বায়ান্ন- একাত্তর দুর্দমনীয় অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, February 20, 2020

বায়ান্ন- একাত্তর দুর্দমনীয় অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ||amarkhobor24

বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা।মায়ের মুখে প্রথম শিখেছি এই ভাষা। এটা আমার মাতৃভাষা।এই ভাষায় কথা বলি, লিখি গদ্য পদ্য ছড়া।পৃথিবীর ইতিহাসে কোন জাতি ভাষার জন্যে প্রাণ দিয়েছে এমন নজির নেই।কিন্তু বাঙালি জাতি তাদের মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছে।১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান দু,ভাগে বিভক্ত হয় পাকিস্তানেরর কায়েদে আজম মুহাম্মদ অালী জিন্নার দ্বি জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে।ভারত থেকে বিভক্ত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান সরকার উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করতে তৎপর হয়।পাকিস্তানেে অধীনে থাকা বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভাষা ছিল বাংলা।পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অাপত্তি থাকা স্বর্থেও ১৯৫২ সালে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন।মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নিবে তা বাঙালি জাতি মেনে নিতে পারেনি।সেদিন ছিল ১ লা ফাল্গুন। জারি করা হল ১৪৪ ধারা।বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে পরে বাংলার দামাল সন্তানরা। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল ঢাকা।মিছিল কে লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি বর্ষণ করে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী।মুহুর্তেই ঝরে পরে কিছু তাজা প্রাণ।রফিক,সালাম,বরকত,জাব্বারসহ অসংখ্য নাম না জানা দামাল সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ।১৯৫২ সালের চেতনা আমাদের ১৯৭১ সালে বিজয় এনে দিয়েছিল।১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন আন্দোলন,১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা।
কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের ভাষায়--
হয় ধান নয় প্রাণ এই শব্দে
 সারা দেশ দিশে হারা
একবার মরে ভুলে গেছে 
আজই মৃত্যুর ভয় তারা
সাবাস বাংলাদেশ!
এই পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার 
তবুও মাথা নোয়াবার নয়
আজ লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয় কো রক্তে রঙিন ধান
দেখবে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলাদেশের প্রাণ।

১৯৫২ সালের সংগ্রামের হাত ধরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিল বাংলাদেশ।পৃথিবীর ইতিহাসে এত ত্যাগ,এত রক্ত,এত প্রাণ ভাষার জন্যে,দেশের জন্য কেউ দিতে পারেনি।নজিরবিহীন ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সুজলা সুফলা,শস্য শ্যামলা রূপময় বাংলাদেশ।আমরা পেয়েছি পবিত্র একটি লাল সবুজের পতাকা।যে পতাকায় মিশে আছে শহিদের রক্ত।যে পতাকা বাঁচতে শিখায়,ভালোবাসতে শিখায়।যে পতাকা প্রয়োজনে জীবন দিতে শিখায়।পতাকার বুকে রয়েছে কালের শ্রেষ্ট বীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,রয়েছে মেজর জিয়াউর রহমান,শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক,তাজদ্দীন আহমদ,মাওলানা ভাষাণী,মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী,মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম,।এ মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে শহিদের অাত্মত্যাগের ইতিহাস।এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ আর কারো কাছে মাথা নোয়াবে না।আমরা রক্তে দিতে শিখেছি। তাই আমাদের দমানো কারোর ক্ষমতা নেই।

বাংলার দামাল ছেলেদের  তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের  মাতৃভাষা বাংলা।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় আমরা প্রাণের ভাষা বাংলাকে অবহেলা করছি।বাংলা ভাষার চর্চা যেখানে বাধ্যতামূলক করা উচিত সেখানে বাংলা বারো মাসের নাম শতকরা ৬০% লোকেও জানে কিনা সন্দেহ।এমন কি অনার্স মাস্টার্স করা লোকদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করলেও বলতে পারেনা আজ বাংলা মাসের কয় তারিখ বা বাংলা কোন মাস চলছে? শিক্ষা প্রতিষ্টান যেখানে বাংলা ভাষা চর্চার কথা সেখানে বসন্ত বরণ করা হয় হিন্দি গানে নেচে গেয়ে।জাতীয় দিবস গুলোতে চলে হিন্দি গানের নির্লজ্জতা।ইংরেজি বাংলার মিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছে অদ্ভুত এক ভাষা।১৯৮৭ সালে" ভাষা আইন" ৩ (১) ধারা অনুযায়ী সরকারী ও অাধা সরকারী অফিস আদালত ছাড়া অন্য সব প্রতিষ্টানে বাংলা ভাষার চর্চা করার কথা বলা হলেও তা আদৌ কার্যকর হয়নি।এখনো চালু হয়নি সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন।দোকান পাট অফিস অাদালতের সাইনবোর্ডে ইংরেজির দাপট বেড়েই চলছে।যারা দেশের হর্তাকর্তা তারাই বাংলা ভাষাকে পিছিয়ে রেখেছে।মাতৃভাষার চেয়ে ভিনদেশী ভাষা ইংরেজি বলতেই বেশি গর্ববোধ করে।দেশে বাংলা ভাষা চর্চার চেয়ে ইংরেজি ভাষা চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।ভিন্ন দেশী ভাষা চর্চা করা দোষের নয় তবে তা হোক বাংলা ভাষার পরে।বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করে ইংরেজি ভাষা চর্চা করা দেশ ও স্বাধীনতার সাথে চরম গাদ্দারী।এই দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে।মনে রাখা দরকার, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।যারা বাংলাদেশের খেয়ে পরে ভিনদেশের তাঁবেদারি করে তারা দেশদ্রোহি। কোন শত্রুকে পরোয়া করোনা বাংলাদেশ।এদেশের মানুষ ফের রক্ত দিবে, জীবন দিবে তবুও দেশ রক্ষা করবে ইনশাঅাল্লাহ।অান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শপথ নেওয়া উচিত বাংলা ভাষা চর্চা করার।সাথে সাথে ভিনদেশী তাঁবেদার আর শত্রুদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages