতে আব্দুর রহমান হাতপাখায় পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫ শত ২৫ ভোট।সিটি নির্বাচনে শুরু থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করে আসছে হাতপাখার দুই প্রার্থী।বলা যায় নৌকা ধানের শীষের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা করেছে হাতপাখার প্রার্থীরা।মিডিয়ার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নৌকা আর ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রচার করলেও অন্যান্য দল তথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীদের প্রতি বেছে নিয়েছে বৈষম্যনীতি। প্রিন্ট মিডিয়া আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া হাতপাখার প্রচার প্রচারণার খবর প্রচার করেনি।যারা প্রচার করেছে তারা মূলত দায় এড়াতেই প্রচার করেছে।হাতপাখা যে ভোট পেয়েছে তা নিরেট দলটির জানবাজ কর্মীদের ভোট।সাধারণ মানুষের ভোট কোন দলের পক্ষে পড়েনি।কারণ সিটি নির্বাচনে দলীয় নেতা কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ ভোট দিতে আসেনি।সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারলে হাতপাখা চমক দেখাত সব চেয়ে বেশি।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাকে মোবারকবাদ জানায় সত্যটা জাতির সামনে তুলে ধরার জন্যে।ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল"জাপার পাঁচ গুন ভোট পেয়েছেন চরমোনাই পীরের প্রার্থী।সেই প্রতিবেদনে একটি বিষয় আমার খুব ভালো লেগেছে  তা হলো, জাতীয় পার্টির দক্ষিণের মেয়ের প্রার্থী সাইফুদ্দীন মিলনের সাক্ষাতকার।তিনি বলেন,নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির কারো অবস্থান ভালো নেই একমাত্র অবস্থান ভালো আছে চরমোনাই পীরের প্রার্থীর।অথচ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এর বক্তব্য ছিল হাস্যকর।তিনি বললেন,আওয়ামী লীগ,বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই তিন দলের চেয়ে জাপার অবস্থান ভালো।জাপা সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দল। অথচ জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুদ্দীন মিলন লাঙ্গল মার্কা যেখানে  সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছে সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখার প্রার্থী পেয়েছে ২৬ হাজার ৫ শত ২৫ ভোট।

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দীন মিলন বলেন,আমি পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি।তিনি বলেন, প্রার্থী না থাকলে দলই থাকেনা,ইজ্জতই থাকেনা।তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে প্রার্থী হয়েছি।অথচ রাঙ্গা এক দিনের জন্যেও খুঁজ খবর নেইনি,ফোনেও যোগাযোগ  করেনি।কেন্দ্রীয় কোন নেতা প্রচারে অংশ নেইনি।শুধু মাত্র চেয়ারম্যান জি এম কাদের কয়েকবার ফোন করে খবর নিয়েছেন।জাতীয় পার্টি যে আসলেই দেউলিয়া হয়ে গেছে তা ইত্তেফাক পত্রিকা কে দেওয়া লাঙ্গলের প্রার্থী সাইফুদ্দীন মিলনের  সাক্ষাতকার থেকে বুঝা যায়।আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সংসদে বিরোধী হলেও তৃণমূলে তাদের কোন কাজ নেই।এমন কি জেলা কমিটিও নেই জাতীয় পার্টির।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ে বহুগুন এগিয়ে গেছেন পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে মজবুত সংগঠন রয়েছে তাদের।শুধু তাই নয় তিনটি শক্তিশালী অঙ্গ সংগঠন রয়েছে যেগুলো মূল সংগঠনের ন্যায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে শক্তিশালী কমিটি রয়েছে।ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন।মূল দলের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে সংগঠন গুলো। এছাড়াও কাজ করছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম,আইনজীবী পরিষদ,মুক্তিযুদ্ধা পরিষদ,ইসলামী মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ।এছাড়াও  অরাজনৈতিক প্লার্টফরমে কাজ করছে ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষ ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত কমিটি রয়েছে।দলীয় কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিকহারে। দেশের বাইরে অন্তত ৬০ টি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে( আমিরের ভাষ্যমতে)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে দলটি যে চমক দেখিয়েছে তা ইতোপূর্বে আর কোন ইসলামী দল করে দেখাতে পারেনি।এমন কি জামায়েতী ইসলামীও কখন এই সাহস দেখাতে পারেনি।জামায়াত এত দূর আসার পেছনে কাজ করেছে ইসলাম।দলের নাম থেকে ইসলাম বাদ দিলে তারা আদৌ এত দূর আসতে পারত না।কারণ তাদের দল যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত ছিল।জামায়াত রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্টিত হওয়ার মূলে রয়েছে ইসলাম। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে কেউ সমর্থন করত না যদি নামের সাথে ইসলাস লাগানো না থাকত।তার মধ্যে অন্যতম কারণ জামায়াতের সাথে পাল্লা দেওয়ার মত এবং অাস্থা রাখার মত কোন ইসলামী দল না থাকা।  জামায়াত কে মানুষের ইসলামের স্বার্থে সমর্থন করেছিল।কিন্তু এখন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে আস্থার্জন করতে শুরু করেছে।গণমানুষের অধিকার নিয়ে তারা কথা বলছে।রাজনৈতিক অঙ্গনে বিকল্প শক্তি হিসেবে তৃণমূলে অাসন গেঁড়ে বসতে বেশি বেগ হতে হবেনা দলটিকে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ঘোষণা করেছে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ হাজার ২ শত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এবং৩৮ হাজার ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য প্রার্থী দিবে।যদি দলটি তা করতে পারে তাহলে অনেক শক্তভাবে তৃণমূলে অাসন গেঁড়ে বসবে শীঘ্রই। আর তা প্রভাব ফেলবে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। কোন উপায়ে যদি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্টু হয় তাহলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা আনবে দলটি।দলগতভাবে জাতীয় পার্টি ও জামায়াত কে ছাড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।দলটির এতদূর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে আমিরের আদর্শিক দৃঢ়তা,যুগোপযোগী, গণমূখী,গঠনমূলক ও সৃজনশীল কর্মসূচি ও অনুগত কর্মী।ক্ষমতার মোহে দলটি আদর্শ জলাজঞ্জলি দেয়নি এটাই দলটির বড় সফলতা।রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি তৃতীয় শক্তি হলেও দলটি বৈষম্যের শিকার।মিডিয়া তাদের প্রতি আগ্রহী নই।তবে আগ্রহী না হওয়া এক প্রকার ভাল।মিডিয়া অাগ্রহী হয়ে উঠলে দলটির উপর দমনপীড়ন নেমে আসতে পারে।সব কথার এক কথা দলটির আমির পীর সাহেব চরমোনাইর আদর্শিক দৃঢ়তা,দক্ষ নেতৃত্ব দলটিকে দিন দিন গণমানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages